সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, অধ্যায়-২০, বিষয়:-জানাযার সালাত


পোস্ট করা হয়েছে:- মে ১০ ২০১৬| পোস্টটি করেছেন:- |পোস্টটি পড়া হয়েছে:- 351বার
পোস্টটি শেয়ার করুণ

হাদীস নং-১১৬৫। মূসা ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) আবূ যার্‌ (গিফারী) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন আগন্তুক [. জিব্‌রীল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] আমার রব-এর কাছ থেকে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছিলেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যাক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে দাখিল হবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে।

হাদীস নং-১১৬৬। উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর সঙ্গে শির্‌ক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুর শির্‌ক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

হাদীস নং-১১৬৭। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি বিষয়ে আমাদের আদেশ করেছেন এবং সাতটি বিষয়ে আমাদের নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের আদেশ করেছেন- ১ জানাযায় অনুগমন করতে, ২ অসুস্থ ব্যাক্তির খোঁজ-খবর নিতে, ৩ দাওয়াত দাতার দাওয়াত কবূল করতে, ৪ মাযলূমকে সাহায্য করতে, ৫ কসম থেকে দায়মুক্ত করতে, ৬ সালামের জওয়াব দিতে এবং ৭ হাঁচিদাতাকে (ইয়ারহামুকাল্লাহু বলে) খুশি করতে। আর তিনি নিষেধ করেছেন- ১ রুপার পাত্র, ২ সোনার আংটি, ৩ রেশম, ৪ দীবাজ, ৫ কাস্‌সী (কেস্‌রেশম), ৬ ইস্‌তিব্‌রাক (তসর জাতীয় রেশম) ব্যবহার করতে। ** এ হাদীসে নিষেধকৃত ছয়টির উল্লেখ করা হয়েছে। সপ্তম বিষয়টি এই কিতাবের ‘সোনার আংটি’ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

হাদীস নং-১১৬৮। মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি বলতে শুনেছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্‌ পাঁচটিঃ ১ সালামের জওয়াব দেওয়া, ২ অসুস্থ ব্যাক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া, ৩ জানাযার অনুগমন করা, ৪ দাওয়াত কবূল করা এবং ৫ হাঁচিদাতাকে খুশি করা। আবদুর রায্‌যাক (রহঃ) আমর ইবনু আবূ সালামা (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন। আবদুর রায্‌যাক (রহঃ) বলেন, আমাকে মা’মার (রহঃ)-এরূপ অবহিত করেছেন এবং এ হাদীস সালামা (রহঃ) উকাইল (রহঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন।

হাদীস নং-১১৬৯। বিশ্‌র ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওফাতের খবর পেয়ে] আবূ বক্‌র (রাঃ) ‘সুন্‌হ’-এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি থেকে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকদের সাথে কোন কথা না বলে আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাঁদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। আবূ বক্‌র (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল উম্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, তারপর কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্রিত করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা তো আপনি কবুল করেছেন। আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (তারপর) আবূ বক্‌র (রাঃ) বেরিয়ে এলেন। তখন উমর (রাঃ) লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। আবূ বক্‌র (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবূ বক্‌র (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন , তিনি তা মানলেন না। তখন আবূ বক্‌র (রাঃ) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা উমর (রাঃ)-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবূ বক্‌র (রাঃ) বললেন আম্‌মা বা’দু, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ এর ইবাদত করতে, মুহাম্মদ সত্যই ইন্‌তিকাল করেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জিব, অমর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ অর্থাৎ মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র শাকিরীন পর্যন্ত। (৩ : ১১৪) আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবূ বক্‌র (রাঃ)-এর তিলাওয়াত করার পূর্ব পর্যন্ত লোকদের জানাইছিল না যে, আল্লাহপাক এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল।

হাদীস নং-১১৭০। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আনসারী মহিলা ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বাই’আতকারী উম্মুল আলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, (হিজরতের পর) কুরআর মাধ্যমে মুহাজিরদের বণ্টন করা হচ্ছিল। তাতে উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ) আমাদের ভাগে পড়লেন, আমরা (সা’দরে) তাঁকে আমাদের বাড়িতে স্থান দিলাম। এক সময় তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তাঁর মৃত্যু হল। যখন তাঁর মৃত্যু হল এবং তাঁকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবূস্‌-সায়িব, আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! আপনার সম্বন্ধে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‌! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁর ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তাঁর মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তাঁর জন্য মঙ্গল কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানিনা আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে, অথচ আমি আল্লাহর রাসূল। সেই আনসারী মহিলা বললেন, আল্লাহর কসম! এরপর আর কোন দিন আমি কোন ব্যাক্তি সম্পর্কে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না।

হাদীস নং-১১৭১। সায়ীদ ইবনু উফাইর (রহঃ) লায়স (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর নাফি’ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) উকাইল (রহঃ) সূত্রে বলেন- তার সঙ্গে কি ব্যবহার করা হবে?১ শু’য়াইব, আমর ইবনু দ্বীনার ও মা’মার (রহঃ) উকাইল (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। ১ অর্থাৎ প্রথম বর্ণনায় রয়েছে -আমার সঙ্গে কি ব্যবহার করা হবে? আর দ্বিতীয় বর্ণনায় রয়েছে তার সঙ্গে কি ব্যবহার করা হবে?

হাদীস নং-১১৭২। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা [আবদুল্লাহ‌ (রাঃ)] শহীদ হয়ে গেলে আমি তাঁর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। লোকেরা আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেন নি। আমার ফুফী ফাতিমা (রাঃ)ও কাঁদতে লাগলেন। এতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান) তোমরা তাকে তুলে নেওয়া পর্যন্ত ফিরিশ্‌তাগণ তাঁদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। ইবনু জুরাইজ (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু মুন্‌কাদির (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় শু’বা (রাঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।

হাদীস নং-১১৭৩। ইসমায়ীল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাজাশী যে দিন মারা যান সেদিন-ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যু সংবাদ দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবদ্ধ করে চার তাক্‌বির আদায় করলেন।

হাদীস নং-১১৭৪। আবূ মা’মার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল্লহা্‌ (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেনঃ যায়দ (রাঃ) পতাকা বহন করেছে তারপর শহীদ হয়েছে। তারপর জা’ফর (রাঃ) (পতাকা) হাতে নিয়েছে; সেও শহীদ হয়। তারপর আবদুল্লাহ‌ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) (পতাকা) ধারন করে এবং সেও শহীদ হয়। এ সংবাদ বলেছিলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’ চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। এরপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেয় এবং তাঁর দ্বারা বিজয় সূচিত হয়।

হাদীস নং-১১৭৫। মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি মারা গেল। যার অসুস্থতার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোঁজ-খবর নিতেন। তাঁর মৃত্যু হয় এবং রাতেই তাঁকে দাফন করেন। সকাল হলে তাঁরা (এ বিষয়ে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবহিত করেন। তিনি বললেনঃ আমাকে সংবাদ দিতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল, তখন ছিল রাত এবং ঘোর অন্ধকার। তাই আপনাকে কষ্ট দেওয়া আমরা পছন্দ করিনি। তিনি ঐ ব্যাক্তির কবরের কাছে গেলেন এবং তাঁর উপর সালাত (নামায/নামাজ) জানাযা আদায় করলেন।

হাদীস নং-১১৭৬। আবূ মা’মার (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান সাবালিগ হওয়ার আগে মারা গেলে তাদের প্রতি রহমত স্বরূপ অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে দাখিল করবেন।

হাদীস নং-১১৭৭। মুসলিম (রহঃ) আবূ সায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মহিলাগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আরয করলেন, আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারিত করে দিন। তারপর তিনি একদিন তাদের ওয়ায-নসীহত করলেন এবং বললেনঃ যে স্ত্রীলোকের তিনটি সন্তান মারা যায়, তারা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করলেন, দু’ সন্তান মারা গেলে? তিনি বললেন, দু’ সন্তান মারা গেলেও। শরীক (রহঃ) আবূ সায়ীদ ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যারা বালিগ হয়নি।

হাদীস নং-১১৭৮। আলী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালিগ) সন্তান মারা গেলে, তারপরও সে জাহান্নমে প্রবেশ করবে-এমন হবে না। তবে শুধু কসম পূর্ণ হওয়ার পরিমাণ পর্যন্ত। আবূ আবদুল্লাহ‌ [ইমাম বুখারী (রাঃ)] বলেন- আল্লাহ তা’আলার ইরশাদঃ “তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে”।

হাদীস নং-১১৭৯। আদম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের কাছে উপস্থিত এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন কাঁদছিল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং সবর কর।

হাদীস নং-১১৮০। ইসমায়ীল ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা [যায়নাব (রাঃ)] এর ইন্তেকাল হলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তোমরা তাকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাঁদরখানি আমাদের দিয়ে বললেনঃ এটি তাঁর গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও।

