সহীহ বুখারী, ৪র্থ খন্ড, অধ্যায়-২৬, বিষয়:- ক্রয় ও বিক্রয় ।


পোস্ট করা হয়েছে:- মে ২৬ ২০১৬| পোস্টটি করেছেন:- |পোস্টটি পড়া হয়েছে:- 356বার
পোস্টটি শেয়ার করুণ

হাদীস নং-১৯১৯। আবূল ইয়ামান (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আপনারা বলে থাকেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বেশী বেশী হাদীস বর্ননা করে থাকে এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কি হল যে, তারা তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ননা করেননা? (কিন্তু ব্যাপার হল এই যে) আমার মুহাজির ভাইগন বাজারে কেনা-বেচায় ব্যাস্ত থাকতেন আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে (খেয়ে না খেয়ে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন (কাজের ব্যাস্ততায়) অনুপস্থিত থাকতেন, আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষন করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যাপৃত থাকতেন। আমি ছিলাম আসহাবে সুফফার মিসকীনদের এক মিসকীন। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষন করতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক বর্ননায় বললেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরন রাখতে পারবে। [. আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন] আমি আমার গায়ের চাঁদরখানা বিছিয়ে দিলাম, যতক্ষন না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সে কথার কিছুই ভুলিনি।

হাদীস নং-১৯২০। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমরা যখন মদিনায় আসি, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এবং সা’দ ইবনু রাবী’ (রাঃ) এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। পরে সা’দ ইবনু রাবী’ বললেন, আমি আনসারদের মাঝে অধিক ধন-সম্পত্তির অধিকারী। আমার অর্ধেক সম্পত্তি তোমাকে ভাগ করে দিচ্ছি এবং আমার উভয় স্ত্রীকে দেখে যাকে তোমার পছন্দ হয়, বল আমি তাকে তোমার জন্য পরিত্যাগ করব। যখন সে ইদ্দত পূর্ন করবে, তখন তুমি তাকে বিবাহ করে নিবে। আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই। বরং (আপনি বলুন) ব্যাবসা বানিজ্য করার মতো কোন বাজার আছি কি? তিনি বললেন, কায়নুকার বাজার আছে। পরের দিন আবদুর রাহমান (রাঃ) সে বাজারে গিয়ে পনীর ও ঘি (খরিদ করে) নিয়ে আসলেন। এরপর ক্রমাগত যাওয়া আসা করতে থাকেন। কিছুকাল পরে আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর কাপড়ে বিয়ের মেহেদী দেখা গেল। এতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কে? তিনি বললেন, জনৈকা আনসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কী পরিমান মোহর দিয়েছ? আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, খেজুরের এক আটি পরিমান স্বর্ন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।

হাদীস নং-১৯২১।আহমদ ইবনু ইউনুছ (রহঃ) . আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) মদিনায় আগমন করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা’দ ইবনু রাবী’ আনসারীর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। . সা’দ (রাঃ) ধনী ব্যাক্তি ছিলেন। তিনি . আবদুর রাহমান (রাঃ)-কে বললেন, আমি তোমার উদ্দেশ্যে আমার সম্পত্তি অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিতে চাই এবং তোমাকে বিবাহ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে বাজার দেখিয়ে দাও। তিনি বাজার হতে মুনাফা করে নিয়ে আসলেন পনীর ও ঘি। এভাবে কিছুকাল কাটালেন। একদিন তিনি এভাবে আসলেন যে, তাঁর গায়ে বিয়ের মেহেদীর রংয়ের চিহ্ন লেগে আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার। তিনি বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমি জনৈকা আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে কি দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের আটি পরিমান স্বর্ন। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।

হাদীস নং-১৯২২। . আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, উকায, মাজ্বীন্না ও যুল-মাজায (নামক স্থানে) জাহিলিয়্যাতের যুগে বাজার ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের পরে লোকেরা ঐ সকল বাজারে যেতে গুনাহ্ মনে করতে লাগল। ফলে (আল কুরআন মজীদের) আয়াত নাজিল হল: তোমাদের রবের অনুগ্রহ সন্ধানে তোমাদের কোন পাপ নেই। (২:১৯৮) ইবনু আব্বাস (রাঃ) (আয়াতের সংগে) হাজ্জের (হজ্জ) মওসুমে কথাটুকুও পড়লেন।

হাদীস নং-১৯২৩।মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না, আলী ইবনু আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর (রহঃ) . নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, উভয়ের মাঝে বহু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে। যে ব্যাক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ পরিত্যাগ করে, সে ব্যাক্তি যে বিষয়ে গুনাহ হওয়া সুস্পষ্ট, সে বিষয়ে অধিকতর পরিত্যাগকারী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যাক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ করতে দু:সাহস করে, সে ব্যাক্তির সুস্পষ্ট গুনাহের কাজে পতিত হবার যথেষ্ট আশংকা রয়েছে। গুনাহসমূহ মহান আল্লাহ্ তা’আলার সংরক্ষিত এলাকা, যে জানোয়ার সংরক্ষিত এলাকার চার পাশে চরতে থাকে, তার ঐ সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাদীস নং-১৯২৪। মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর (রহঃ) . উকবা ইবনু হারিছ (রাঃ) থেকে বর্নিত। একজন কালো মেয়েলোক এসে দাবী করল যে, সে তাদের উভয় (উকবা ও তার স্ত্রী-কে দুধপান করিয়েছে। তিনি এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ননা করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, কিভাবে? অথচ এমনটি বলা হয়ে গেছে। তার স্ত্রী ছিলেন আবূ ইহাব তামীমীর কন্যা।

হাদীস নং-১৯২৫। ইয়াহইয়া ইবনু কাযাআ (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, উতবা ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তার ভাই সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে ওসীয়ত করে যান যে, যাম’আর বাঁদীর গর্ভস্থিত পুত্র আমার ঔরসজাত, তুমি তাকে (ভ্রাতুষ্পুত্র রুপে) তোমার অধীনে নিয়ে আসবে। . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের কালে ঐ ছেলেটিকে . সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) নিয়ে নিলেন এবং বললেন, এ আমার ভাইয়ের পুত্র। তিনি আমাকে এর সম্পর্কে ওসীয়ত করে গেছেন। এদিকে যাম’আর পুত্র ‘আবদ দাবী করে যে, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পুত্র, তার [পিতার] শয্যা সঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহন করেছে। তারপর উভয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন। সা’দ বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , এ আমার ভাইয়ের পুত্র, সে এর ব্যাপারে আমাকে ওসীয়ত করে গেছে। এবং ‘আবদ ইবনু যাম’আ বললেন, আমার ভাই। আমার পিতার দাসীর পুত্র, তাঁর সঙ্গে শায়িনীর গর্ভে জন্মগ্রহন করেছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ‘আবদ ইবনু যাম’আ, এ ছেলেটি তোমার পাপ্য। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শয্যা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারী যে, বঞ্চিত সে। এরপর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিনী . সাওদা বিনত যাম’আ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি ঐ ছেলেটি থেকে পর্দা করবে। কারন তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সা’দৃশ্য দেখতে পান। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ছেলেটি আর . সাওদা (রাঃ)-কে দেখেনি।

হাদীস নং-১৯২৬। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) . আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পার্শ্বফলা বিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে (শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত) খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবেনা। কেননা তা প্রহারে মৃত। আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমি বিসমিল্লাহ্ পড়ে আমার (শিকারী) কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি। পরে তার সাথে শিকারের কাছে (অনেক সময়) অন্য কুকুর দেখতে পাই, যার উপর আমি বিসমিল্লাহ্ পড়িনি এবং আমি জানিনা যে, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বললেন, তুমি তা খাবেনা। তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ্ পড়েছ, অন্যটির উপর পড় নাই।

হাদীস নং-১৯২৭। কাবীসা (রহঃ) . আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, (একবার) পথ অতিক্রমকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ে থাকা একটি খেজুর দেখে বললেন, যদি এটা সা’দকার খেজুর বলে সন্দেহ না হতো, তবে আমি তা খেতাম। আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে হাম্মাম (রহঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমার বিছানায় পড়ে থাকা খেজুর আমি পাই।

হাদীস নং-১৯২৮। আবূ নু’আঈম (রহঃ) . আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচা (আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম) (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যাক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কালে তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গের কিছু হয়েছে বলে মনে হয়, এতে কি সে সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে দেবে? তিনি বলেন, না, যতক্ষন না সে আওয়াজ শুনে বা দুর্গন্ধ টের পায় অর্থাৎ নিশ্চিত হয়। ইবনু আবূ হাফসা (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ননা করেন, তুমি গন্ধ না পেলে অথবা আওয়াজ না শুনলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবেনা।

হাদীস নং-১৯২৯। আহমদ ইবনু মিকদাম ইজলী (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, কিছু সংখ্যক লোক বলল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , বহু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে, আমরা জানিনা, তারা বিসমিল্লাহ্ পড়ে যবেহ্ করেছিলো কিনা? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এর উপর মহান আল্লাহ্ তা’আলার নাম লও এবং তা খাও (ওয়াসওয়াসার শিকার হয়োনা)।

হাদীস নং-১৯৩০। তালক ইবনু গান্নাম (রহঃ) . জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম। তখন সিরিয়া হতে একটি ব্যাবসায়ী কাফেলা খাদ্য নিয়ে আগমন করল। লোকজন সকলেই সে দিকে চলে গেলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাত্র বারোজন থেকে গেলেন। এ প্রসঙ্গে নাযিল হল: যখন তারা দেখল ব্যাবসা ও কৌতুক তখন তারা সে দিকে ছুটে গেল।

হাদীস নং-১৯৩১। আদম (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্নিত, এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবেনা যে, সে কোথা থেকে অর্জন করল, হালাল থেকে না হারাম থেকে।

হাদীস নং-১৯৩২। আবূ আসিম (রহঃ) . মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি সোনা-এরুপার ব্যাবসা করতাম। এ সম্পর্কে আমি যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ফাযল ইবনু ইয়া’কুব (রহঃ) অন্য সনদে আবূল মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) কে সোনা-এরুপার ব্যাবসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ব্যাবসায়ী ছিলাম। আমরা তাঁকে সোনা-এরুপার ব্যাবসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, যদি হাতে হাতে (নগদ) হয়, তবে কোন দোষ নেই, আর যদি বাকী হয় তবে দুরস্ত নয়।

হাদীস নং-১৯৩৩। মুহাম্মাদ (রহঃ) . উবায়দুল্লাহ ইবনু উমায়র (রহঃ) থেকে বর্নিত যে, . আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) . উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, সম্ভবত: তিনি কোন কাজে ব্যাস্ত ছিলেন। তাই . আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) ফিরে আসেন। পরে . উমর (রাঃ) পেরেশান হয়ে বললেন, আমি কি আবদুল্লাহ ইবনু কায়েস (. আবূ মূসা আশআরীর নাম)-এর আওয়াজ শুনতে পাইনি? তাঁকে আসতে বলো। কেউ বলল, তিনি তো ফিরে চলে গেছেন। উমর (রাঃ) তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তিনি (উপস্থিত হয়ে) বললেন, আমাদের এরুপই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। . উমর (রাঃ) বললেন, তোমাকে এর উপর সাক্ষী পেশ করতে হবে। . আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) ফিরে গিয়ে আনসারদের এক মজলিসে পৌঁছে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-ই সাক্ষ্য দেবে। তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-কে নিয়ে গেলেন। তিনি [. উমর (রাঃ) (তার কাছ থেকে সে হাদীসটি শুনে)] বললেন, (কি আশ্চর্য) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ কি আমার কাছ থেকে গোপন রয়ে গেল? (আসল ব্যাপার হল) বাজারের ক্রয়-বিক্রয় অর্থাৎ ব্যাবসায়ের জন্য বের হওয়া আমাকে অনবহিত রেখেছে।