হাদীস নং-১১৮১। মুহাম্মদ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা [যায়নাব (রাঃ)] এর ইন্তেকাল হলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাঁদরখানি আমাদের দিকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাঁর ভিতরে কাপড় হিসেবে পরাও। আইয়ূব (রহঃ) বলেছেন, হাফ্‌সা (রহঃ) আমাকে মুহাম্মদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তাঁর হাদীসে রয়েছে যে, তাকে বে-জোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও রয়েছে, তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার করে আরো তাতে রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা তার ডান দিন থেকে এবং তাঁর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র স্থানসমূহ থেকে শুরু করবে। ” তাতে একথাও রয়েছে- (বর্ণনাকারীণী) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) বলেছেন, আমরা তাঁর চুলগুলি আঁচড়ে তিনটি বেনী করে দিলাম।

হাদীস নং-১১৮২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যার গোসলের ব্যাপারে ইরশাদ করেনঃ তোমরা তাঁর ডান দিক থেকে এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু)র স্থানসমূহ থেকে শুরু করবে।

হাদীস নং-১১৮৩। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা [যায়নাব (রাঃ)]-কে গোসল দিতে যাচ্ছিলাম, গোসল দেওয়ার সময় তিনি আমাদের বলেনঃ তোমরা তাঁর ডান দিক থেকে এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু)র স্থানসমূহ থেকে শুরু করবে।

হাদীস নং-১১৮৪। আবদুর রহমান ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার ইন্‌তিকাল হলে তিনি আমাদের বলেনঃ তোমরা তাকে তিনবার পাঁচবার অথবা যদি তোমরা প্রয়োজনীয় মনে কর, তবে তার চাইতে অধিকবার গোসল দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর কোমর থেকে তাঁর চাঁদর (খুলে দিয়ে) বললেনঃ এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও।

হাদীস নং-১১৮৫। হামিদ ইবনু উমর (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যাগণের মধ্যে একজনের ইন্‌তিকাল হলে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গেলেন এবং বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার পাঁচবার অথবা যদি তোমরা প্রয়োজনীয় মনে কর, তবে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবারে কর্পূর (অথবা তিনি বলেন) ‘কিছু কর্পূর’ ব্যবহার করবে। গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) বলেন, আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাঁদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেনঃ এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরাও। আইয়ূব (রহঃ) হাফসা (রহঃ) সূত্রে উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং তাতে তিনি [উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ)] বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাঁকে তিন, পাঁচ, সাত বা প্রয়োজনবোধে তার চাইতে অধিকবার গোসল দাও। হাফসা (রহঃ) বলেন, আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলকে তিনটি বেনী বানিয়ে দেই।

হাদীস নং-১১৮৬। আহ্‌মদ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার মাথা তিনটি বেণী করে দেন। তাঁরা তা খুলেছেন, এরপর তা ধুয়ে তিনটি বেণী করে দেন।

হাদীস নং-১১৮৭। আহ্‌মদ (রহঃ) আইয়্যুব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু সীরীন (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আনসারী মহিলা উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) আসলেন, যিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বাইয়াতকারীদের অন্যতম। তিনি তাঁর এক ছেলেকে দেখার জন্য দ্রুততার সাথে বাসরায় এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে পাননি। তখন তিনি আমাদের হাদীস শোনালেন। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে তাশরীফ নিয়ে আসেন, তখন আমরা তাঁর কন্যাকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বলেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজনবোধে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। আর শেষবার কর্পূর দিও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। তিনি বলেন, আমরা যখন শেষ করলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাহ্‌ তাঁর চাঁদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেনঃ এটাকে তাঁর গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও। উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ)-এর বেশী বর্ণনা করেননি। [আইয়্যুব (রহঃ) বলেন, ] আমি জানিনা, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন কন্যা ছিলেন? তিনি বলেন, অর্থ গায়ের সাথে জড়িয়ে দেওয়া। সীরীন (রহঃ) মহিলা সম্পর্কে এইরূপ আদেশ করতেন যে, ভিতরের কাপড় (চাঁদরের মত পূর্ণ শরীরে) জড়িয়ে দিবে ইযারের মত ব্যবহার করবে না।

হাদীস নং-১১৮৮। কাবীসা (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার কেশগুচ্ছ বেণী পাকিয়ে দিয়েছিলাম, অর্থাৎ তিনটি বেণী। ওয়াকী’ (রহঃ) বলেন, সুফিয়ান (রহঃ) বলেছেন, মাথার সামনের অংশে একটি বেণী এবং দু’ পাশে দু’টি বেণী।

হাদীস নং-১১৮৯। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যাগণের মধ্যে একজনের ইন্‌তিকাল হলে। তিনি আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বে-জোড় সংখ্যক তিনবার পাঁচবার অথবা প্রয়োজনবোধে ততোধিকবার গোসল দাও। শেষবারে কর্পূর অথবা তিনি বলেছিলেন কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাঁদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলগুলো তিনটি বেণী করে পিছনে রেখে দিলাম।

হাদীস নং-১১৯০। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়। তাঁর মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

হাদীস নং-১১৯১। আবূ নু’মান (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি আরাফাতে ওয়াকূফ অবস্থায় হঠাৎ তার উট্‌নী থেকে পড়ে যায়। এতে তার ঘার মটকে গেল অথবা রাবী বলেছেন, তাঁর ঘাড় মটকিয়ে দিল। (এতে সে মারা যায়)। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা, কিয়ামতের দিন সে তাল্‌বিয়া১ পাঠ করতে করতে উত্থিত হবে।

হাদীস নং-১১৯২। কুতাইবা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আরাফাতে ওয়াকূফ (অবস্থান) কালে হঠাৎ তার সাওয়ারী থেকে পড়ে যায়। ফলে তার ঘার মটকে গেল অথবা রাবী বলেন, দ্রুত মৃত্যুমুখে ফেলে দিল। (ফলে তিনি মারা গেলেন)। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও; তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করবে না। কেননা, আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন তাকে তাল্‌বিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন।

হাদীস নং-১১৯৩। আবূ নু’মান (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তির উট তার ঘাড় মটকে দিল। (ফলে সে মারা গেল)। আমরা তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। সে ছিল ইহ্‌রাম অবস্থায়। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা আবৃত করো না। কেননা, আল্লাহপাক কিয়ামতের দিন তাকে মুলাব্বিদ১ অবস্থায় উঠিয়ে নিবেন। ১ মুলাব্বিদঃ মাথার চুল এলোমেলো না হওয়ার জন্য মোম জাতীয় আঠালো দ্রব্য ব্যবহারকারী, এখানে ইহ্‌রামরত অবস্থায় বুঝান হয়েছে।

হাদীস নং-১১৯৪। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আরাফাতে অবস্থান করছিল। সে তার সাওয়ারী থেকে পড়ে গেল। (পরবর্তী অংশের বর্ণনায়) আইয়ূব (রহঃ) বলেন, তার ঘাড় মট্‌কে দিল। আর আমর (রহঃ) বলেন, তাকে দ্রুত মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল। ফলে সে মারা গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথাও আবৃত করবে না। কেননা, তাঁকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করা হবে- এ অবস্থায় যে, আইয়ূব (রহঃ) বলেছেন, সে তালবিয়া পাঠ করছে আর আমর (রহঃ) বলেন, সে তালবিয়া পাঠরত।

হাদীস নং-১১৯৫। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ‌ ইবনু উবাই (মুনাফিক সর্দার) এর মৃত্যু হলে তার পুত্র (যিনি সাহাবী ছিলেন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দদান করুন। আমি তা দিয়ে আমার পিতার কাফন পরাতে ইছা করি। আর আপনি তার জানাযা পড়াবেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জামাটি তাঁকে দিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ আমাকে সংবাদ দিও, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাঁকে সংবাদ দিলেন। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন উমর (রাঃ) তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেন নি? তিনি বললেনঃ আমাকে তো দু’টির মধ্যে কোন একটি করার ইখ্‌তিয়ার দেওয়া হয়েছে। (আল্লাহ তা’আলা বলেছেন) আপনি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা মাগফিরাত কামনা না-ই করুন (একই কথা) আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন; কখনো আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন, তারপর নাযিল হলঃ “তাদের কেউ মারা গেলে কখনও আপনি তাদের জানাযা আদায় করবেন না। “

হাদীস নং-১১৯৬। মালিক ইবনু ইস্‌মায়ীল (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ‌ ইবনু উবাইকে দাফন করার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (কবরের) কাছে এলেন এবং তাকে বের করলেন। তারপর তার উপর থুথু দিলেন, আর নিজের জামাটি তাকে পরিয়ে দিলেন।

হাদীস নং-১১৯৭। আবূ নু’আইম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিন খানি সুতী সাদা সাহুলী (ইয়ামীন) কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

হাদীস নং-১১৯৮। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছে, তাতে কামীস ও পাগড়ী ছিল না। আবূ আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) বলেন, আবূ নু’আইম (রহঃ) শব্দটি বলেন নি। আর আবদুল্লাহ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় শব্দটি বলেছেন।