হাদীস নং-১৯৩৪। মুহাম্মাদ (রহঃ) . জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিত, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জুমআর দিন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম। এমন সময় এক বানিজ্যিক কাফেলা এসে হাযির হয়, তখন বারোজন লোক ছাড়া সকলেই কাফেলার দিক ছুটে যান। তখন এই আয়াত নাযিল হয়: যখন তারা দেখল ব্যাবসা ও কৌতুক, তখন তারা আপনাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল। (৬২:১০)

হাদীস নং-১৯৩৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন মহিলা তার ঘরের খাদ্য থেকে ফাসা’দর উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যায় করে তখন তার জন্য সাওয়াব রয়েছে তার খরচ করার, তার স্বামীর জন্য সাওয়াব রয়েছে তার উপার্জনের এবং সংরক্ষনকারীর জন্যও অনুরুপ রয়েছে। তাদের কারো কারনে কারোর সাওয়াব কিছুই কম হবেনা।

হাদীস নং-১৯৩৬। ইয়াহইয়া বিন জাফর (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন কোন মহিলা তার স্বামীর উপার্জন থেকে তার অনুমতি ছাড়াই ব্যায় করবে, তখন তার জন্য অর্ধেক সাওয়াব রয়েছে।

হাদীস নং-১৯৩৭। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইয়াকুব কিরমানী (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্নীয়ের সঙ্গে সদাচরন করে।

হাদীস নং-১৯৩৮। মুয়াল্লা ইবনু আসা’দ (রহঃ) . আমাশ (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন ইবরাহীম (রহঃ) এর কাছে বাকীতে ক্রয়ের জন্য বন্ধক রাখা সম্পর্কে আমরা আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বলেন, আসওয়াদ (রহঃ), . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে আমার কাছে বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইহুদীর নিকট থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে মূল্য পরিশোধের শর্তে খাদ্য ক্রয় করেন এবং তার নিকট নিজের লোহার বর্ম বন্ধক রাখেন।

হাদীস নং-১৯৩৯। মুসলিম ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাওশাব (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, একবার তিনি যবের আটা ও পুরোনো গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, মদিনায় অবস্থান কালে তাঁর বর্ম জনৈক ইহুদীর নিকট বন্ধক রেখে তিনি নিজ পরিবারের জন্য তার থেকে যব খরিদ করেন। [রাবী কাতাদা (রহঃ) বলেন] আমি তাঁকে [আনাস (রাঃ) কে] বলতে শুনেছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের কাছে এক সা’ পরিমান গম বা এক সা’ পরিমান আটাও থাকতোনা, অথচ সে সময় তাঁর নয়জন সহধর্মিনী ছিলেন।

হাদীস নং-১৯৪০। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন . আবূ বকর ছিদ্দিক (রাঃ) কে খলীফা বানানো হল, তখন তিনি বললেন, আমার কাওম জানে যে, আমার উপার্জন আমার পরিবারের ভরন পোষনে অপর্যাপ্ত ছিলোনা। কিন্তু এখন আমি জনগনের কাজে সার্বক্ষনিক ব্যাপৃত হয়ে গেছি। অতএব আবূ বকরের পরিবার এই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খাদ্য গ্রহন করবে এবং আবূ বকর (রাঃ) মুসলিম জনগনের সম্পদের তত্ত্বাবধান করবে।

হাদীস নং-১৯৪১। মুহাম্মাদ (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগন নিজেদের কাজ-কর্ম নিজেরা করতেন। ফলে তাদের শরীর থেকে ঘামের গন্ধ বের হতো। সেজন্য তাদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নাও (তবে ভালো হয়)। হাম্মাম (রহঃ) . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে হাদীসটি বর্ননা করেছেন।

হাদীস নং-১৯৪২। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) . মিকদাম (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিজ হাতে উপার্জিত জীবিকার খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায়না। মহান আল্লাহ্ তা’আলার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাউদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।

হাদীস নং-১৯৪৩। ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ননা করেন যে, মহান আল্লাহ্ তা’আলার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাউদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজ হাতে উপার্জন থেকেই খেতেন।

হাদীস নং-১৯৪৪। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো পক্ষে এক বোঝা লাকড়ী সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে নেওয়া উত্তম, কারো কাছে সাওয়াল করার চাইতে। (যার কাছে যাবে) সে দিতেও পারে অথবা নাও দিতে পারে।

হাদীস নং-১৯৪৫। ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) . যুবাইর ইবনু আওয়াম (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো পক্ষে তার রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করতে বের হওয়া তার সাওয়াল করা থেকে উত্তম। আবূ নুআঈম (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সাওয়াব ও ইবনু নুমাইর (রহঃ), হিশাম (রহঃ) এর মাধ্যমে তার পিতা থেকে হাদীসটি বর্ননা করেছেন।

হাদীস নং-১৯৪৬। আলী ইবনু আইয়্যাশ (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং পাওনা তাগাদায় নমর ব্যাবহার করে, মহান আল্লাহ্ তা’আলা তার উপর রহম করেন।

হাদীস নং-১৯৪৭। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) . হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তিগনের মধ্যে এক ব্যাক্তির রুহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন সচ্ছল ব্যাক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তার উপর পীড়াপীড়ি না করে। রাবী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাঁকে ক্ষমা করে দেন। আবূ মালিক (রহঃ) রিবঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) সূত্রে বর্ননা করেন, আমি সচ্ছল ব্যাক্তির ব্যাপারে সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্থকে অবকাশ দিতাম। শু’বা (রহঃ), আবদুল মালিক (রহঃ) থেকে অনুরুপ বর্ননা করেন। আবূ আওয়ানা (রহঃ), আবদুল মালিক (রহঃ) সূত্রে বর্ননা করেন, আমি সচ্ছলকে অবকাশ দিতাম এবং অভাবগ্রস্থকে মাফ করে দিতাম এবং নুআঈম ইবনু আবূ হিনদ (রহঃ), রিবঈ (রহঃ) সূত্রে বলেন, আমি সচ্ছল ব্যাক্তি থেকে গ্রহন করতাম এবং অভাবগ্রস্থকে ক্ষমা করে দিতাম।

হাদীস নং-১৯৪৮। হিশাম ইবনু আম্মার (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জনৈক ব্যাবসায়ী ঋন দিত। কোন অভাবগ্রস্থকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে মাফ করে দাও, হয়তো মহান আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের মাফ করে দিবেন। এর ফলে মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাকে মাফ করে দেন।

হাদীস নং-১৯৪৯। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) . হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষন পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষন তাদের ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত চলে যাবে।

হাদীস নং-১৯৫০।. নুআঈম (রহঃ) . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমাদের মিশ্রিত খেজুর দেওয়া হতো, আমরা তার দু’সা এক সা’-এর বিনিময়ে বিক্রি করতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক সা’ এর পরিবর্তে দু’সা এবং এক দিরহামের পরিবর্তে দু’দিরহাম বিক্রি করবেনা।

হাদীস নং-১৯৫১। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) . আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আবূ শুআইব নামক জনৈক আনসারী এসে তার কসাই গোলামকে বললেন, পাঁচ জনের উপযোগী খাবার তৈরী কর। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ পাঁচজনকে দাওয়াত করতে যাই। তাঁর চেহারায় আমি ক্ষুধার চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। তারপর সে লোক এসে দাওয়াত দিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকজন অতিরিক্ত এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আমাদের সঙ্গে এসেছে, তুমি ইচ্ছা করলে একে অনুমতি দিতে পার, আর তুমি যদি চাও সে ফিরে যাক, তবে সে ফিরে যাবে। সাহাবী বললেন, না, বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।

হাদীস নং-১৯৫২। বদল ইবনু মুহাব্বার (রহঃ) . হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষন বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষন ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে। যদি তাঁরা সত্য বলে ও যথাযথ অবস্থা বর্ননা করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি পন্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে ও মিথ্যা বলে, তবে ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত চলে যাবে।

হাদীস নং-১৯৫৩।. আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবেনা যে কিভাবে সে মাল অর্জন করল, হালাল থেকে নাকি হারাম থেকে।

হাদীস নং-১৯৫৪। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলি নাযিল হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মসজিদে পড়ে শোনালেন। তারপর মদের ব্যাবসা হারাম বলে ঘোষনা করেন।

হাদীস নং-১৯৫৫। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) . সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি যে, দু’ব্যাক্তি আমার নিকট এসে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছলাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যাক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানের লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায়, তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর খন্ড নিক্ষেপ করে তাকে স্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে স্বস্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি নদীতে (রক্তের) দেখেছেন, সে হল সুদখোর।

হাদীস নং-১৯৫৬। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) . আওন ইবনু আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্নিত, আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি এক গোলাম খরিদ করেন, যে শিঙ্গা লাগানোর কাজ করত। তিনি তার শিঙ্গার যন্ত্রপাতি সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন এবং তা ভেঙ্গে ফেলা হল। আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য এবং রক্তের মূল্য গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন, আর দেহে দাগ দেওয়া ও লওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। সুদ খাওয়া ও খাওয়ানো নিষেধ করেছেন আর ছবি অংকনকারীর উপর লা’নত করেছেন।

হাদীস নং-১৯৫৭। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মিথ্যা কসম পন্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বরকত নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

হাদীস নং-১৯৫৮। আমর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিত, এক ব্যাক্তি বাজারে পন্য আমদানী করে মহান আল্লাহ্ তা’আলার নামে কসম খেল যে, এর এতো দাম লাগানো হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তা কেউ বলেনি। এতে তার উদ্দেশ্য সে যেন কোন মুসলমানকে পন্যের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে আয়াত নাযিল হয়, যারা মহান আল্লাহ্ তা’আলার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছমূল্যে বিক্রি করে। (৩:৭৭)

হাদীস নং-১৯৫৯। আবদান (রহঃ) . হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বর্ননা করেন, . আলী (রাঃ) বলেছেন, (বদর যু্দ্ধের) গনীমতের মাল থেকে আমার অংশের একটি উটনী ছিল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুমস্ থেকে একটি উটনী আমাকে দান করলেন। যখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা . ফাতিমা (রাঃ) এর সঙ্গে বাসর রাত যাপনের ইচ্ছা করলাম, সে সময়ে আমি কায়নুকা গোত্রের একজন স্বর্নকারের সাথে এই চুক্তি করেছিলাম যে, সে আমার সঙ্গে (জংগলে) যাবে এবং ইযখির ঘাস বহন করে আনবে এবং তা স্বর্নকারদের নিকট বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা আমার বিবাহের ওয়ালীমার ব্যাবস্থা করব।

হাদীস নং-১৯৬০। ইসহাক (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা বিজয়ের দিন) বলেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা মক্কায় (রক্তপাত) হারাম করে দিয়েছেন। আমার আগেও কারো জন্য মক্কা হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল করা হবেনা্ আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু অংশে মক্কায় (রক্তপাত) হালাল হয়েছিল। মক্কার কোন ঘাস কাটা যাবেনা, কোন গাছ কাটা যাবেনা। কোন শিকারকে তাড়ানো যাবেনা। ঘোষনাকারী ব্যতীত কেউ মক্কার যমীনে পড়ে থাকা মাল উঠাতে পারবেনা। তখন . আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস, যা আমাদের স্বর্নকারদের ও আমাদের ঘরের ছাদের জন্য ব্যাবহৃত, তা ব্যতীত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। রাবী ইকরামা (রহঃ) বলেন, তুমি জানো শিকার তাড়ানোর অর্থ কি? তা হল, ছায়ায় অবস্থিত শিকারকে তাড়িয়ে তার স্থানে নিজে বসা। আবদুল ওহাব (রহঃ), খালিদ (রহঃ) সূত্রে বলেছেন, আমাদের স্বর্নকারদের জন্য ও আমাদের কবরের জন্য।

হাদীস নং-১৯৬১।. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) . খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। ‘আস ইবনু ওয়াইলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল, আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল, যতক্ষন তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অস্বীকার না করবে ততক্ষন আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিবনা। আমি বললাম, মহান আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাঁকে [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে] অস্বীকার করবোনা। সে বলল, আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শীগগীরই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। এ প্রসঙ্গে এই আয়াত নাযিল হল: তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততী দেওয়া হবেই (১৯:৭৭)।

হাদীস নং-১৯৬২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, এক দরজী খাবার তৈরী করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করলেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রুটি এবং সুরুয়া যাতে কদু ও গোশতের টুকরা ছিল, পেশ করলেন। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম যে, পেয়ালার পার্শ্ব থেকে তিনি কদুর টুকরা খোঁজ করে নিচ্ছেন। সেদিন থেকে আমি সর্বদা কদু ভালোবাসতে থাকি।

হাদীস নং-১৯৬৩। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) . সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, এক মহিলা একটি বুরদা আনলেন। সাহল (রাঃ) বললেন, তোমরা জানো বুরদা কি? তাকে বলা হয়, হ্যাঁ, তা হল এমন চাঁদর, যার পাড় বুনানো। মহিলা বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আপনাকে পরিধান করানোর জন্য আমি এটি নিজ হাতে বুনে নিয়ে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহন করলেন এবং তাঁর এর প্রয়োজন ছিল। তারপর তিনি তা তহবন্দরুপে পরিধান করে আমাদের সামনে এলেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্যে একজন বলে উঠলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তা আমাকে পরিধান করতে দিন। তিনি বললেন, আচ্ছা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষন মজলিসে বসে পরে ফিরে গেলেন। তারপর চাঁদরটি ভাঁজ করে সেই লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। লোকজন সে ব্যাক্তিকে বললেন, তুমি ভালো কাজ করনি, তুমি তাঁর [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর] কাছে চাঁদরটি চেয়ে ফেললে, অথচ তুমি জানো যে, তিনি কোন সাওয়ালকারীকে ফিরিয়ে দেননা। সে লোকটি বললেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, আমি চাঁদরটি এ জন্যই সাওয়াল করেছি যে, তা যাতে আমার মৃত্যুর পর আমার কাফন হয়। রাবী সাহল (রাঃ) বলেন, সেটি তার কাফন হয়েছিল।

হাদীস নং-১৯৬৪। কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) . আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্নিত, কিছু লোক সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) এর কাছে এসে মিম্বরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন আনসারী মহিলার [সাহল (রাঃ) যার নাম উল্লেখ করেছিলেন] কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তোমার সূত্রধর গোলামকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠ দিয়ে একটি মিম্বর তৈরি করে দেয়। লোকদের সাথে কথা বলার সময় যার উপর আমি বসতে পারি। সেই মহিলা তার গোলামকে গাবা নামক স্থানের কাঠ দিয়ে মিম্বর বানানোর নির্দেশ দিলেন। তারপর গোলামটি তা নিয়ে এলো এবং সেই মহিলা এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁর [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] নির্দেশক্রমে তা স্থাপন করা হল, পরে তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবেশন করলেন।

হাদীস নং-১৯৬৫।. খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত, একজন আনসারী মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস তৈরী করে দিবনা, যার উপর আপনি উপবেশন করবেন? কেননা, আমার একজন সূত্রধর গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি ইচ্ছা কর। বর্ননাকারী বলেন, তারপর সে মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য মিম্বর বানিয়ে দিলেন। যখন জুম’আর দিন হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মিম্বরের উপরে বসলেন। সে সময় যে খেঁজুর গাছের কান্ডের উপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে চিৎকার করে উঠল, যেন তা ফেটে পড়বে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে এসে তাকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। তখন সেটি ফোঁপাতে লাগল, যেমন ছোট শিশুকে চুপ করানোর সময় ফোঁপায়। অবশেষে তা স্থির হয়ে গেল। (রাবী বলেন) খেঁজুর কান্ডটি যে যিকির-নসীহত শুনত, তা হারানোর কারনে কেঁদেছিল।

হাদীস নং-১৯৬৬। ইউসুফ ইবনু ঈসা (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইহুদী থেকে বাকীতে খাদ্য ক্রয় করেন এবং নিজের লৌহ বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।

হাদীস নং-১৯৬৭। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত, এক যুদ্ধে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমার উটটি অত্যন্ত ধীরে চলছিল বরং চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং বললেন, জাবির? আমি বললাম, জী। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার অবস্থা কি? আমি বললাম, আমার উট আমাকে নিয়ে অত্যন্ত ধীরে চলছে এবং অক্ষম হয়ে পড়ছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গেছি। তখন তিনি নেমে চাবুক দিয়ে উটটিকে আঘাত করতে লাগলেন। তারপর বললেন, এবার আরোহন কর। আমি আরোহন করলাম। এরপর অবশ্য আমি উটটিকে এমন পেলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অগ্রসর হওয়ায় বাধা দিতে হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা। তিনি বললেন, তরুনী বিবাহ করলেনা কেন? তুমি তার সাথে হাসি-তামাসা এবং সে তোমার সাথে পূর্নভাবে হাসি-তামাসা করত। আমি বললাম, আমার কয়েকটি বোন রয়েছে, ফলে আমি এমন মহিলাকে বিবাহ করতে পছন্দ করলাম, যে তাদেরকে মিল-মহব্বতে রাখতে, তাদের পরিচর্যা করতে এবং তাদের উপর উত্তমরুপে কর্তৃত্ব করতে সক্ষম হয়। তিনি বললেন, শোন, তুমি তো বাড়ীতে পৌঁছবে? যখন তুমি পৌঁছবে তখন তুমি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে। তিনি বললেন, তোমার উটটি বিক্রি করবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তা এক উকীয়ার১ বিনিময়ে আমার নিকট থেকে কিনে নিলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আগে (মদিনায়) পৌঁছলেন এবং আমি (পরের দিন) ভোরে পৌঁছলাম। আমি মসজিদে নববীতে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দরজার সামনে পেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এখন এলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার উটটি রাখ এবং মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। আমি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তারপর তিনি বিলাল (রাঃ) কে উকীয়া ওযন করে আমাকে দিতে বললেন। বিলাল (রাঃ) ওযন করে দিলেন এবং আমার পক্ষে ঝুঁকিয়ে দিলেন। আমি রওনা হলাম। যখন আমি পিছন ফিরেছি তখন তিনি বললেন, জাবিরকে আমার কাছে ডাক। আমি ভাবলাম, এখন হয়তো উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। আর আমার কাছে এর চাইতে অপছন্দনীয় আর কিছুই ছিলোনা। তিনি বললেন তোমার উটটি নিয়ে যাও এবং তার মূল্যও তোমার। ১) এক উকীয়া সাধারনত: ৪০ দিরহাম সমান।

হাদীস নং-১৯৬৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, উকায, মাজানো্না ও যুল-মাজায জাহিলী যুগের বাজার ছিল, ইসলামের আবির্ভাবের পরে লোকেরা তথায় ব্যাবসা করা গুনাহের কাজ মনে করল। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেন: তোমাদের উপর কোন গুনাহ নাই (অর্থাৎ) হাজ্জের (হজ্জের) মওসুমে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এরুপ পড়েছেন।

হাদীস নং-১৯৬৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) বলেন, এখানে নাওওয়াস নামক এক ব্যাক্তি ছিল। তার নিকট অতি পিপাসা রোগে আক্রান্ত একটি উট ছিল। . ইবনু উমর (রাঃ) তার শরীকের কাছ থেকে সে উটটি কিনে নেন। পরে তার শরীক তার নিকট উপস্থিত হলে বলল, সে উটটি বিক্রি করে দিয়েছি। নাওওয়াস জিজ্ঞাসা করলেন, কার কাছে বিক্রি করেছ? সে বলল, এমন আকৃতির এক বৃদ্ধের কাছে। নাওওয়াস বলে উঠলেন, আরে কি সর্বনাশ? মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, তিনি তো ইবনু উমর (রাঃ) ছিলেন। এরপর নাওওয়াস তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, আমার শরীক আপনাকে চিনতে না পেরে আপনার কাছে একটি পিপাসাক্রান্ত উট বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, তবে উটটি নিয়ে যাও। সে যখন উটটি নিয়ে যেতে উদ্যত হল, তখন তিনি বললেন, রেখে দাও। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফায়সালায় সন্তুষ্ট যে, রোগে কোন সংক্রমন নেই। সুফয়ান (রহঃ), আমর (রহঃ) থেকে উক্ত হাদীসটি শুনেছেন।

হাদীস নং-১৯৭০। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) . আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হুনায়নের যু্দ্ধে গেলাম। তখন তিনি আমাকে একটি বর্ম দিয়েছিলেন। আমি সেটি বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা বনূ সালিমা গোত্রের এলাকায় অবস্থিত একটি বাগান খরিদ করি। এ ছিল ইসলাম গ্রহনের পর আমার প্রথম স্থাবর সম্পত্তি অর্জন।

হাদীস নং-১৯৭১। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) . আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরন মেশক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতার থেকে তুমি রেহাই পাবেনা। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রান পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর অথবা কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।

হাদীস নং-১৯৭২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, আবূ তায়বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিঙ্গা লাগালেন, তখন তিনি তাকে এক সা’ পরিমান খেজুর দিতে আদেশ করলেন এবং তার মালিককে তার দৈনিক পারিশ্রমিকের হার কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

হাদীস নং-১৯৭৩। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগালেন এবং যে তাঁকে শিঙ্গা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি তা হারাম হতো তবে তিনি তা দিতেন না।

হাদীস নং-১৯৭৪।. আদম (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রাঃ) এর নিকট একটি রেশমী চাঁদর পাঠিয়ে দেন, পরে তিনি তা তার [উমর (রাঃ) এর] গায়ে দেখতে পেয়ে বলেন, আমি তা তোমাকে এ জন্য দইনি যে, তুমি তা পরিধান করবে। অবশ্য তা তারাই পরিধান করে, যার (আখিরাতে) কোন অংশ নেই। আমি তো তা তোমার কাছে এজন্যই পাঠিয়েছি যে, তুমি তা দিয়ে উপকৃত হবে অর্থাৎ তা বিক্রি করবে।

হাদীস নং-১৯৭৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বর্ননা করেন যে, তিনি একটি ছবিযুক্ত বালিশ খরিদ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করলেননা। আমি তাঁর চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম। তখন বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমি মহান আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূল) -এর কাছে তাওবা করছি। আমি কি অপরাধ করেছি? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশের কী সমাচার? . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য খরিদ করেছি, যাতে আপনি হেলান দিয়ে বসতে পারেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবিওয়ালাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছিলে, তা জীবিত করো। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এ সব ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করেনা।

হাদীস নং-১৯৭৬। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বানু নাজ্জার, আমাকে তোমাদের বাগানের মূল্য বল। বাগানটিতে ঘরের ভাঙাচোরা অংশ ও খেঁজুর গাছ ছিল।

হাদীস নং-১৯৭৭। সাদাকা (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্নিত, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষন বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষন তাদের বেচা-কেনার ব্যাপারে উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। আর যদি খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হয় (তাহলে পরেও ইখতিয়ার থাকবে)। নাফি’ (রহঃ) বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) কোন পন্য ক্রয়ের পর তা পছন্দ হলে মালিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তেন। – খিয়ার অর্থ ইখতিয়ার, অধিকার স্বাধীনতা। যে কোন কাজ-কারবার ও লেন-দেনে উভয় পক্ষের স্বাধীনতা থাকা স্বত:সিদ্ধ কথা। ক্রয়-বিক্রয়ে সাধারনত: কয়েক ধরনের খিয়ার থকে। প্রথমত: ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাবে অপর পক্ষের গ্রহন করা না করার ইখতিয়ার, একে খিয়ারুল কবুল বলে। দ্বিতীয়ত: লাভ লোকসান সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্রয়-বিক্রয় কালীন শর্তারোপ করত: অবকাশের সুযোগ গ্রহন করা। অধিকাংশের মতে এটা তিন দিনের মেয়াদে হয়। এক খিয়ারুশ শরত বলে।