হাদীস নং-১১৯৯। ইসমায়ীল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সাদা সাহুলী কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কোন কামীস ও পাগড়ী ছিল না।

হাদীস নং-১২০০। আহমদ ইবনু মুহাম্মদ মাক্কী (রহঃ)সা’দ (রহঃ)- এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-খাবার দেওয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুস্’আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হন আর তিনি আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ, অথচ তাঁর কাফনের জন্যও একখানি চাঁদর ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার আশংকা হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময় আমাদের এ পার্থিব জীবনে আগেই দেয়া হল। তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।

হাদীস নং-১২০১। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ইবরাহীম (রহঃ)থেকে বর্ণিত, একদা আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-কে খাদ্য পরিবেশন করা হল, তখন তিনি সিয়াম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, মুস’আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হন। তিনি ছিলেন, আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ। (অথচ) তাঁকে এমন একখানা চাঁদরদিয়ে কাফন দেয়া হল যে, তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’পা বাইরে থাকে আর দু’পা ঢাকলে মাথা বাইরে থাকে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেন, হামযা (রাঃ) শহীদ হন। তিনিও ছিলেন আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ। তারপর আমাদের জন্য পৃথিবীতে অত্যধিক প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে। আশংকা হয় যে, আমাদের নেক আমল গুলো (এর বিনিময়) আমাদের আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমন কি খাদ্যও পরিহার করলেন।

হাদীস নং-১২০২। আমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে মদিনা হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়েছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহর নিকটে নির্ধারিত হয়ে আছে। তারপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তারা তাদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যাননি। তাঁদেরই একজন মুস’আব ইবনু উমাইর (রাঃ) আর আমাদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছেন যাদের অবদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছেন। মুস’আব (রাঃ) উহুদের দিন শহীদ হলেন। আমরা তাকে কাফন দেওয়ার জন্য এমন একখানি চাঁদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’পা বাইরে থাকে আর তাঁর দু’পা ঢেকে দিলে তাঁর মাথা বাইরে থাকে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা ঢেকে দিতে এবং তাঁর দু’খানা পায়ের উপর ইযখির দিয়ে ‍দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।

হাদীস নং-১২০৩। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একখানা বুরদাহ (চাঁদর) নিয়ে এলেন যার সাথে ঝালর যুক্ত ছিল। সাহল (রহঃ) বললেন, তোমরা জানো, বুরদাহ কি? তারা বলল, চাঁদর। সাহল (রাঃ) বললেন, ঠিকই। মহিলা বললেন, চাঁদরখানি আমি নিজ হাতে বুনেছি এবং তা আপনার পরিধানের জন্য নিয়ে এসেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর চাঁদরের প্রয়োজনও ছিল। তারপর তিনি তাই যার রূপে পরিধান করে আমাদের সামনে তাশরীফ আনেন। তখন জনৈক ব্যাক্তি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বললেন, বাহ! এ যে কত সুন্দর। আমাকে তা পড়ার জন্য দান করুন। সাহাবীগণ বললেন, তুমি ভাল করনি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর প্রয়োজনে পরেছেন; তবুও তুমি তা চেয়ে বসলে। অথচ তুমি জানো যে, তিনি কাউকে বিমুখ করেন না। ঐ ব্যাক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আমি তা পাবার উদ্দেশ্যে চাইনি। আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য যেন তা আমার কাফন হয়। সাহল (রাঃ) বলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁর কাফনই হয়েছিল।

হাদীস নং-১২০৪। কাবীসা ইবনু উকবা (রহঃ) উম্মে আতিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জানাযার অনুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি করা হয়নি।

হাদীস নং-১২০৫। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মে আতিয়্যাহ্ (রাঃ)- এর এক পুত্রের ইন্তেকাল হল। তৃতীয় দিনে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্যকারো জন্য তিন দিনের বেশী শোক করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে।

হাদীস নং-১২০৬। হুমাইদী (রহঃ) যায়নাব বিন্‌ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন শাম (সিরিয়া) থেকে আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছাল, তার তৃতীয় দিন উম্মে হাবীবা (রাঃ) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনলেন এবং তাঁর উভয় গাল ও বাহুতে মাখলেন। তারপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিলনা, যদি আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একথা বলতে না শোনতাম যে স্ত্রী লোক আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যাক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।

হাদীস নং-১২০৭। ইসমায়ীল (রহঃ) যায়নাব বিন্‌ত আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর সহধর্মিণী উম্মে হাবীবা (রাঃ)-এর ভাইয়ের মৃত্যু হলে আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি কিছু সুগন্ধি আনিয়ে তা ব্যবহার করলেন। এরপর বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারে আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবু যেহেতু আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন স্ত্রী লোকের পক্ষে কোন মৃত ব্যাক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়িয নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (পালনকরবে)।

হাদীস নং-১২০৮। আদম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পাশে কাঁদছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লা্হকে ভয় কর এবং সবর কর। মহিলাটি বললেন, আমার কাছ থেকে চলে যান। আপনার উপর তো আমার মত মুসিবত আসেনি। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । তখন তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুয়ারে হাযির হলেন, তাঁর কাছে কোন পাহারাদার পেলেননা। তিনি আরয করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেন : সবর তো বিপদের প্রথম অবস্থাতেই।

হাদীস নং-১২০৯। আবদান ও মুহাম্মদ (রহঃ) উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা (যায়নাব) তাঁর খিদমতে লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাকে)সালাম দিবে এবং বলবে : আল্লাহরই অধিকারে যাকিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যাকিছু তিনি দান করেন। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সে যেন সবর করে এবং সাওয়াবের আশায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইবনু উবাদা, মু’আয ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কা’ব, যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েক জন। তখন শিশুটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তুলে দেওয়া হল। তখন তার জানো ছঠফট করছিল। রাবী বলেন, আমার ধারনা যে, তিনি এ বলে ছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (আওয়াজ হচ্ছিল)। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’ চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! একি? তিনি বললেন : এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ পাক তাঁর বান্দার অন্তরে আমানত রেখেছেন। আর আল্লাহ পাক তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতই দয়া করেন।

হাদীস নং-১২১০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক কন্যা (উম্মে কুলসুম (রাঃ)-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশে বসে ছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি তাঁর চোখ থেকে পানি ঝরতে দেখলাম। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলন করেনি? আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি (কবরে) অবতরণ কর। রাবী বলেন, তখন তিনি (আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর কবরে অবতরণ করলেন।

হাদীস নং-১২১১। আবদান (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু উবাঈদুল্লাহ্ ইবনু আবূ মুলাইকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কায় উসমান (রাঃ)-এর এক কন্যার ওফাত হল। আমরা সেখানে (জানাযায়) শরীক হওয়ার জন্য গেলাম। ইবনু উমর এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও সেখানে হাযির হলেন। আমি তা্ঁদের দু’জনের মাঝে বসাছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাঁদের এক জনের পাশে গিয়ে বসলাম, পরে অন্য জন এসে আমার পাশে বসলেন। (কান্নার আওয়াজ শুনে) ইবনু উমর (রাঃ) আমর ইবনু উসমানকে বললেন, তুমি কেন কাঁদতে নিষেধ করছনা? কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মৃত ব্যাক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে আযাব দেওয়া হয়। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ) ও এরকম কিছু বলতেন। এরপর ইবনু আব্ব্স (রাঃ) বর্ণনা করলেন, উমর (রাঃ)-এর সাথে মক্কা থেকে ফিরছিলাম। আমরা বায়দা (নামক স্থানে) পৌঁছলে উমর (রাঃ) বাবলা গাছের ছায়ায় একটি কাফেলা দেখতে পেয়ে আমাকে বললেন, গিয়ে দেখোতো এ কাফেলা কার? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম সেখানে সুহাইব (রাঃ) রয়েছেন। আমি তাকে তা জানালাম। তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আস। আমি সুহাইব (রাঃ)-এর নিকটে আবার গেলাম এবং বললাম, চলুন, আমীরুল মু’মিনীনের সংগে সাক্ষাত করুন। এরপর যখন উমর (রাঃ) (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) তাঁর কাছে এসে এ বলে কাঁদতে লাগলেন, হায় আমার ভাই! হায় আমার বন্ধু! এতে উমর (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি আমার জন্য কাঁদছো? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মৃত ব্যাক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে আযাব দেওয়া হয়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, উমর (রাঃ)-এর ওফাতের পর আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে আমি উমর (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ উমর (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল্লাহ্ একথা বলেননি যে, আল্লাহ ঈমানদার(মৃত) ব্যাক্তিকে, তার জন্য তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল্লাহ্ বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন, তার জন্য তার পরিজনের কান্নার কারণে। এরপর আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট (ইরশাদ হয়েছে) : “বোঝা বহনকারী কোন ব্যাক্তি অপরের বোঝা বহন করবেনা”। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহই(বান্দাকে) হাসান এবং কাঁধান। রাবী ইবনু আবূ মুলাইকা (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! (একথা শুনে) ইবনু উমর (রাঃ) কোন মন্তব্য করলেন না।

হাদীস নং-১২১২। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল্লাহ্ এক ইয়াহূদী মেয়ে লোকের (কবরের) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছিল। তখন তিনি বললেন : তারা তো তার জন্য কান্নাকাটি করছে। অথচ তাকে কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।

হাদীস নং-১২১৩। ইসমায়ল ইবনু খলীল (রহঃ) আবূ বুরদার পিতা (আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উমর (রাঃ) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি কি জাননা যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের আযাব দেওয়া হয়?