হাদীস নং-১৯৭৮। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) . হাকীম বিন হিযাম (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্নিত, তিনি বলেন যতক্ষন ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষন তাদের খিয়ারের অধিকার থাকবে। আহমদ (রহঃ) বাহয (রহঃ) সূত্রে অতিরিক্ত বর্ননা করেন যে, হাম্মাম (রহঃ) বলেন, আমি আবূ তাইয়্যাহ (রহঃ) কে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ ইবনু হারিছ যখন এই হাদীসটি আবূ খলীলকে বর্ননা করেন, তখন আমি তার সঙ্গে ছিলাম।

হাদীস নং-১৯৭৯। আবূ নু’মান (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের খিয়ার থাকবে অথবা এক পক্ষ অপর পক্ষকে বলবে, গ্রহন করে নাও। রাবী অনেক সময় বলেছেন, অথবা খিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলে।

হাদীস নং-১৯৮০। ইসহাক (রহঃ) . হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে ও (পন্যের দোষত্রুটি) যথাযথ বর্ননা করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে, আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও (দোষ) গোপন করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত বিনষ্ট হয়ে যাবে।

হাদীস নং-১৯৮১। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকের একে অপরের উপর ইখতিয়ার থাকবে, যতক্ষন তারা বিচ্ছিন্ন না হবে। তবে খিয়ার এর শর্তে ক্রয়-বিক্রয়ে (বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও ইখতিয়ার থাকবে)।

হাদীস নং-১৯৮২। কুতায়বা (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন দু’ব্যাক্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, তখন তাদের উভয়ে যতক্ষন বিচ্ছিন্ন না হবে অথবা একে-অপরকে ইখতিয়ার প্রদান না করবে, ততক্ষন তাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকবে। এভাবে তারা উভয়ে যদি ক্রয়-বিক্রয় করে তবে তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের কেউ যদি তা পরিত্যাগ না করে তবে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

হাদীস নং-১৯৮৩। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে যতক্ষন বিচ্ছিন্ন না হবে, ততক্ষন তাদের মাঝে কোন ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হবেনা। অবশ্য ইখতিয়ার এর শর্তে ক্রয়-বিক্রয় হলে তা সাব্যস্ত হবে।

হাদীস নং-১৯৮৪। ইসহাক (রহঃ) . হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে উভয়ের বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত। যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে এবং (পন্যের দোষগুন) যথাযথ বর্ননা করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দেওয়া হবে, আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং গোপন করে, তবে হয়ত খুব লাভ করবে কিন্তু তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত মুছে যাবে। অপর সনদে হাম্মাম আবদুল্লাহ ইবনু হারিছ (রহঃ) হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীসটি বর্ননা করেছেন।

হাদীস নং-১৯৮৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, এক সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, তাকে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা দেওয়া হয়। তখন তিনি বললেন, যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে তখন বলে নিবে কোন প্রকার ধোঁকা নেই।

হাদীস নং-১৯৮৬। মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (পরবর্তী যামানায়) একদল সৈন্য কা’বা (ধ্বংসের উদ্দেশ্যে) অভিযান চালাবে। যখন তারা বায়দা নামক স্থানে পৌঁছবে, তখন তাদের আগের-পিছের সকলকে যমীনে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। . আয়িশা ছিদ্দিকা বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অগ্রবাহিনী ও পশ্চাৎবাহিনী সকলকে কিভাবে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে, অথচ সে সেনাবাহিনীতে তাদের বাজারের (পন্য সামগ্রী বহনকারী) লোকও থাকবে এবং এমন লোকও থাকবে যারা তাদের দলভুক্ত নয়, তিনি বললেন, তাদের আগের-পিছের সকলকে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। তারপর (কিয়ামতের দিবসে) তাদের নিজেদের নিয়্যাত অনুযায়ী উত্থান করা হবে।

হাদীস নং-১৯৮৭। কুতায়বা (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো জামাআতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় নিজ ঘরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর চাইতে বিশ গুনেরও অধিক মর্তবা রয়েছে। কারন সে যখন উত্তমরুপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে মসজিদে আসে, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় ছাড়া অন্য কোন অভিপ্রায়ে আসেনা, সালাত (নামায/নামাজ) ছাড়া অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করেনা। এমতাবস্থায় তার প্রতি কদমে এক মর্তবা বৃদ্ধি করা হবে এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর ফেরেশতাগন তোমাদের সে ব্যাক্তির জন্য (এ মর্মে) দু’আ করতে থাকবেন, যতক্ষন সে যেখানে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে, সেখানে থাকবে: আয় মহান আল্লাহ্ তা’আলা, আপনি তার প্রতি অনুগ্রহ করুন, তার প্রতি রহম করুন। যতক্ষন না সে তথায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) ভঙ্গ করে, যতক্ষন না সে তথায় কাউকে কষ্ট দেয়। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের সে ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ) রত গন্য হবে, যতক্ষন সে সালাত (নামায/নামাজ)-এর অপেক্ষায় থাকে।

হাদীস নং-১৯৮৮। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় বাজারে ছিলেন। তখন এক ব্যাক্তি বললেন, হে আবূল কাসিম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালে তিনি বললেন, আমি তো তাকে ডেকেছি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ কিন্তু আমার কুনিয়াতে কুনিয়াত রেখোনা।

হাদীস নং-১৯৮৯। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) . আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, এক সাহাবী বাকী’ নামক স্থানে আবূল কাসিম বলে (কাউকে) ডাক দিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন। তিনি বললেন, আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করিনি। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখ কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখোনা। ১ ১) অধিকাংশ উলামার মতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় এ নিষেধাজ্ঞা ছিল, যাতে সম্বোধনের সময় ভুল ধারনা না হয়।

হাদীস নং-১৯৯০।. আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . আবূ হুরায়রা দাওসী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের এক অংশে বের হলেন, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। অবশেষে তিনি বানু কায়নুকা বাজারে এলেন। (সেখান থেকে ফিরে এসে) . ফাতিমা (রাঃ) এর ঘরের আঙিনায় বসে বললেন, এখানে খোকা [হাসান (রাঃ)] আছে কি? এখানে খোকা আছে কি? . ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে কিছুক্ষন দেরী করালেন। আমার ধারনা হল, তিনি তাঁকে পুতির মালা সোনা-এরুপার ছাড়া, যা বাচ্চাঁদের পরানো হতো, পরাচ্ছিলেন বা তাকে গোসল করালেন। তারপর তিনি দৌড়িয়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুমু খেলেন। তখন তিনি বললেন, আয় মহান আল্লাহ্ তা’আলা, তুমি তাঁকে (হাসানকে) মহব্বত কর এবং তাঁকে যে ভালবাসবে তাকেও মহব্বত কর। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমার কাছে উবায়দুল্লাহ বর্ননা করেছেন যে, তিনি নাফি ইবনু জুবায়রকে এক রাকাত মিলিয়ে বিতর আদায় করতে দেখেছেন।

হাদীস নং-১৯৯১।. ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে বানিজ্যিক দলের কাছ থেকে (পথিমধ্যে) খাদ্য খরিদ করতেন। সে কারনে খাদ্য-দ্রব্য বিক্রয়ের স্থানে তা স্থানান্তর করার আগে, বনিক দলের কাছ থেকে ক্রয়ের স্থলে বেচা-কেনা করতে নিষেধ করার জন্য তিনি তাদের কাছে লোক পাঠাতেন। রাবী বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) আরো বর্ননা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্নভাবে অধিকারে আনার আগে খরিদ করা পন্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-১৯৯২।. মুহাম্মাদ ইবনু সিনান (রহঃ) . আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) কে বললাম, আপনি আমাদের কাছে তাওরাতে বর্নিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গুনাবলী বর্ননা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা। মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, কুরআনে বর্নিত তাঁর কিছু গুনাবলী তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছে: হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে সাক্ষীরুপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রুপে প্রেরন করেছি এবং উম্মীদের রক্ষক হিসাবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (মহান আল্লাহ্ তা’আলার উপর ভরসাকারী) রেখেছি। তিনি মন্দ স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয়ের নন এবং বাজারে চীৎকারকারীও নন। তিনি অন্যায়কে অন্যায় দ্বারা প্রতিহত করেননা বরং মাফ করে দেন, ক্ষমা করে দেন। মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে ততক্ষন মৃত্যু দিবেননা, যতক্ষন না তাঁর দ্বারা বিকৃত মিল্লাতকে ঠিকপথে আনেন অর্থাৎ যতক্ষন না তারা (আরববাসীরা) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এর ঘোষনা দিবে। আর এ কালিমার মাধ্যমে অন্ধ-চক্ষু, বধির-কর্ন ও আচ্ছাদিত হৃদয় খুলে যাবে। আবদুল আযীয ইবনু আবূ সালামা (রহঃ) হিলাল (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ননায় ফুলাইহ (রহঃ) এর অনুসরন করেছেন। সাঈদ (রহঃ) ইবনু সালাম (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ননা করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, যে সকল বস্তু আবরনের মধ্যে থাকে, তাকে বলে। তার একবচন যেমন, বলা হয়, কোষবদ্ধ তরবারি। কোষবদ্ধ ধনুক। খাতনা না করা পুরুষ।

হাদীস নং-১৯৯৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি খাদ্য খরিদ করবে, সে তা পুরোপুরি আয়ত্ত্বে না এনে বিক্রি করবেনা।

হাদীস নং-১৯৯৪। আবদান (রহঃ) . জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, (আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু হারাম (রাঃ) ঋনী অবস্থায় মারা যান। পাওনাদারেরা যেন তাঁর কিছু ঋন ছেড়ে দেয়, এজন্য আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সাহায্য চাইলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে কিছু ঋন ছেড়ে দিতে বললে, তারা তা করলনা। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, যাও, তোমার প্রত্যেক ধরনের খেজুরকে আলাদা আলাদা কর রাখ। আজওয়া আলাদা এবং আযকা যায়দ আলাদা করে রাখ। পরে আমাকে খবর দিও। [জাবির (রাঃ) বলেন] আমি তা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খবর দিলাম। তিঁনি এসে খেজুরের (স্তুপ এর) উপরে বা তার মাঝখানে বসলেন। তারপর বললেন, পাওনাদারদের মেপে দাও। আমি তাদের মেপে দিতে লাগলাম, এমনকি তাদের পাওনা পুরোপুরী দিয়ে দিলাম। আর আমার খেজুর এরুপ থেকে গেল, যেন এ থেকে কিছুই কমেনি। ফিরাস (রহঃ) শা’বী (রহঃ) সূত্রে . জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ পর্যন্ত মেপে দিতে থাকলেন যে, তাদের ঋন পরিশোধ করে দিলেন। হিশাম (রহঃ) ওহাব (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন গাছ থেকে খেজুর কেটে নাও এবং পুরোপুরী আদায় করে দাও।

হাদীস নং-১৯৯৫। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) . মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের খাদ্য মেপে নিবে, তাতে তোমাদের জন্য বরকত হবে।

হাদীস নং-১৯৯৬। মূসা (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, . ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কাকে হারাম ঘোষনা করেছেন ও তার জন্য দু’আ করেছেন। আমি মদিনাকে হারাম ঘোষনা করেছি, যেমন ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কাকে হারাম ঘোষনা করেছেন এবং আমি মদিনার এক মুদ ও সা’ এর জন্য দুআ করেছি। যেমন . ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার জন্য দুআ করেছিলেন। ১) মাপের বিভিন্ন পরিমানের পাত্র বিশেষ। এক সা’ সাড়ে তিন সের সমান। মুদ এক সা’ এর চতুর্থাংশ।

হাদীস নং-১৯৯৭। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়া মহান আল্লাহ্ তা’আলা, আপনি তাদের মাপের পাত্রে বরকত দিন এবং তাদের সা’ ও মুদ-এ বরকত দিন অর্থাৎ মদিনাবাসীদের।

হাদীস নং-১৯৯৮।. ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, যারা অনুমানে (না মেপে) খাদ্য খরিদ করে নিজের স্থানে পৌঁছানোর আগেই বিক্রি করতো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে আমি দেখেছি যে, তাদেরকে প্রহার করা হতো।

হাদীস নং-১৯৯৯।. মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য (খরিদ করে) পুরোপুরী আয়ত্বে না এনে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। রাবী তাউস (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বললেন, এ এভাবে হয়ে থাকে যে, দিরহাম এর বিনিময়ে দিরহাম আদান-প্রদান হয়, অথচ পন্যদ্রব্য অনুপস্থিত থাকে। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আয়াতে বর্নিত অর্থ যারা মহান আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ পালনে বিলম্বিত করে।

হাদীস নং-২০০০।. আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খাদ্য খরিদ করে কেউ যেন তা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি না করে।

হাদীস নং-২০০১। আলী (রহঃ) . মালিক ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি ঘোষনা দিলেন যে, কে সারফ (দিরহাম এর বিনিময়ে দ্বীনার) এর বেচা-কেনা করবে? তালহা (রাঃ) বললেন, আমি করব। অবশ্য আমার পক্ষের বিনিময় প্রদানে আমার হিসাব রক্ষক গা’বা (এলাকা) থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত দেরী হবে। (বর্ননাকারী) সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমি যুহরী (রহঃ) থেকে এটুকু মনে রেখেছি, এর থেকে বেশী নয়। এরপর যুহরী (রহঃ) বলেন, মালিক ইবনু আওস (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি . উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ননা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, নগদ হাতে হাতে বিনিময় ছাড়া সোনার বদলে সোনা বিক্রি, গমের বদলে গম বিক্রি, খেজুরের বদলে খেজুর বিক্রি, যবের বদলে যব বিক্রি করা সুদ হিসাবে গন্য।

হাদীস নং-২০০২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন, তা হল অধিকারে আনার পূর্বে খাদ্য বিক্রয় করা। . ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি মনে করি, প্রত্যেক পন্যের ব্যাপারে অনুরুপ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।

হাদীস নং-২০০৩।. আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খাদ্য খরিদ করে পুরোপুরী মেপে না নিয়ে [রাবী ইসমাঈল (রহঃ) আরো বলেন, খাদ্যদ্রব্য খরিদ করে নিজের অধিকারে না এনে] কেউ যেন তা বিক্রি না করে।

হাদীস নং-২০০৪। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে দেখেছি যে, লোকেরা খাদ্য আনুমানিক পরিমানের ভিত্তিতে বেচা-কেনা করত, পরে তা সেখানেই নিজেদের ঘরে তুলে নেওয়ার আগেই বিক্রি করলে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হতো।

হাদীস নং-২০০৫। ফারওয়া ইবনু আবূল মাগরা (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, এমন দিন খুব কমই গিয়েছে, যে দিন সকালে বা বিকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার পিতা) আবূ বকর (রাঃ) এর ঘরে আসেননি। যখন তাঁকে (মহান আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ হতে) মদিনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, তখন তিনি একদিন দুপুরের সময় আগমন করায় আমরা শংকিত হয়ে পড়লাম। আবূ বকর (রাঃ) কে এ সংবাদ জানানো হলে তিনি বলে উঠলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ কোন ঘটনার কারনেই অসময়ে আগমন করেছেন। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন, তখন তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, যারা তোমার কাছে আছে তাদের সরিয়ে দাও। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , এরা তো আমার দুই কন্যা ‘আয়িশা ও আসমা’। তিনি বললেন, তুমি কি জানো, আমাকে তো বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আপনার সফর সঙ্গী হওয়া আমার কাম্য ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি আমার সফর সঙ্গী হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমার কাছে দুটি উটনী রয়েছে, যা আমি হিজরতের জন্য প্রস্তুত রেখেছি। এর একটি আপনি গ্রহন করুন। তিনি বললেন, আমি মূল্যের বিনিময়ে তা গ্রহন করলাম।

হাদীস নং-২০০৬। ইসমাঈল (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয় না করে।

হাদীস নং-২০০৭।. আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী কর্তৃক বিক্রয় করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং তোমরা প্রতারনামূলক দালালী করবেনা। কোন ব্যাক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। কোন মহিলা যেন তার বোনের (সতীনের) তালাকের দাবী না করে, যাতে সে তার পাত্রে যা কিছু আছে, তা নিজেই নিয়ে নেয়।

হাদীস নং-২০০৮। বিশর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, এক ব্যাক্তি তার মৃত্যুর পর তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষনা দিল। তারপর সে অভাবগ্রস্থ হয়ে পড়ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামটিকে নিয়ে নিলেন এবং বললেন, কে একে আমার নিকট থেকে খরিদ করবে? নুআঈম ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) (তাঁর কাছ থেকে) সেটি এত এত মূল্যে খরিদ করলেন। তিনি গোলামটি তার হাওলা করে দিলেন।

হাদীস নং-২০০৯। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারনামূলক দালালী থেকে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০১০। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভস্থিত বাচ্চার গর্ভের প্রসবের মেয়াদের উপর বিক্রি নিষেধ করেছেন। এ এক ধরনের বিক্রয়, যা জাহিলিয়াতের যুগে প্রচলিত ছিল। কেউ এ শর্তে উটনী ক্রয় করত যে, এই উটনীটি প্রসব করবে পরে ঐ শাবক তার গর্ভ প্রসব করার পর তার মূল্য দেওয়া হবে।

হাদীস নং-২০১১। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাবাযা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। তা হল, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা কাপড়টি উল্টানো-পেল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। আর তিনি মুলামাসা পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতেও নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হল কাপড়টি না দেখে স্পর্শ করা (এতেই বেচা-কেনা সম্পন্ন হয়েছে বলে গন্য হতো। )

হাদীস নং-২০১২। কুতায়বা (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, দুই ধরনের পোশাক পরিধান করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তা হলো একটি কাপড় শরীরে জড়িয়ে তার এক পার্শ্ব কাঁধের ‍উপর তুলে দেওয়া এবং দুই ধরনের বেচা-কেনা হতে নিষেধ করা হয়েছে, স্পর্শের এবং নিক্ষেপের বেচা-কেনা।

হাদীস নং-২০১৩। ইসমাঈল (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পর্শ ও নিক্ষেপের পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০১৪। আইয়্যাশ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) . আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ধরনের পোশাক পরিধান এবং স্পর্শ ও নিক্ষেপ এরুপ দু’ধরনের (পদ্ধতিতে) বেচা-কেনা নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০১৫। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা উটনী ও বকরীর দুধ (স্তন্যে) আটকিয়ে রেখোনা। যে ব্যাক্তি এরুপ পশু খরিদ করবে, সে দুধ দোহনের পরে দু’টি অধিকারের যেটি তার পক্ষে ভালো মনে করবে, তাই করতে পারবে। যদি সে ইচ্ছা করে তবে ক্রীত পশুটি রেখে দিবে আর যদি ইচ্ছা করে তবে তা ফিরত দিবে এবং এর সাথে এক সা’ পরিমান খেজুর দিবে। আবূ সালিহ মুজাহিদ, ওয়ালীদ ইবনু রাবাহ ও মূসা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এক সা’ খেজুরের কথা উল্লেখ রয়েছে। কেউ কেউ ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে এক সা’ খাদ্যের কথা বলেছেন্ এবং ক্রেতার জন্য তিন দিনের ইখতিয়ার থাকবে। আর কেউ কেউ ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে এক সা’ খেজুরের কথা বলেছেন, তবে তিন দিনের ইখতিয়ারের কথা উল্লেখ করেননি। (ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, অধিকাংশ বর্ননায় খেজুরের উল্লেখ রয়েছে)।

হাদীস নং-২০১৬। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি (স্তনে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী খরিদ করে তা ফেরত দিতে চায়, সে যেন এর সঙ্গে এক সা’ পরিমান খেজুরও দেয়। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পন্য খরিদ করার জন্য) বনিক দলের সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে পথিমধ্যে) সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০১৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (পন্যবাহী) কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাৎ করবেনা। তোমাদের কেউ যেন কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। তোমরা প্রতারনামূলক দালালী করবেনা। শহরবাসী তোমাদের কেউ যেন গ্রামবাসীদের পক্ষে বিক্রয় না করে। তোমরা বকরীর দুধ আটকিয়ে রাখবেনা। যে এরুপ বকরী খরিদ করবে, সে দুধ দোহনের পরে এ দু’টির মধ্যে যেটি ভালো মনে করবে, তা করতে পারে। সে যদি এতে সন্তুষ্ট হয়, তবে বকরী রেখে দিবে, আর যদি সে তা অপছন্দ করে তবে ফেরৎ দিবে এবং এক সা’ পরিমান খেজুর দিবে।

হাদীস নং-২০১৮। মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি (স্তনে) দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী খরিদ করে, তবে দোহনের পরে যদি ইচ্ছা করে তবে সেটি রেখে দেবে আর যদি অপছন্দ করে তবে দোহিত দুধের বিনিময়ে এক সা’ খেজুর দিবে।

হাদীস নং-২০১৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি বাঁদী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমানিত হয়, তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে, আর তিরস্কার করবেনা। তারপর যদি আবার ব্যভিচার করে তাকে বেত্রাঘাত করবে, তিরস্কার করবেনা। এরপর যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে তবে তাকে বিক্রি করে দিবে, যদি পশমের রশির (ন্যায় সামান্য বস্তুর) বিনিময়েও হয়।

হাদীস নং-২০২০। ইসমাঈল (রহঃ) . আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবিবাহিতা দাসী যদি ব্যভিচার করে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যদি সে ব্যভিচার করে, তবে তাকে বেত্রাঘাত কর। আবার যদি সে ব্যভিচার করে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর যদি ব্যভিচার করে তবে তাকে রশির বিনিময়ে হলেও বিক্রি করে দাও। রাবী ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, একথা তৃতীয় বারের না চতুর্থ বারের পর বলেছেন, তা আমার ঠিক জানানাই।

হাদীস নং-২০২১। আবূল ইয়ামান (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন তখন আমি তাঁর নিকট (বারীরা নাম্নী দাসীর খরিদ সংক্রান্ত ঘটনা) উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তুমি খরিদ কর এবং আযাদ করে দাও। কেননা, যে আযাদ করবে ওয়ালা (আযাদ সূত্রে উত্তরাধিকার) তারই। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিকালের দিকে (মসজিদে নববীতে) দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ্ তা’আলার যথাযথ প্রশংসা বর্ননা করে বললেন, লোকদের কী হল যে, তারা এরুপ শর্তারোপ করে, যা মহান আল্লাহ্ তা’আলার কিতাবে নেই। কোন ব্যাক্তি যদি এমন শর্তারোপ করে, যা মহান আল্লাহ্ তা’আলার কিতাবে নেই, তা বাতিল, যদিও সে শত শত শর্তারোপ করে। মহান আল্লাহ্ তা’আলার শর্তই সঠিক ও সুদৃঢ়।

হাদীস নং-২০২২। হাসসান ইবনু আবূ আব্বাদ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) বারীরার দরদাম করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ)-এর উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। যখন ফিরে আসেন তখন . আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তারা (মালিক পক্ষ) ওয়ালা (আযাদ সূত্রে উত্তরাধিকার) এর শর্ত ছাড়া বিক্রি করতে রাযী নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়ালা তো তারই, যে আযাদ করে। রাবী হাম্মাম (রহঃ) বলেন, আমি নাফি (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, বারীরার স্বামী আযাদ ছিল, না দাস? তিনি বললেন, আমি কি করে জানোব?