হাদীস নং-১২১৪। আবূ নু’আইম (রহঃ) মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মত নয়। যে ব্যাক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। (মুগীরা (রাঃ) আরও বলেছেন,)আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যাক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর আযাব দেওয়া হবে।

হাদীস নং-১২১৫। আবদান (রহঃ) উমর (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত ব্যাক্তিকে তার জন্য বিলাপের বিষয়ের উপর কবরে আযাব দেওয়া হয়। আবদুল আ’লা (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণনায় আবদান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আদম (রহঃ) শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যাক্তিকে তার জন্য জীবিতদের কান্নার কারণে আযাব দেওয়া হয়।

হাদীস নং-১২১৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকেবর্ণিত, তিনি বলেন, উহু‍দের দিন আমার পিতাকে অংগ প্রত্যংগ কর্তিত অবস্থায় নিয়ে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে রাখা হল। তখন একখানি কাপড় দিয়ে তাকে ঢেকে রাখা হয়েছিল। আমি তাঁর উপর থেকে আবরণ উন্মোচন করতে আসলে, আমার কাওমের লোকরা আমাকে নিষেধ করল। পুনরায় আমি আবরণ উন্মুক্ত করতে থাকলে আমার কাওমের লোকেরা (আবার) আমাকে নিষেধ করল। পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে তাকে উঠিয়ে নেওয়া হল। তখন তিনি এক রোদন কারিনীর আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, একে? লোকেরা বলল, আমরের মেয়ে অথবা (তারা বলল,)আমরের বোন। তিনি বললেন, কাঁধো কেন? অথবা বলেছেন, কেদোঁ না। কেননা, তাকে উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত ফিরিশ্‌তাগণ তাদের পাখা বিস্তার করে তাকে ছায়া দিয়ে রেখে ছিলেন।

হাদীস নং-১২১৭। আবূ নু’আইম (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যারা (মৃত ব্যাক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গাল চাপড়ায়, জামার বুক ছিড়েঁ ফেলে এবং জাহিলীয়াত যুগের মত চীৎকার দেয়, তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

হাদীস নং-১২১৮। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ)সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে (হজ্জ) একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আসতেন। একদিন আমি তাঁর কাছে আরয করলাম, আমার রোগ চরমে পৌছেঁছে আর আমি সম্পদশালী। একটি মাত্র কন্যা ছাড়া কেউ আমার ওয়ারিস নেই। তবে আমি কি আমার সম্পদের দু’ তৃতীয়াংশ সাদাকা করতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি আবার আরয করলাম, তা হলে অর্ধেক। তিনি বললেন, না। তারপর তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক। তোমার ওয়ারিসদের অভাব মুক্ত রেখে যাওয়া, তাদের অভাব গ্রস্ত রেখে যাওয়া মানুষের কাছে হাত পাতার চাইতে উত্তম। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যেকোন ব্যয় করনা কেন, তোমাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে) আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (আফসোস) আমি আমার সাথীদের থেকে পিছনে থেকে যাব? তিনি বললেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক আমল করতে থাক, তাহলে তাতে তোমার মর্যাদাও উন্নতি বৃদ্দই পেতে থাকবে। তাছাড়া, সম্ভবত, তুমি পিছনে (থেকে যাবে)। যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকার লাভ করবে। আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন। পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস! সা’দ ইবনু খাওলার জন্য (এ বলে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মক্কায় তাঁর ইন্‌তিকাল হয়েছিল।

হাদীস নং-১২১৯। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যারা শোকে গালে চাপড়ায়, জামার বুক ছিড়েঁ ফেলে ও জাহিলীয়াত যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের তরীকাভুক্ত নয়।

হাদীস নং-১২২০। উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যারা (শোকে) গালে চাপড়ায়, জামার বুক ছিড়েঁ ফেলে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয় তারা আমাদের তরীকাভূক্ত নয়।

হাদীস নং-১২২১। মুহাম্মদ্ ইবনু মূসান্না (রহঃ)আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন (মুতা-এর যুদ্ধ ক্ষেত্রে থেকে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে (যায়িদ) ইবনু হারিসা, জাফর ও ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছল, তখন তিনি (এমনভাবে) বসে পড়লেন যে, তাঁর মধ্যে দু:খের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি (আয়িশা (রাঃ) দরওয়াযার ফাঁক দিয়ে তা দেখছিলাম। এক ব্যাক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জাফর (রাঃ)-এর পরিবারের মহিলাদের কন্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যাক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাদেঁরকে (কাঁদতে) নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেলো এবং দ্বিতীয়বার এসে (বলল) তারা তাঁর কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেন : তাদেঁরকে নিষেধ করো। ঐ ব্যাক্তি তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহর কসম! ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাঁরা আমাদের হার মানিয়েছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিরক্তির সাথে) বললেনঃ তাহলে তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। ১ তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ পালন করতে পারনি। অথচ তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিরক্ত করতেও কসূর করনি।

হাদীস নং-১২২২। আমর ইবনু আলী (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,)বীর-ই-মাউনার ঘটনায়) ক্বারী (সাহাবীগণের) শাহাদতের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এক মাস যাবত কুনুত-ই-নাযালা২ পড়েছিলেন। (রাবী বলেন) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি আর কখনো এর চাইতে অধিক শোকাভিভূত হতে দেখিনি।

হাদীস নং-১২২৩। বিশর ইবনু হাকাম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) তিনি বলেন, আবূ তালহা (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাবী বলেন, সে মারা গেল। তখন আবূ তালহা (রাঃ) বাড়ীর বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোনে রেখে দিলেন। আবূ তালহা (রাঃ) বাড়ীতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহা (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রতি যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন ছেলেটি মারা গেছে। এরপর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে (ফজরের) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁদের রাতের ঘটনা জানালেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : আশা করা যায়, আল্লাহ পাক তোমাদের এ রাতে বরকত দিবেন। সুফিয়ন (রাঃ) বলেন, এক ব্যাক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি (আবূ তালহা (রাঃ) দম্পতির নয়জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন সম্পর্কে দক্ষ ছিলেন।

হাদীস নং-১২২৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়েই প্রকৃত সব্‌র।

হাদীস নং-১২২৫। হাসান ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে আবূ সায়ফ্‌ কর্মকারের কাছে গেলাম। তিনি ছিলেন (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -তনয়) ইব্‌রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং তাকে নাকে-মুখে লাগালেন। এরপর (আর একদিন) আমরা তার (আবূ সায়ফ্‌-এর) বাড়ীতে গেলাম। তখন ইব্‌রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষ অবস্থায়। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উভয় চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আর আপনিও?(কাঁদছেন?) তখন তিনি বললেন : ইবনু আওফ, এ হচ্ছে মায়া-মমতা। তারপর পুন:বার অশ্রু ঝরতে থাকল, এরপর তিনি বললেন : অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তাই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। আর হে ইব্‌রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত। মূসা (রহঃ) আনাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন।

হাদীস নং-১২২৬। আসবাগ (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা’দ ইবনুুে উবাদাহ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবদুর রহমান ইবনু আওফ সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে তাকেঁ দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাকেঁ পরিজন-বেষ্টিত দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বললেন, না। ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে ফেললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেন : শুনে রাখ! নি:সন্দেহে আল্লাহ পাক চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্‌বার দিকে উশারা করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যাক্তির জন্য তার পরিজনের বিলাপের কারণে তাকে আযাব দেওয়া হয়। উমর (রাঃ) এ (ধরণের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা প্রহার করতেন কংকর নিক্ষেপ করতেন বা মাটি ছুড়ে মারতেন।

হাদীস নং-১২২৭। মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন হাওশাব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) যায়দ ইব্‌ন হারিসা, জা’ফর এবং আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাত লাভের খবর পৌঁছলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের চিহ্ন প্রকাশ পেল। আমি (আয়িশা (রাঃ) দরওয়াযার ফাঁক দিয়ে ঝুকেঁ তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যাক্ত তাঁর কাছে এসে সম্বোধন করেন, (ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! জা’ফর (রাঃ)-এর (পরিবারের) মহিলগণের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। তিনি তাদেঁর নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যাক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকেঁ মানেনি। তিনি তাদেঁর নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! অবশ্যই তাঁরা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরাকে) হার মানিয়েছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তাদেঁর মুখে মাটি ছুড়েঁ মারো। (আয়িশা (রাঃ) বলেন) আমি বললাম, আল্লাহ্‌ তোমার নাক ধুলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহ্‌র কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও কসূর করোনি।

হাদীস নং-১২২৮। আবদুল্লাহ‌ ইবনু আবদুল ওয়াহ্‌হাব (রহঃ)উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাই’আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ থেকে এ অংগীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। আমাদের মধ্য হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল ‘আলা, আবূ সাব্‌রাহ্‌র কন্যা মু’আযের স্ত্রী, আরো দু’জন মহিলা বা মু’আযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে অংগীকার রক্ষা করেনি।

হাদীস নং-১২২৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) আমির ইবনু রাবী’আ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমার জানাযা (যেতে) দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকবে। হুমায়দী আরও উল্লেখ করেছেন, তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত।

হাদীস নং-১২৩০। মুসলিম ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমার জানাযা যেতে দেখলে দাড়িয়ে পড়বে, এরপর যারা তার অনুগামী হবে, তারা তা নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত বসবে না।

হাদীস নং-১২৩১। আহ্‌মদ ইবনু ইউনুস (রহঃ)সায়ীদ মাক্‌বুরী (রহঃ)-এর পিতা মারওয়ানের হাত ধরলেন এবং তাঁরা জানাযা নামিয়ে রাখার আগেই বসে পড়লেন। তখন আবূ সায়ীদ (রাঃ) এগিয়ে এসে মাওয়ানের হাত ধরে বললেন, দাড়িয়ে পড়ুন! আল্লাহর কসম! ইনি (আবূ হুরায়রা (রাঃ) তো জানেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কাজ করতে (জানাযা নামিয়ে রাখার আগে বসতে) নিষেধ করেছেন। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন।

হাদীস নং-১২৩২। কুতাইবা আব্‌ন সায়ীদ (রহঃ) আমর ইবনু রাবী’আ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে যদি সে তার সহযাত্রী না হয়, তরে ততক্ষণ সে দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে ব্যাক্তি জানাযা পিছনে ফেলে, বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায়, অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা (মাটিতে) নামিয়ে রাখা হয়।

হাদীস নং-১২৩৩। মু’আয ইবনু ফাযালা (রাঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের পাশ ‍দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও দঁড়িয়ে পড়লাম এবং আরয করলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‌! এ তো এক ইয়াহূদীর জানাযা। তিনি বললেনঃ তোমরা যে কোন জানাযা দেখলে দাঁড়িয়ে পড়বে।

হাদীস নং-১২৩৪। আদম (রহঃ) আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহ্‌ল ইবনু হুনাইফ ও কায়স ইবনু সা’দ (রাঃ) কাদেসিয়াতে বসাছিলেন, তখন লোকেরা তাঁদের সামনে দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিল। (তা দেখে) তাঁরা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁদের বলা হল, এটাতো এ দেশীয় জিম্মী ব্যাক্তির (অমুসলিম সংখ্যালঘু)-এর জানাযা। তখন তাঁরা বললেন, (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাঁকে বলা হল, এটা তো একইয়াহূদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেন: সে কি মানুষ নয়? আবূ হামযা (রহঃ) ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাহ্‌ল এবং কায়স (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তখন তাঁরা দু’জন বললেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে ছিলাম। যাকারিয়া (রহঃ) সূত্রে ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আবূ মাসউদ ও কায়স (রাঃ) জানাযা যেতে দেখলে দাঁড়িয়ে যেতেন।

হাদীস নং-১২৩৫। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) আবূ সায়ীদ খুদ্‌রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে নেক্‌কার হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর নেক্‌কার না হলে সে বলতে থাকে, হায় আফসূস! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনলে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলত।

হাদীস নং-১২৩৬। আলী আব্‌ন আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পূণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি অকল্যাণ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে দ্রুত নামিয়ে ফেলছ।

হাদীস নং-১২৩৭। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ সায়ীদ খুদ্‌রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : যখন জানাযা (খাটিয়ায়) রাখা হয় এবং পুরুষ লোকেরা তা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, সে নেক্‌কার হলে, তখন বলতে থাকে আমাকে সামনে এগিয়ে দাও। আর নেক্‌কার না হলে সে আপন পরিজনকে বলতে থাকে, হায় আফসোস! এটা নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে অবশ্য সজ্ঞা হারিয়ে ফেলত।

হাদীস নং-১২৩৮। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ্‌) নাজাশীর জানাযা আদায় করেন। আমি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।

হাদীস নং-১২৩৯। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ শোনালেন, পরে তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হলে তিনি চার তাকবীরে (জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদীস নং-১২৪০। মুসলিম (রহঃ) শা’বী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী যিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে উপস্থিত ছিলেন, তিনি আমাকে খবর দিয়েছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পৃথক কবরের কাছে গমণ করলেন এবং লোকদের কাতারবদ্ধ করে চার তাকবীরের সংগে (জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। (শায়বানী (রহঃ) বলেন) আমি শা’বী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ হাদীস আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন?তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)।

হাদীস নং-১২৪১। ইব্‌রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আজ হাবাশা দেশের (আবিসিনিয়ার) একজন নেক্‌কার লোকের ওফাত হযেছে, তোমরা এসো তাঁর জন্য (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। রাবী বলেন, আমরা তখন কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, আমরা ছিলাম কয়েক কাতার। আবূ যুবাইর (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম।

হাদীস নং-১২৪২। মূসা ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক (ব্যাক্তির), কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাকে রাতের বেলা দাফন করা হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, একে কখন দাফন করা হল? সাহাবীগণ বললেন, গত রাতে। তিনি বললেন : তোমরা আমাকে অবহিত করলে না কেন? তাঁরা বললেন, আমরা তাকে রাতের আধারে দাফন করেছিলাম, তাই আপনাকে জাগানো পছন্দ করিনি। তখন তিনি (সেখানে) দাড়িয়ে গেলেন। আমরাও তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি তাঁর (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদীস নং-১২৪৩। সুলাইমান ইবনু হারব (রাঃ) শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে একটি পৃথক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )ইমামতি করলেন, আমরা তাঁর পিছনে কাতার করলাম এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। (শায়বানী (রহঃ) বলেন,)আমরা (শা’বীকে) জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবূ আম্‌র! আপনাকে এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)।

হাদীস নং-১২৪৪। আবূ নু’মান (রহঃ)নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ)- এর নিকট বর্ণনা করা হল যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলে থাকেন, যিনি জানাযার অনুগমণ করবেন তিনি এক কীরাত (পরিমাণ) সাওয়াবের অধিকারী হবেন। তিনি বললেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাদের বেশ বেশী হাদীস শোনান। তবে আয়িশা (রাঃ) এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ হাদীস বলতে শুনেছি। ইবনু উমর (রাঃ) বরলেন, তা হলে তো আমরা অনেক কীরাত (সাওয়াব) হারিয়ে ফেলেছি। “ফার্‌রাততু” এর অর্থ আল্লাহর আদেশ আমি খুইয়ে ফেলেছি।

হাদীস নং-১২৪৫। আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসলামা, আবদুল্লাহ‌ ইবনু মুহাম্মদ ও আহ্‌মাদ ইবনু শাবীব ইবনু সায়ীদ (রাঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যাক্তি মৃতের জন্য সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কীরাত (সাওয়াব), আর যে ব্যাক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু’ কীরাত (সাওয়াব)। জিজ্ঞাসা করা হল দু’ কীরাত কি? তিনি বললেন, দু’ টি বিশাল পর্বত সমতুল্য।

হাদীস নং-১২৪৬। ইয়াকূব ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের কাছে তাশরীফ আনেন। সাহাবাগণ বললেন, এক গতরাতে দাফন করা হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে কাতার করে দাড়ালাম। এরপর তিনি তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদীস নং-১২৪৭। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ্‌) নাজাশীর মৃত্যুর দিনই আমাদের তার মৃত্যু সংবাদ জানোান এবং ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের ভাই-এর(নাজাশীর) জন্য ইস্তিগফার কর। আর ইবনু শিহাব সায়ীদ ইবনু মূসা য়্যাব (রহঃ) সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে মূসা ল্লায় কাতার করলেন, এরপর চার তাক্‌বীর আদায় করেন।

হাদীস নং-১২৪৮। ইব্‌রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নব এর কাছে (খায়বারের) ইয়াহুদীরা তাদের এক পুরুষ ও এক স্ত্রীলোককে হাযির করল, যারা যিনা করেছিল। তখন তিনি তাদের উভয়কে (রজম করার) নির্দেশ দেন। মসজিদের পাশে জানাযার স্থানের কাছে তাদের দু’ জনকে রজম(পাথর নিক্ষেপ) করা হল।