হাদীস নং-২০২৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . জারীর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলল্লাহ’–এ কথা সাক্ষ্য দেওয়ার, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার, আমীরের কথা শোনার ও মেনে চলার এবং প্রত্যেক মুসলমানের হিত কামনা করার উপর বায়আত করেছিলাম।

হাদীস নং-২০২৪। সালত ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পন্যবাহী কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে সস্তায় পন্য খরিদের উদ্দেশ্যে) সাক্ষাৎ করবেনা এবং শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে। রাবী তাউস (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে, [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর] একথার অর্থ কী? তিনি বললেন, তার হয়ে যেন সে প্রতারনামূলক দালালী না করে।

হাদীস নং-২০২৫। আবদুল্লাহ ইবনু সাব্বাহ্ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও এই মত পোষন করেছেন।

হাদীস নং-২০২৬। মক্কী ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের কেনা-বেচার উপরে খরিদ না করে। আর তোমরা প্রতারনামূলক দালালী করবেনা এবং শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রি না করে।

হাদীস নং-২০২৭। মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় করা থেকে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।

হাদীস নং-২০২৮। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, শহরে প্রবেশের পূর্বে বনিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীর বিক্রয় করা থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০২৯।. আইয়্যাশ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) . তাউস (রহঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী বিক্রয় করবেনা, এ উক্তির অর্থ্ কি, তা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তার পক্ষে দালালী করবেনা।

হাদীস নং-২০৩০। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, যে ব্যাক্তি স্তনে দুধ আটকিয়ে রাখা বকরী-গাভী বা উটনী খরিদ করে (তা ফেরত দিলে) সে যেন তার সাথে এক সা’(খেজুরও) ফেরত দেয়। তিনি আরো বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনিক দলের সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাৎ করতে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০৩১। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু ‍উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ কারো ক্রয়-বিক্রয়ের উপর যেন ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তোমরা পন্য ক্রয় করোনা তা বাজারে উপস্থাপিত না করা পর্যন্ত।

হাদীস নং-২০৩২। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) . আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমরা বনিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের থেকে খাদ্য খরিদ করতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যের বাজারে পৌঁছানোর পূর্বে আমাদের তা খরিদ করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ [বুখারী (রহঃ)] বলেন, তা হল বাজারের প্রান্ত সীমা। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) এর বর্নিত হাদীসে এ বর্ননা রয়েছে।

হাদীস নং-২০৩৩।. মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু ‍উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, লোকেরা বাজারের প্রান্ত সীমায় খাদ্য খরিদ করে সেখানেই বিক্রি করে দিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থানান্তর না করে সেখানেই বিক্রি করতে তাদের নিষেধ করলেন।

হাদীস নং-২০৩৪।. আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এসে বলল, আমি আমার মালিক পক্ষের সাথে নয় উকিয়া দেওয়ার শর্তে মুকাতাবা১ করেছি। প্রতি বছর যা থেকে এক উকিয়া২ করে দেওয়া হবে। আপনি (এ ব্যাপারে) আমাকে সাহায্য করুন। আমি বললাম, যদি তোমার মালিক পক্ষ পছন্দ করে যে, আমি তাদের একবারেই তা পরিশোধ করব এবং তোমার ওয়ালা (আযাদ সূত্রে উত্তরাধিকার) এর অধিকার আমার হবে, তবে আমি তা করব। তখন বারীরা (রাঃ) তার মালিকদের নিকট গেল এবং তাদের তা বলল। তারা তা অস্বীকার করল। বারীরা (রাঃ) তাদের নিকট থেকে (আমার কাছে) এলো। আর তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে বলল আপনার কথা তাদের কাছে পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার সংরক্ষন ছাড়া রাযী হয়নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনলেন, . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তা সবিস্তারে জানালেন। তিনি বললেন, তুমি তাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও। কেননা, ওয়ালা এর হক তারই, যে আযাদ করে। . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) তাই করলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসমুক্ষে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ্ তা’আলার হামদ ও সানা বর্ননা করলেন। তারপর বললেন, লোকদের কী হল যে, তারা এমন শর্ত আরোপ করে, যা মহান আল্লাহ্ তা’আলার বিধানে নেই। মহান আল্লাহ্ তা’আলার বিধানে যে শর্তের উল্লেখ নেই, তা বাতিল বলে গন্য হবে, শত শর্ত হলেও। মহান আল্লাহ্ তা’আলার ফায়সালাই সঠিক, মহান আল্লাহ্ তা’আলার শর্তই সুদৃঢ়। ওয়ালার হক তো তারই, যে আযাদ করে। ১) নিজের দাস-দাসীকে কোন কিছুর বিনিময়ে আযাদ করার চুক্তিকে মুকাতাবা বলে। ২) এক উকিয়া ৪০ দিরহাম পরিমান।

হাদীস নং-২০৩৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু ‍উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) একটি দাসী খরিদ করে তাকে আযাদ করার ইচ্ছা করেন। দাসীটির মালিক পক্ষ বলল, দাসীটি এ শর্তে বিক্রি করব যে, তার ওয়ালার (আযাদ সূত্রে উত্তরাধিকার) হক আমাদের থাকবে। তিনি একথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এতে তোমার বাধা হবেনা। কেননা, ওয়ালা তারই, যে আযাদ করে।

হাদীস নং-২০৩৬। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) . ‍উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাতে হাতে (নগদ নগদ) ছাড়া গমের বদলে গম বিক্রি করা সুদ, নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যব বিক্রয় করা সুদ, নগদ নগদ ব্যতীত খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রয় সুদ।

হাদীস নং-২০৩৭।. ইসমাঈল (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু ‍উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন। তিনি [ইবনু উমর (রাঃ)] বলেন, মুযাবানা হল তাজা খেজুর শুকনো খেজুরের বদলে ওজন করে বিক্রয় করা এবং কিসমিস তাজা আঙ্গুরের বদলে ওজন করে বিক্রি করা।

হাদীস নং-২০৩৮। আবূ নুমান (রহঃ) . ‍উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, মুযাবানা হল-শুকনো খেজুর তাজা খেজুরের বিনিময়ে ওযন করে বিক্রি করা, বেশি হলে তা আমার প্রাপ্য, কম হলে তা পূরন করা আমার দায়িত্ব। রাবী বলেন, আমাকে যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান করে আরায়া এর অনুমতি দিয়েছেন।

হাদীস নং-২০৩৯।. আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ‍মালিক ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি একবার এক দ্বীনারের বিনিময়ে সারফ১ এর জন্য লোক সন্ধান করছিলেন। তখন . তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাক দিলেন। আমরা বিনিময় দ্রব্যের পরিমান নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম। অবশেষে তিনি আমার সঙ্গে সারফ করতে রাযী হলেন এবং আমার থেকে স্বর্ন নিয়ে তার হাতে নাড়া-চাড়া করতে করতে বললেন, আমর খাযান্জী গাবা (নামক স্থান) হতে আসা পর্যন্ত (আমার জিনিস পেতে) দেরী করতে হবে। ঐ সময়ে . উমর (রাঃ) আমাদের কথা-বার্তা শুনছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, তার জিনিস গ্রহন না করা পর্যন্ত তুমি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারবেনা। কারন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নগদ নগদ না হলে স্বর্নের বদলে স্বর্নের বিক্রয় রিবা (সুদ) হবে। নগদ নগদ ছাড়া গমের বদলে গমের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যবের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ না হলে খেজুরের বদলে খেজুরের বিক্রয় রিবা হবে। ১) স্বর্ন-এরৌপ্যের পরস্পর ক্রয়-বিক্রয়কে সারফ বলে।

হাদীস নং-২০৪০।. সাদাকা ইবনু ফযল (রহঃ) . ‍ আবূ বাকরা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমান সমান ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রয় করবেনা। অনুরুপ রুপার বদলে ‍রুপা সমান সমান ছাড়া (বিক্রি করবেনা)। রুপার বদলে সোনা এবং সোনার বদলে রুপা তোমরা যেরুপ দাও, ক্রয়-বিক্রয় করতে পারো।

হাদীস নং-২০৪১। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা’দ (রহঃ) . ‍আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (. আবূ বাকরা (রাঃ) এর হাদীসের) অনুরুপ একটি হাদীস তাঁর কাছ বর্ননা করেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তাঁর [ আবূ সাঈদ (রহঃ) এর] সঙ্গে দেখা করে বললেন, হে আবূ সাঈদ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আপনি কী হাদীস বর্ননা করে থাকেন? আবূ সাঈদ (রাঃ) সারফ (মুদ্রার বিনিময়) সম্পর্কে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি যে, সোনার বদলে সোনার বিক্রয় সমান পরিমান হতে হবে। রুপার বদলে রুপার বিক্রয় সমান হতে হবে।

হাদীস নং-২০৪২।. আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমান পরিমান ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রি করবেনা, একটি অপরটি থেকে কম-বেশী করবেনা। সমান ছাড়া তোমরা রুপার বদলে রুপা বিক্রি করবেনা ও একটি অপরটি থেকে কমবেশী করবেনা। আর নগদ মুদ্রার বিনিময়ে বাকী মুদ্রা বিক্রি করবেনা।

হাদীস নং-২০৪৩। . আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . ‍ আবূ সালিহ যায়য়াত (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কে বলতে শুনলাম, দ্বীনারের বদলে দ্বীনার এবং দিরহামের বদলে দিরহাম (সমান সমান) বিক্রি করবে। এতে আমি তাঁকে বললাম, ইবনু আব্বাস (রাঃ) তো তা বলেননা? উত্তরে আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে [ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে] জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আপনি তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছেন, না মহান আল্লাহ্ তা’আলার কিতাবে পেয়েছেন? তিনি বললেন, এর কোনটি বলিনি। আপনারাই তো আমার চাইতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বেশী জানেন। অবশ্য আমাকে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) জানিয়েছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাকী বিক্রয় ব্যতীত রিবা হয়না, এ কথার অর্থ আমাদের মতে এই যে, সোনা-এরুপার বিনিময়ে, গম যবের বিনিময়ে কম-বেশী বেচাকেনা করাতে দোষ নেই, যদি নগদ নগদ হয়। কিন্তু বাকী বেচা-কেনাতে কোন মঙ্গল নেই।

হাদীস নং-২০৪৪। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) . ‍ আবূ মিনহাল (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি বারা ইবনু আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) কে সারফ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা উভয়ে (একে অপরের সম্পর্কে) বললেন, ইনি আমার চাইতে উত্তম। এরপর উভয়েই বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকীতে রুপার বিনিময়ে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০৪৫। ইমরান ইবনু মায়সারা (রহঃ) . ‍ আবূ বাকরা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমান সমান ছাড়া রুপার বদলে রুপার ক্রয়-বিক্রয় এবং সোনার বদলে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি রুপার বিনিময়ে সোনার বিক্রয়ে এবং সোনার বিনিময়ে রুপার বিক্রয়ে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী অনুমতি দিয়েছেন।

হাদীস নং-২০৪৬। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) . ‍আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উপযোগিতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা ফল বিক্রি করবেনা এবং শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবেনা। রাবী সালিম (রহঃ) বলেন, . আবদুল্লাহ (রাঃ) . যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে আমার কাছে বর্ননা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে তাজা বা শুকনো খেজুরের বিনিময়ে আরিয়্যা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। আরিয়্যা ব্যতীত অন্য কিছুতে এরুপ বিক্রির অনুমতি দেননি।

হাদীস নং-২০৪৭। . আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ‍আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন। মুযাবানার অর্থ হল মেপে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর এবং মেপে কিসমিসের বিনিময়ে আঙ্গুর ক্রয় করা।

হাদীস নং-২০৪৮। . আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ‍ আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ও মুহাকালা নিষেধ করেছেন। মুযাবানার অর্থ হল- শুকনো খেজুরের বিনিময়ে গাছের মাথায় অবস্থিত তাজা খেজুর ক্রয় করা।

হাদীস নং-২০৪৯।. মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . ‍ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা ও মুযাবানা নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০৫০।. আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) . ‍যায়দ ইবনু ছাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা এর মালিককে তা অনুমানে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছেন।

হাদীস নং-২০৫১। . ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) . ‍জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপযোগী হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (এবং এও বলেছেন যে) এর কিছুই দ্বীনার ও দিরহাম এর বিনিময় ব্যতীত বিক্রি করা যাবেনা, তবে আরায়্যার হুকুম এর ব্যতিক্রম।

হাদীস নং-২০৫২। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওহহাব (রহঃ) বলেন যে, আমি মালিকের কাছে শুনেছি, উবায়দুল্লাহ ইবনু রাবী (রহঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) সূত্রে . আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে দাউদ (রহঃ) এই হাদীস কি আপনার কাছে বর্ননা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ ওসাক (১) অথবা পাঁচ ওসাকের কম পরিমান আরিয়্যা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ১) এক ওসাক ৬০ সা’ পরিমান। আর এক সা’ ৩ সের ৯ ছটাক সমান।

হাদীস নং-২০৫৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . ‍সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন। তা হল তাজা ফল অনুমানে বিক্রি করা, যাতে (ক্রেতা) তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) আর একবার এভাবে বর্ননা করেছেন, অবশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, ফলের মালিক অনুমানে তাজা খেজুর বিক্রয় করে, যাতে তারা (ক্রেতাগন) তাজা খেজুর খেতে পারে। রাবী বলেন, এ কথা পূর্বের কথা একই এবং সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমি তরুন বয়সে (আমার উস্তাদ) . ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) কে বললাম, মক্কাবাসীগন তো বলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়্যা এর ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বললেন, মক্কাবাসীদের তা কিসে অবহিত করল? আমি বললাম, তারা জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করে থাকেন। এতে তিনি নীরব হয়ে গেলেন। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমার কথার মর্ম এই ছিল যে, জাবির (রাঃ) মদিনাবাসী। সুফিয়ান (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, এ হাদীসে এ কথাটুকু নাই যে, উপযোগিতা প্রকাশের আগে ফল বিক্রি নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, না।

হাদীস নং-২০৫৪। মুহাম্মাদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) . ‍যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরায়্যার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন যে, ওযন করা খেজুরের বদলে গাছের অনুমানকৃত খেজুর বিক্রি করা যেতে পারে। . মূসা ইবনু উকবা (রহঃ) বলেন, আরায়্যা বলা হয়, বাগানে এসে কতকগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর (শুকনো খেজুরের বদলে) খরিদ করে নেওয়া।

হাদীস নং-২০৫৫।. আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . ‍আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০৫৬।. ইবনু মুকাতিল (রহঃ) . ‍আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ফল পোখতা হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন অর্থাৎ লালচে হওয়ার আগে।

হাদীস নং-২০৫৭। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . ‍জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের রং পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। রাবী বলেন, অর্থাৎ লালচে বর্নের বা হলুদ বর্নের না হওয়া পর্যন্ত এবং তা খাওয়ার যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত।

হাদীস নং-২০৫৮।. আলী ইবনু হায়সাম (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের উপযোগিত প্রকাশ হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন এবং খেজুরের রং ধরার আগে (বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন) জিজ্ঞাসা করা হল, রং ধরার অর্থ কী? তিনি বলেন, লাল বর্ন বা হলুদ বর্ন ধারন করা। . আবূ আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, আমি মু’য়াল্লা ইবনু মনসুর (রহঃ) থেকে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছি। কিন্তু এ হাদীস তার থেকে লিখিনি।

হাদীস নং-২০৫৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারন করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞাসা করা হল, রং ধারন করা অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ন ধারন করা। পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, যদি মহান আল্লাহ্ তা’আলা ফল ধরা বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) নিবে? লাইস (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, কোন ব্যাক্তি যদি ফলের উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে তা খরিদ করে, পরে তাতে মড়ক দেখা দেয়, তবে যা নষ্ট হবে তা মালিকের উপর বর্তাবে। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমার কাছে সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ননা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উপযোগিতা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে তোমরা ফল খরিদ করবেনা এবং শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করবেনা।

হাদীস নং-২০৬০।. উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) . আমাশ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, ইবরাহীম (রহঃ) এর কাছে, বন্ধক রেখে বাকীতে ক্রয় করার ব্যাপারে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। এরপর তিনি আসওয়াদ (রহঃ) সূত্রে উম্মুল মু’মিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট মেয়াদে (মূল্য বাকী রেখে) জনৈক ইহুদীর নিকট থেকে খাদ্য খরিদ করেন এবং তাঁর বর্ম বন্ধক রাখেন।

হাদীস নং-২০৬১। কুতায়বা (রহঃ) . আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে খায়বারে তহসীলদার নিযুক্ত করেন। তিনি জানোীব নামক (উত্তম) খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের? সে বলল, না, মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , এরুপ নয়, বরং আমরা দুই সা’ এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা’ খেজুর নিয়ে থাকি এবং তিন সা’ এর পরিবর্তে এর দুই সা’। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরুপ করবেনা। বরং মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিরহাম দিয়ে জানোীব খেজুর খরিদ করবে।

হাদীস নং-২০৬২।. আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রাঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ তাবীর করার পরে খেজুর গাছ বিক্রি করলে বিক্রেতা সে ফলের মালিক থাকবে, অবশ্য ক্রেতা যদি (ফল লাভের) শর্ত করে, তবে সে পাবে।

হাদীস নং-২০৬৩। কুতায়বা (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা নিষেধ করেছেন, আর তা হল বাগানের ফল বিক্রয় করা। খেজুর হলে মেপে শুকনা খেজুরের বদলে, আঙ্গুর হলে মেপে কিসমিসের বদলে, আর ফসল হলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০৬৪। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি খেজুর গাছে তাবীর করার পরে মূল গাছ বিক্রি করল, সে গাছের ফল যে তাবীর করেছে তারই থাকবে, অবশ্য ক্রেতা যদি ফলের শর্ত করে (তবে সে পাবে)।

হাদীস নং-২০৬৫। ইসহাক ইবনু ওহাব (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা১, মুখাদ্বারা২, মুলামাসা, মুনাবাযা ও মুযাবানা নিষেধ করেছেন। ১) ওযন বা মাপকৃত ফসলের বদলে শীষে থাকাবস্থায় ফসল বিক্রি করা। ২) কাঁচা ফল শস্য বিক্রি করা।

হাদীস নং-২০৬৬। কুতায়বা (রহঃ) . আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাকার পূর্বে ফল বিক্রি নিষেধ করেছেন। (রাবী বলেন) আমরা আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ফল পাকার অর্থ কী? তিনি বললেন, লালচে বা হলদে হওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বলত, মহান আল্লাহ্ তা’আলা যদি ফল নষ্ট করে দেন, তবে কিসের বদলে তোমার ভাইয়ের মাল গ্রহন করবে?

হাদীস নং-২০৬৭।. আবূল ওয়ালীদ হিশাম ইবনু আবদুল মালিক (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, তিনি সে সময়ে খেজুরের মাথি খাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, গাছের মধ্যে এমনও গাছ আছে, যা মু’মিন ব্যাক্তির সদৃশ। আমি বলতে ইচ্ছা করলাম যে, তা হল খেজুর গাছ। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, আমি সকলের মাঝে বয়:কনিষ্ঠ (তাই লজ্জায় বলি নাই)। কেউ উত্তর না দেওয়ায়, তিনি বললেন, তা খেজুর গাছ।

হাদীস নং-২০৬৮। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আবূ তায়বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিঙ্গা লাগালেন। তিনি এক সা’ খেজুর দিতে বললেন এবং তার উপর থেকে দৈনিক আয়কর কমানোর জন্য তার মালিককে আদেশ দিলেন।

হাদীস নং-২০৬৯।. আবূ নাঈম (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, মুআবিয়া (রাঃ) এর মা হিন্দ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) একজন কৃপন ব্যাক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল থেকে গোপনে কিছু গ্রহন করি, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজনানুসারে যথাযথভাবে গ্রহন করতে পার।

হাদীস নং-২০৭০।. ইসহাক ও মুহাম্মাদ ইবনু সালাম (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, কুরআনের আয়াত : যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্থ সে যেন সঙ্গত পরিমানে ভোগ করে (৪:৬)। ইয়াতীমের ঐ অভিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ন হয়ে, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তা থেকে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।

হাদীস নং-২০৭১। . মাহমুদ (রহঃ) . জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, যে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে শুফআ১ এর অধিকার প্রদান করেছেন। যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যাবে এবং রাস্তা ভিন্ন করা হয়, তখন আর শুফআ এর অধিকার থাকবেনা। ১) যৌথ মালিকানা বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তা লাভ করার অগ্রাধিকারকে শুফআ বলে।

হাদীস নং-২০৭২। মুহাম্মাদ ইবনু মাহবুব (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, তার মধ্যে শুফআ লাভের ফায়সালা প্রদান করেছেন। তারপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্র করা হয় তখন আর শুফআ এর অধিকার থাকবেনা।

হাদীস নং-২০৭৩। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) . আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্নিত, যে সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি তাতে শুফআ। হিশাম (রহঃ) মামর (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ননায় মূসা’দ্দাদের অনুসরন করেছেন। আবদুর্ রাজ্জাক (রহঃ) বলেছেন, যে সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, সে সব সম্পদেই শুফআ রয়েছে। হাদীসটি আবদুর্ রাহমান ইবনু ইসহাক (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ননা করেছেন।

হাদীস নং-২০৭৪। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) . ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা তিন ব্যাক্তি হেঁটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাদের একজন আরেকজনকে বলল, তোমরা যে সব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের ওয়াসীলা করে মহান আল্লাহ্ তা’আলার কাছে দুআ করো। তাদের একজন বলল, ইয়া আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, আমার পিতামাতা অতিবৃদ্ধ ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম। এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতামাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তাঁরা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং আমার স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। একরাত্রে আমি আটকা পড়ে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তাঁরা দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলামনা। আর তখন শিশুরু া আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চীৎকার করছিল। এ অবস্থায় আমার এবং পিতামাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, আমি যদি তা শুধুমাত্র আপনার সন্তুষ্টি লাভের আশায় করে থাকি, তাহলে আপনি আমাদের গুহার মুখ এতোটুকু ফাঁক করে দিন, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি। বর্ননাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, আপনি জানেন যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এতো চরম ভালোবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালোবেসে থাকে। সে বলল, তুমি আমার থেকে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারবেনা, যতক্ষন আমাকে একশত দ্বীনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর যখন আমি তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলল মহান আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় কর। বৈধ অধিকার ছাড়া মোহরকৃত বস্তুর সীল ভাঙবেনা। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। ইয়া আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, আমি যদি তা আপনারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করে থাকি, তবে আমাদের থেকে পাথরখানা আরো একটু ফাঁক করে দিন। তখন তাদের থেকে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলল, ইয়া আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, আপনি জানেন যে, এক ফারাক১ (পরিমান) শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে গ্রহন করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এক ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু খরিদ করি ও রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের বান্দা, আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি বললাম, এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছিনা বরং এসব তোমার। ইয়া আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, আমি যদি তা শুধুমাত্র আপনারই সন্তুষ্টির জন্যই করে থাকি, তবে আমাদের থেকে গুহার মুখ খুলে দিন। তখন তাদের থেকে গুহার মুখ খুলে গেল। ১) তিন সা’ পরিমানের মাপের পাত্র।

হাদীস নং-২০৭৫।. আবূ নুমান (রহঃ) . আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। এ সময়ে এলোমেলো লম্বা লম্বা চুল বিশিষ্ট এক মুশরিক ব্যাক্তি তার বকরী হাঁকিয়ে উপস্থিত হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এটা কি বিক্রির জন্য, না দান হিসেবে, অথবা তিনি বললেন, না হেবা হিসাবে? সে বলল, বরং বিক্রির জন্য। তখন তিনি তার কাছ থেকে একটি বকরী খরিদ করলেন।