হাদীস নং-১২৪৯। উবাঈদুল্লাহ্‌ ইবনু মূসা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ইন্‌তিকাল করেছিলেন, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেন : ইয়াহূদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর লা’নত, তারা তাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, সে আশংকা না থাকলে তাঁর (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর) কবরকে উম্মুক্ত রাখা হত, কিন্তু আমার আশংকা যে, (খুলে দেয়া হলে) একে মসজিদে পরিণত করা হবে।

হাদীস নং-১২৫০। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আমি এমন এক মহিলার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি তার মাঝ বরাবর দাড়িয়ে ছিলেন।

হাদীস নং-১২৫১। ইমরান ইবনু মায়সারা (রহঃ) সামুরা ইবনু জুন্‌দার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আমি এমন এক মহিলার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি মাঝ বরাবর দাড়িয়ে ছিলেন।

হাদীস নং-১২৫২। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশা) নাজাশীর মৃত্যুর দিন তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানালেন এবং সাহাবীগণকে নিয়ে জানাযার সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থানে চার তাকবীর আদায় করলেন।

হাদীস নং-১২৫৩। মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবসিনিয়ার বাদশাহ) আসহামা-নাজাশীর জানাজা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, তাতে তিনি চার তকবীর বললেন। ইয়াজীদ ইবনু হারুন ও আবদুস সামাদ (রহঃ) সালীম (রহঃ) থেকে ‘আসহামা’ শব্দ বর্ণনা করেন।

হাদীস নং-১২৫৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার ও মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) তালহা ইবনু আবদুল্লাহ‌ ইবনু আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (আবদুল্লাহ) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর পিছনে জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা তিলওয়াত করলেন এবং (সালাত (নামায/নামাজ) শেষে) বললেন, (আমি এমন করলাম) যাতে সবাই জানতে পারে যে, তা (সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা) জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) সুন্নাত (একটি পদ্ধতি)।

হাদীস নং-১২৫৫। হাজ্জাজ্‌ ইবনু মিনহাল (রহঃ) শা’বী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে এমন এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন, যিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে একটি পৃথক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের ইমামতি করলেন এবং তাঁরা তাঁর পিছনে জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। (রাবী) বলেন) আমি শা’বীকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবূ আম্‌র! আপনার কাছে এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)।

হাদীস নং-১২৫৬। মুহাম্মদ ইবনু ফায্‌ল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কালবর্ণের এক পুরুষ বা এক মহিলা মসজিদে ঝাড়ু দিত। সে মারা গেল। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যু সংবাদ জানতে পারেন নি। একদিন তার কথা উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ লোকটির কি হল? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে তো মারা গিয়েছে। তিনি বললেন : তোমরা আমাকে অবহিত করলে না কেন? তাঁরা বললেন, সে ছিল এমন (তার) ঘটনা উল্লেখ করলেন। রাবী বলেন, তাঁরা (যেন) তাকে খাট করে দেখলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। রাবী বলেন, তখন তিনি তার কবরের কাছে তাশরীফ এনে তার জন্য জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদীস নং-১২৫৭। আয়্যাশ ও খলীফা (রহঃ)আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে,)তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, এমন সময় তার কাছে দু’জন ফিরিশতা এস তাকে বসিয়ে দেন। এরপর তাঁরা প্রশ্ন করেন, এই যে মুহাম্মদ তাঁর সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন সে বলবে, আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল)। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ পাক তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : তখন সে দু’টি স্থান একই সময় দেখতে পাবে। আর যারা কাফির বা মুনাফিক, তারা বলবে, আমি জানিনা। (তবে) অন্য লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, না তুমি নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। এরপর তার দু’ কানের মধ্যবর্তী স্থানে লোহার মুগুর দিয়ে এমন জোরে আঘাত করা হবে, এতে সে চিৎকার করে উঠবে, মানুষ ও জ্বীন ব্যতীত তার আশেপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।

হাদীস নং-১২৫৮। মাহমূদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মালাকুল মাওতকে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে পাঠানো হল। তিনি তাঁর কাছে আসলে, মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে চপেটাঘাত করলেন। (এতে তাঁর চোখ বেরিয়ে গেল।)তখন মালাকূল মাওত তাঁর প্রতিপালক এর নিকটে ফিরে গিয়ে বলবেন, আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। তখন আল্লাহ তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হুকুম করলেন, আবার গিয়ে তাঁকে বল, তিনি একটি ষাঁড়ের পিঠে তাঁর হাত রাখলেন, তখন তাঁর হাত যতটুকু আবৃত করবে, তার সম্পূর্ণ অংশের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তাঁকে এক বছর করে আয়ু দান করা হবে। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ শুনে বললেন, হে আমার রব! তারপর কি হবে? আল্লাহ্ বললেন : তারপর মৃত্যু। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা হলে এখনই আমি প্রস্তুত। তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদুর যায় বায়তুল মুকাদ্দাসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাঁকে্ পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা’আলার কাছে আরয করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এখন আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পাথরের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।

হাদীস নং-১২৫৯। উসমান ইবনু আবূ শায়রা (রহঃ) ইবনুুে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তিকে রাত্রিকালে দাফন করার পর তার (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ (দাফনকৃত ব্যাক্তির কবরের পাশে) গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন তিনি লোকটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, এ লোকটি কে? তাঁরা জবাব দিলেন, অমুক গত রাতে তাকে দাফন করা হয়েছে। তখন তাঁরা সকলে তার (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদীস নং-১২৬০। ইসমায়ীল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসুস্থতাকালে তাঁর এক সহধর্মিনী হাবশা দেশে তাঁর দেখা ‘মারিয়া’ নামক একটি গীর্জার কথা আলোচনা করলেন। (উম্মাহাতুল মু’মিনীনের মধ্যে) উম্মে সালামা এবং উম্মে হাবিবা (রাঃ) হাবাশায় গিয়েছিলেন। তারা ঐ গীর্জাটির সৌন্দর্য এবং তাতে রক্ষিত চিত্রসমূহের বিবরণ দিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা তুলে বললেন : সে সব দেশের লোকেরা তাদের কোন পূণ্যবান ব্যাক্তি মারা গেলে তাঁর সমাধিতে মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে সে সব চিত্র অংকন করত। তারা হল, আল্লাহর নিকটে নিকৃষ্ট মাখলূক।

হাদীস নং-১২৬১। মুহাম্মদ ইবনু সিয়ান (রাঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক কন্যার দাফনে হাযির ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশেই বসেছিলেন। আমি দেখলাম, তাঁর দু’চোখে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলনে লিপ্ত হয়নি? আবূ তালহা (রাঃ) বলেন, আমি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁর কবরে নেমে পড়, তখন তিনি তাঁর কবরে নেমে গেলেন এবং তাঁকে দাফন করলেন।

হাদীস নং-১২৬২। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’দু’ জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্র করতেন। এরপর জিজ্ঞাসা করতেন, তাঁদের উভয়ের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত? দু’ জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইশারা করা হলে তাঁকে কবরে আগে রাখতেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হব। তিনি রক্তমাখা অবস্থায় তাঁদের দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাঁদের গোসল দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ)ও আদায় করা হয়নি।

হাদীস নং-১২৬৩। আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) উক্‌বা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হলেন এবং উহুদে পৌঁছে মৃতের জন্য যেরূপ (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হয় উহুদের শহীদানের জন্য অনুরূপ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর ফিরে এসে মিম্বারে তাশরীফ রেখে বললেন : আমি হবো তোমাদের জন্য অগ্রে প্রেরিত এবং আমি তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহর কসম! এ মুহূর্তে আমি অবশ্যই আমার হাউয (হাউয-ই-কাওসার) দেখছি। আর অবশ্যই আমাকে পৃথিবীর ভান্ডারসমূহের চাবিগুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। অথবা (রাবী বলেছেন) পৃথিবীর চাবিগুচ্ছ আর আল্লাহর কসম! তোমরা আমার পরে শিরক করবে এ আশংকা আমি করি না। তবে তোমাদের ব্যপারে আমার আশংকা যে, তেমরা পার্থিব সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে।

হাদীস নং-১২৬৪। সায়ীদ ইবনু সুলাইমান (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ থেকে বর্ণিত, তিনি খবর দিয়েছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’ জনকে একত্র করে দাফন করেছিলেন।

হাদীস নং-১২৬৫। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছের : তাঁদেরকে তাঁদের রক্তসহ দাফন কর। অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদগণের সম্পর্কে আর তিনি তাঁদের গোসলও দেননি।

হাদীস নং-১২৬৬। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্রে দাফন করার ব্যবস্থা করে জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁদের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত? যখন তাঁদের একজরে দিকে ইশারা করা হত, তখন তিনি তাকে প্রথমে কবরে রাখতেন, আর বলতেন : আমি তাদের জন্য সাক্ষী হব। (কিয়ামতে) তিনি তাদের রক্তমাখা অবস্থায় দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাদের জানাযার সালাত (নামায/নামাজ)ও আদায় করেননি। তাদের গোসলও দেননি। রাবী আওযায়ী (রহঃ) যুহরী (রহঃ) সূত্রে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, তাদের মাঝে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? কোন একজনের দিকে ইশার করা হলে, তিনি তাকে তার সংগীর আগে কবরে রাখতেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমার পিতা ও চাচাকে একখানি পশমের তৈরী নক্‌শা করা কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল (আর সুলাইমান ইবনু কাসীর (রহঃ) সূত্রে যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যাক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির (রাঃ) থেকে শুনেছেন।