হাদীস নং-২০৭৬।. আবূল ইয়ামান (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন . ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রী সারা’কে নিয়ে হিজরত করলেন এবং এমন এক জনপদে প্রবেশ করলেন, যেখানে এক বাদশাহ ছিল, অথবা বললেন, এক অত্যাচারী শাসক ছিল। তাকে বলা হল যে, ইবরাহীম (নামক এক ব্যাক্তি) এক পরমা সুন্দরী নারীকে নিয়ে (আমাদের এখানে) প্রবেশ করেছে। সে তখন তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করল, হে ইবরাহীম, তোমার সাথে এ নারী কে? তিনি বললেন, আমার বোন। তারপর তিনি সারা’র কাছে ফিরে এসে বললেন, তুমি আমার কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করোনা। আমি তাদেরকে বলেছি যে, তুমি আমার বোন। মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম দুনিয়াতে (এখন) তুমি আর আমি ছাড়া আর কেউ মুমিন নেই। সুতরাং আমি ও তুমি দ্বীনী ভাই-বোন। এরপর ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (বাদশাহর নির্দেশে) সারা’কে বাদশাহর কাছ পাঠিয়ে দিলেন। বাদশাহ তাঁর দিকে অগ্রসর হল। সারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং এ দুআ করলেন, হে মহান আল্লাহ্ তা’আলা, আমিও তোমার উপর এবং তোমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ঈমান এনেছি এবং আমার স্বামী ছাড়া সকল থেকে আমার লজ্জাস্থানের সংরক্ষন করেছি। তুমি এই কাফিরকে আমার উপর ক্ষমতা দিওনা। তখন বাদশাহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে মাটিতে পায়ের আঘাত করতে লাগল। তখন . সারা বললেন, আয় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন, এ যদি মারা যায়, তবে লোকে বলবে, স্ত্রীলোকটি একে হত্যা করেছে। তখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেল। এভাবে দুইবার বা তিনবারের পর বাদশাহ বলল, মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, তোমরা আমার নিকট এক শয়তানকে পাঠিয়েছ। একে ইবরাহীমের কাছে ফিরিয়ে দাও এবং তার জন্য হাজেরাকে হাদীয়া স্বরুপ দান কর। . সারা (রাঃ) ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আপনি জানেন কি, মহান আল্লাহ্ তা’আলা কাফিরকে লজ্জিত ও নিরাশ করেছেন এবং সে এক বাঁদি হাদীয়া হিসাবে দেয়।

হাদীস নং-২০৭৭। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস ও আবদ ইবনু যামআ উভয়ে এক বালকের ব্যাপারে বিতর্ক করেন। সা’দ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , এ-তো আমার ভাই উৎবা ইবনু আবূ ওয়াক্কাসের পুত্র। সে তার পুত্র হিসাবে আমাকে ওয়াসিয়্যত করে গেছে। আপনি ওর সা’দৃশ্যের প্রতি লক্ষ করুন। আবদ ইবনু যামআ বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভে জন্মগ্রহন করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, উতবার সাথে তার পরিস্কার সা’দৃশ্য রয়েছে। তিনি বললেন, এ ছেলেটি তুমি পাবে, হে আবদ ইবনু যামআ। বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে বঞ্চনা। হে সাওদা বিনত যামআ, তুমি এর থেকে পর্দা কর। ফলে সাওদা (রাঃ) কখনও তাকে দেখেননি।

হাদীস নং-২০৭৮। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) . আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি সুহায়ব (রাঃ) কে বলেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় কর। তুমি নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করোনা। এর উত্তরে সুহায়ব (রাঃ) বলেন, আমি এতে আনন্দবোধ করবনা যে, এতো এতো সম্পদ হোক আর আমি আমার পিতৃত্বের দাবী অন্যের প্রতি আরোপ করি, বরং (আসল ব্যাপার) আমাকে শিশুকালে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

হাদীস নং-২০৭৯। আবূল ইয়ামান (রহঃ) . হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আপনি বলুন, আমি জাহিলিয়া যুগে দান, খায়রাত, গোলাম আযাদ ও আত্নীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার ইত্যাদি যে সব নেকীর কাজ করেছি, এতে কি আমি সাওয়াব পাব? হাকীম (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অতীতের সৎ কর্মসহ তুমি ইসলাম গ্রহন করেছ। অর্থাৎ তুমি যে সব নেকী করেছ, তার পুরোপুরি সাওয়াব লাভ করবে।

হাদীস নং-২০৮০। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) . আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, (একবার) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মৃত বকরীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা এর চামড়া কাজে লাগাওনা কেন? তারা বললেন, এ তো মৃত। তিনি বললেন, শুধু তার গোশত খাওয়া হারাম করা হয়েছে।

হাদীস নং-২০৮১। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রান। অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচারক রুপে মারয়াম তনয় [ঈসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] অবতরন করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেংগে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন, জিয্য়া রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরুপ প্রাচুর্য হবে যে, কেউ তা গ্রহন করবেনা।

হাদীস নং-২০৮২। হুমাইদী (রহঃ) . ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, অমুক ব্যাক্তি শরাব বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা অমুকের বিনাশ করুন। সে কি জানেনা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদীদের সর্বনাশ করুন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে।

হাদীস নং-২০৮৩। . আবদান (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদীদের বিনাশ করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছে। তারা তা (গলিয়ে) বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, (ইমাম বুখারী এর অর্থ মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাদের বিনাশ করুন অর্থ বিনাশ করা গেল- এর অর্থ মিথ্যাবাদী)।

হাদীস নং-২০৮৪।. আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) . সাঈদ ইবনু আবূল হাসান (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তাঁর কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, হে আবূ আব্বাস, আমি এমন ব্যাক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এ সব ছবি তৈরি করি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেন, (এ বিষয়ে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাঁকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি কোন ছবি তৈরি করে মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষন না সে তাতে প্রান সঞ্চার করে। আর সে তাতে কখনো প্রান সঞ্চার করতে পারবেনা। (একথা শুনে) লোকটি ভীষনভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহেরা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছ-পেলা এবং যে সকল জিনিসে প্রান নেই, তা তৈরী করতে পার। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, সাঈদ (রাঃ) বলেছেন, আমি নযর ইবনু আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) হাদীস বর্ননা করার সময় আমি তার কাছে ছিলাম। ইমাম বুখারী (রহঃ) আরো বলেন, সাঈদ ইবনু আবূ আরুবাহ (রহঃ) একমাত্র এ হাদীসটি নযর ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে শুনেছেন।

হাদীস নং-২০৮৫।. মুসলিম (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন . আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, যখন সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেন, শরাবের ব্যাবসা হারাম করা হয়েছে।

হাদীস নং-২০৮৬। বিশর ইবনু মারহুম (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যাক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। আরেক ব্যাক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যাক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার থেকে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয়না।

হাদীস নং-২০৮৭।. সুলাইমান ইবনু হারব (রহঃ) . আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, . সাফিয়্যা (রাঃ) বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি দিহয়া কালবী (রাঃ) এর ভাগে পড়েন, এর পরে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধীনে এসে যান।

হাদীস নং-২০৮৮। আবূল ইয়ামান (রহঃ) . আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, একদা তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলেন, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমরা বন্দী দাসীর সাথে সংগত হই। কিন্তু আমরা তাদের (বিক্রয় করে) মূল্য হাসিল করতে চাই। এমতাবস্থায় আযল (নিরুদ্ধ সঙ্গম) সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তোমরা কি এরুপ করে থাক? তোমরা যদি তা (আযল) না কর, তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারন মহান আল্লাহ্ তা’আলা যে সন্তান জন্ম হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই জন্মগ্রহন করবে।

হাদীস নং-২০৮৯।. ইবনু নুমাইর (রহঃ) . জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাব্বার (১) গোলাম বিক্রি করেছেন। ১) আমার মৃত্যুর পরে তুমি আযাদ, মালিক যদি দাস-দাসীকে এরুপ বলে তবে তাকে মুদাব্বার বলা হয়।

হাদীস নং-২০৯০।. কুতায়বা (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুদাব্বার বিক্রি করেছেন।

হাদীস নং-২০৯১।. যুহাইর ইবনু হারব (রহঃ) . যায়দ ইবনু খালিদ ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবিবাহিতা ব্যভিচারিনী দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, ব্যভিচারিনীকে বেত্রাঘাত কর। সে আবার ব্যভিচার করলে আবার বেত্রাঘাত কর। এরপর তাকে বিক্রি করে দাও, তৃতীয় বা চতুর্থবারের পরে।

হাদীস নং-২০৯২।. আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) . আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করলে এবং তার ব্যভিচার প্রমানিত হলে তাকে ‘হদ’ স্বরুপ বেত্রাঘাত করবে, কিন্তু তাকে ভৎসনা করবেনা। এরপর যদি সে আবার ব্যভিচার করে তাকে ‘হদ’ হিসাবে বেত্রাঘাত করবে, কিন্তু তাকে ভৎসনা করবেনা। তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমানিত হয়, তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদিও তা চুলের রশির (তুচ্ছ মূল্যের) বিনিময়ে হয়।

হাদীস নং-২০৯৩।আবদুল গাফফার ইবনু দাউদ (রহঃ) . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার গমন করেন। যখন মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর পক্ষে দুর্গের বিজয় দান করেন, তখন তাঁর সামনে সাফিয়্যা (রাঃ) বিনত হুয়ায়্যি ইবনু আখতাব এর সৌন্দর্যের আলোচনা করা হয়। তাঁর স্বামী নিহত হয় এবং তিনি তখন ছিলেন নব-বিবাহিতা। অবশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের জন্য গ্রহন করে নেন। তিনি তাঁকে নিয়ে রওয়ানা হন। যখন আমরা সা’দ্দা রাওহা নামক স্থানে উপনীত হলাম, তখন . সাফিয়্যা (রাঃ) পবিত্র হলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে মিলিত হন। তারপর চামড়ার ছোট দস্তরখানে খাদ্য (খেজুরের ছাতু ও ঘি মিশ্রিত) তৈরী করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আশেপাশের লোকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য খবর দিয়ে দাও। এই ছিল . সাফিয়্যা (রাঃ) এর বিবাহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওলীমা। এরপর আমরা মদিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। . আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম যে, তাঁকে নিজের আবা’ দিয়ে ঘেরাও করে দিচ্ছেন। তারপর তিনি তাঁর উটের পাশে বসে হাঁটু মোবারক সোজা করে রাখলেন, পরে . সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁর হাঁটুর উপর পা দিয়ে ভর করে আরোহন করলেন।

হাদীস নং-২০৯৪।. কুতায়বা (রহঃ) . জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন: মহান আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূল) শরাব, মৃত জন্তু, শুকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেওয়া হয় এং চামড়া তৈলাক্ত করা হয়, আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন, না, তাও হারাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদীদের বিনাশ করুন। মহান আল্লাহ্ তা’আলা যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে। আবূ আসিম (রহঃ) আতা (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি . জাবির (রাঃ) কে (হাদীসটি) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ননা করতে শুনেছি।

হাদীস নং-২০৯৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) . আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গনকের পারিতোষিক (গ্রহন করা) থেকে নিষেধ করেছেন।

হাদীস নং-২০৯৬।. হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) . আউন ইবনু আবূ জুহায়ফা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি একটি শিঙ্গা লাগানেওয়ালা গোলাম কিনলেন। তিনি তার শিঙ্গা লাগানোর যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দিলে তা ভেঙ্গে ফেলা হল। আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য, দাসীর (ব্যভিচারের মাধ্যমে) উপার্জন করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর তিনি শরীরে উল্কি অংকনকারী ও উল্কি গ্রহনকারী, সুদখোর ও সুদ-দাতার উপর এবং (জীবের) ছবি অংকনকারীর উপর লানত করেছেন।


 

পোস্টটি শেয়ার করুণ

সর্বশেষ আপডেট: জুন ৪th, ২০১৬ সময়: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, আপডেট করেছেন মুনজুরুল আলম (এডমিন)


লেখক পরিচিতিঃ- মুনজুরুল আলম (এডমিন)

আসসালামু আলাইকুম। আমি মুনজুরুল আলম। বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আমি ছোট বেলা থেকে লেখলেখি করায় মজা পাই। আমি মনে করি জানার কোন শেষ নেই। আমি সবার কাছ থেকে শিখতে পছন্দ করি। আর আমার শেখা তখনই স্বার্থক হবে যখন তা অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারব।আর আমি চাই সবাইকে আমার ওয়েবসাইটে মেধা বিকাশের সুগোয দিতে। তাই আপনিও পারেন আমাদের ওয়েব সাইটের একজন লেখক হতে। তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.