হাদীস নং-১২৬৭। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ‌ ইবনু হাওশাব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক মক্কাকে হারাম (সম্মানিত বা নিষিদ্ধ এলাকা) সাব্যস্ত করেছেন। আমার পূর্বে তা, কারো জন্য হালাল (বৈধ ও উন্মুক্ত এলাকা) ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য তা হালাল হবে না। আমার জন্য একটি দিনের (মক্কা বিজয়ের দিন)কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। কাজেই তার ঘাস উৎপাটন করা যাবে না, তার গাছ কাটা যাবে না, শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সেখানে পড়ে থাকা (হারানো) বস্তু উঠিয়ে নেওয়া যাবে না, তবে হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা প্রদানকারীর জন্য (অনুমতি থাকবে )। তখন আব্বাস (রাঃ) বললেন, তবে ইয্‌খির ঘাস, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য এবং আমাদের কবরগুলির জন্য প্রয়োজন। তখন তিনি বললেন : ইয্‌খির ব্যতীত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরীম থেকে বর্ণনা করেন, আমাদের কবর ও বাগী ঘরের জন্য। আর আবান ইবনু সালিহ্‌ (রহঃ) সাফিয়্যা বিন্‌ত শায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি অনুরূপ বলতে শুনেছি আর মুজাহিদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বলেন, তাদের কর্মকার ও ঘর-বাড়ীর জন্য।

হাদীস নং-১২৬৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ‌ ইবনু উবাই (মুনাফিক সর্দারকে) কবর দেওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (কবরের) কাছে আসলেন এবং তিনি তাকে বের করার নির্দেশ দিলে তাকে (কবর থেকে) বের করা হল। তখন তিনি তাকে তার (নিজের) দু’ হাঁটুর উপরে রাখলেন, নিজের (মুখের) লালা (তার উপরে ফুঁকে) দিলেন এবং নিজের জামা তাকে পরিয়ে দিলেন। আল্লাহ সমধিক অবগত। সে আব্বাস (রাঃ)-কে একটি জামা পরতে দিয়েছিল। আর সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিধানে তখন দু’টি জামা ছিল। আবদুল্লাহ‌ ইবনু উবাই)-এর পুত্র (আবদুল্লাহ‌ ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) বলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার (পবিত্র) দেহের সাথে জড়িয়ে থাকা জামাটি আমার পিতাকে পরিয়ে দিন। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, তারা মনে করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জামা আবদুল্লাহ‌ ইবনু উবাই)-কে পরিয়ে দিয়েছিলেন, তার কৃত (ইহসানের) বিনিময় স্বরূপ।

হাদীস নং-১২৬৯। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উহুদ যুদ্ধের সময় উপস্থিত হল, তখন রাতের বেলা আমার পিতা আমাকে ডেকে বললেন, আমার এমনই মনে হয় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা প্রথমে শহীদ হবেন, আমি তাঁদের মধ্যে একজন হব। আর আমি আমার (মৃত্যুর) পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত তোমার চাইতে অধিকতর প্রিয় কাউকে রেখে যাচ্ছি না। আমার যিম্মায় করয রয়েছে। তুমি তা পরিশোধ করবে। তোমার বোনদের ব্যাপারে সদোপদেশ গ্রহণ করবে। (জাবির (রাঃ) বলেন) পরদিন সকাল হলে (আমরা দেখলাম যে) তিনই প্রথম শহীদ। তাঁর কবরে আর একজন সাহাবীকে তাঁর সাথে দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে অন্য একজনের সাথে (একই) কবরে তাঁকে রাখা আমার মনে ভাল লাগল না। তাই ছয় মাস পর আমি তাঁকে (কবর থেকে) বের করলাম এবং দেখলাম যে, তাঁর কানে সামান্য চিহ্ন ব্যতীত তিনি সেই দিনের মতই (অক্ষত ও অবিকৃত) রয়েছেন, যে দিন তাঁকে (কবরে) রেখেছিলাম।

হাদীস নং-১২৭০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে আরেকজন শহীদকে তাফন করা হলে আমার মন তাতে তুষ্ট তহে পারল না। অবশেষে আমি তাঁকে (কবর থেকে) বের করলাম এবং একটি পৃথক কবরে তাঁকে দাফন করলাম।

হাদীস নং-১২৭১। আবদান (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’জনকে একত্র করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? দু’জনের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হলে প্রথমে তাঁকে লাহ্‌দ কবরে রাখতেন। তারপর ইরশাদ করেন : কিয়ামতের দিন আমি তাঁদের জন্য সাক্ষী হব। তিনি রক্তমাখা অবস্থায়ই তাঁদের দায়ন করার আদেশ করলেন এবং তাঁদের পোসলও দেননি।

হাদীস নং-১২৭২। আবদান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে একটি দলের অন্তর্ভূক্ত হয়ে ইবনু সাইয়াদ-এর (বাড়ীর) দিকে গেলেন। তারা তাকে ইবনু সাইয়াদকে) বনূ মাগালা দূর্গের পাশে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলাধূলারত পেলেন। তখন ইবনু সাইয়াদ বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী হয়েছিল। সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আগমণ অনুভব করার আগেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? ইবনু সাইয়াদ তাঁর দিকে দৃষ্টি করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। এরপর সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন : আমি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল) গণের প্রতি ঈমান এনেছি। তারপর তিনি তাকে ইবনু সাইয়াদকে) জিজ্ঞাসা করলেন : কুমি কি দেখে থাক? ইবনু সাইয়াদ বলল, আমার কাছে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী ইগমণ করে থাকে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : ব্যাপারটি তোমার কাছে বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : আমি একটি বিষয়ে তোমার থেকে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। (বলতো সেটি কি?) ইবনু সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে “আদ্‌-দুখ্‌খু”। তখ তিনি ইরশাদ করলেন : তুমি লাঞ্ছিত হও! তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : যদি সে সে-ই (অর্থাৎ মাসীহ্‌ দাজ্জাল) হলে থাকে, তা হলে তাকে কাবূ করার ক্ষমতা তোমাকে দেওয়া হবে না। আর যদি সে সে-ই (দাজ্জাল) না হয়, তা হলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমর কোন কল্যাণ নেই। রাবী সালিম (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমণ করলেন। যেখানে ইব্‌‌ন সাইয়াদ ছিল। ইবনু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার আগেই ইবনু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর থেকে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ১­­ ইবনু সাইয়াদের মা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলেছেন। সে তখন ইবনু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবনু সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মদ; তখন ইবনু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : সে ইবনু সাইয়াদের মা)তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেতো। শু’আইব (রহঃ) তাঁর হাদীসে “ফারাফাদাহু” বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, “রামরামাতু” অথবা “জামজামাতু” এবং উকাইল (রহঃ) বলেছন, “রামরামাতু” আর মা’মার বলেছেন “রামজাতু”। ১ “ফারাফাদাহু”, “রামরামাতু”, “জামজামাতু”, “রামরামাতু”, “রামজাতু” শব্দগুলি সমার্থকবোধক। অর্থাৎ অস্পষ্ট ও গুনগুন শব্দ।

হাদীস নং-১২৭৩। সুলাইমান ইবনু হার্‌ব (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বালক, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমত করত, সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসে তাকে বললেন : তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল, সে তার কাছেই ছিল, পিতা তাকে বলল, আবূল কাসিম (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুনিয়াত) এর কথা মেনে নাও, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে বের হয়ে যাওযঅর সময় ইরশাদ করলেন : যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন।

হাদীস নং-১২৭৪। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ)ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার মা (লুবাবাহ্‌ বিনত হারিস) মুসতায’আফীন (দুর্বল, অসহায়) এর অন্তর্ভু্ক্ত ছিলাম। আমি ছিলাম না-বালিগ শিশুদের মধ্যে আর আমার মা ছিলেন মহিলাদের মধ্যে।

হাদীস নং-১২৭৫। আবূল ইয়ামান রহ শু’আইব রহ থেকে বর্ণিত যে, ইবনু শিহাব রহ বলেছেন, নবজাত শিশু মারা গেলে তাদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিতরাত (তাওরাত) এর উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাত ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু স্বরবে কেঁদে থাকলে তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাঁধবে, তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাংগ সন্তান। কারণ, আবূ হুরায়রা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তা মা-বাপ তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কানকাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষেরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেন-== আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ৩০)

হাদীস নং-১২৭৬। আবদান রহ … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তা মা-বাপ তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাংগ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও? পরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেন-== আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ৩০)

হাদীস নং-১২৭৭। ইসহাক রহ … সায়ীদ ইবনু মূসা ইয়্যাব রহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল ইবনু হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়্যা ইবনু মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেন, চাচাজানো! ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর অসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হবে? এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে কালিমা পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়। এ প্রসংগে আল্লাহ পাক নাযিল করেন, == নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র জন্য সংগত নয়… (সূরা তাওবা:১১৩)।

হাদীস নং-১২৭৮। ইয়াহইয়া রহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দু’টির বাসিন্দাদের আযাব দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, এদের দু’জনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে অথচ তাদের এমন গুনাহর জন্য আযাব দেওয়া হচ্ছে না (যা থেকে বিরত থাকা) দু:রূহ ছিল। তাদের একজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’ভাগে বিভক্ত করলেন, তারপর প্রতিটি কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বললেনঃ ডাল দু’টি না শুকান পর্যন্ত আশা করি তাদের আযাব হালকা করা হবে।

হাদীস নং-১২৭৯। উসমান রহ আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বাকীউল গারফাদ(কবরস্থানে)এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আগমণ করলেন। তিনি উপবেশন করলে আমরাও তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি নীচের দিকে তাকিয়ে তাঁর ছড়িটি দ্বারা মাটি খুদতে লাগলেন। এরপর বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, অথবা বললেন, এমন কোন সৃষ্ট প্রাণী নেই, যার জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে জায়গা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি আর এ কথা লিখে দেওয়া হয়নি যে, সে দুর্ভাগা হবে কিংবা ভাগ্যবান। তখন এক ব্যাক্তি আরয করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাহলে কি আমরা ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করে আমল করা ছেড়ে দিব না? কেননা, আমাদের মধ্যে যারা ভাগ্যবান তারা অচিরেই ভাগ্যবানদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। আর যারা দুর্ভাগা তারা অচিরেই দুর্ভাগ্যদের আমলের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বললেন, যারা ভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যের আমল সহজ করে দেওয়া হয় আর ভাগ্যাহতদের জন্য দুর্ভাগ্যের আমল সহজ করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, == == কাজেই যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে । (সূরা লাইল: ৫-১০)

হাদীস নং-১২৮০। মূসা’দ্দাদ রহ সাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যাক্তি ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্মের (অনুসারী হওয়ার) ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা হলফ করে, ** সে যেমন বলল, তেমনই হবে আর যে ব্যাক্তি কোন ধারালো লোহা দিয়ে আত্মহত্যা করে তাকে তা দিয়েই জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) বলেন, জারীর ইবনু হাযিম (রহঃ) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান (রহঃ) থেকে, তিনি বলেন, জুনদার (রহঃ) এই মসজিদে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাই নি এবং আমরা এ আশংকাও করিনি যে, জুনদান (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যাক্তির (দেহে) যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ পাক বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।

হাদীস নং-১২৮১। আবূল ইয়ামান রহ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যাক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নাম (অনুরূপভাবে বর্শা বিঁধতে থাকবে।

হাদীস নং-১২৮২। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর রহ উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল১ মারা গেলে তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আহবান করা হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি ইবনু উবাই-এর জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুনেগুনে পুনরাবৃত্তি করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, উমর, সরে যাও! আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার ব্যাপারে) ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তা হলে আমি অবশ্যই তার চাইতে অধিক বার মাফ চাইতাম। উমর (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারা জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন এবং ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের এ দু’টি আয়াত নাযিল হল == তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক। (সূরা তাওবা: ৮৪) রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে আমার ঐ দিনের দু:সাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল) ই সমধিক অবগত। ১ মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ‌র পিতার নাম ছিল উবাই, আর মাতার নাম ছিল সালূল। তাই তাকে ইবনু সালূলও বলা হত।

হাদীস নং-১২৮৩। আদম রহ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার প্রশংসা করলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে তাঁরা অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। (এবারও) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। তখন উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আরয করলেন, (ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!)কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেন, এ (প্রথম) ব্যাক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ(দ্বিতীয়) ব্যাক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীর বুকে আল্লাহর সাক্ষী।

হাদীস নং-১২৮৪। আফফান ইবনু মুসলিম রহ আবূল আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদিনায় আসলাম, তখন সেখানে একটি রোগ(মহামারী আকারে) ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। উমর (রাঃ) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। এরপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। এরপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবূল আসওযাদ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আমীরূল মু’মিনীন! কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলমান সম্পর্কে চার ব্যাক্তি ভাল হওয়ার সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। (উমর রা)বলেন, তখন আমরা বলেছিলাম, তিন জন হলে? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু’জন হলে? তিনি বললেন, দু’জন হলেও। তারপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাঁকে জিজ্ঞাসা করি নি।

হাদীস নং-১২৮৫। হাফস ইবনু উমর রহ বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’মিন ব্যাক্তিকে যখন তার কবরে বসানো হয় তখন তার কাছে উপস্থিত করা হবে ফিরিশতাগণকে। তারপর (ফিরিশতাগণের জিজ্ঞাসার জওয়াবে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে যে == আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। ঐ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছে আল্লাহর কালাম- আল্লাহ পার্থিব জীবনে ও আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে যারা ঈমান এনেছে শ্বাশ্বত বাণীতে(কালেমা তাইয়েবা)। (১৪:২৭)

হাদীস নং-১২৮৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার রহ শু’বা সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন যে, == (আল্লাহ অবিচল রাখবেন যারা ঈমান এনেছে ১৪:২৭) এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল।

হাদীস নং-১২৮৭। আলী ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বদরে নিহত) গর্তবাসীদের১ দিকে ঝুঁকে দেখে বললেনঃ তোমাদের সাথে তোমাদের রব যে ওয়াদা করেছিলেন, তা তোমরা বাস্তব পেয়েছো তো? তখন তাঁকে বলা হল, আপনি মৃতদের ডেকে কথা বলছেন? (ওরা কি তা শুনতে পায়?) তিনি বললেনঃ তোমরা তাদের চাইতে বেশী শুনতে পাও না, তবে তারা সাড়া দিতে পারছে না। ১ পুরাতন গর্ত বা খাদ যে গর্তের মুখ বন্ধ করা হয়নি। বদর যুদ্ধে নিহত মুশরিক দলনতা আবূ জাহল গং দের একটি গর্তে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটাকেই বদরের গর্ত বা খাদ বলা হয়।

হাদীস নং-১২৮৮। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ রহ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তারা এখন ভালভাবে জানতে (ও বুঝতে) পেরেছে যে, (কবর আযাব প্রসংগে) আমি তাদের যা বলতাম তা বাস্তব। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন: আপনি (হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!)নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না।

হাদীস নং-১২৮৯। আবদান রহ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক আয়িশা (রাঃ) এর কাছে এসে কবর আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁকে (দু’আ করে) বলল, আল্লাহ আপনাকে কবর আযাব থেকে রক্ষা করুন। পরে আয়িশা (রাঃ) কবর আযাব সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ হাঁ, কবর আযাব (সত্য)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন কোন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। [এ হাদীসের বর্ণনায়] গুণদার অধিক উল্লেখ করেছেন যে, কবর আযাব বাস্তব সত্য।

হাদীস নং-১২৯০। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইমান রহ উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, তাতে তিনি কবরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলে মুসলমানগণ ভয়ার্ত চিৎকার করতে লাগলেন।

হাদীস নং-১২৯১। আইয়াশ ইবনু ওয়ালিদ রহ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (মৃত) বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথী এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে সে(মৃত ব্যাক্তি) তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু’জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যাক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন মু’মিন ব্যাক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল)। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানস্থলটির দিকে নযজ কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থানস্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে ফেলবে। কাতাদা রহ বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যাক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি (কাতাদ) পুনরায় আনাস (রাঃ) এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি (আনাস রা)বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যাক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যাক্তি (মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কি বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানিনা। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানব ও জ্বীন) ব্যতিত তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।

হাদীস নং-১২৯২। মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না রহ আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) সূর্য ডুবে যাওয়ার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন। তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেনঃ ইয়াহুদীদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (এটা আযাব দেওয়ার বা আযাবের ফিরিশতাগণের বা ইয়াহুদীদের আওয়াজ।)(ইমাম বুখারী রহ বলেন) নযর রহ আবূ আইয়ূব (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে (অনুরূপ) বলেছেন।

হাদীস নং-১২৯৩। মু’আল্লা রহ বিনতে খালিদ ইবনু সায়ীদ ইবনু আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কবর আযাব থেকে পানাহ চাইতে শুনেছেন।

হাদীস নং-১২৯৪। মুসলিম ইবনু ইবরাহীম রহ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু্’আ করতেন, ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি কবর আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে।

হাদীস নং-১২৯৫। কুতাইবা রহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন- ঐ দু’জনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে আর কোন কঠিন কাজের কারণে তাদের আযাব দেওয়া হচ্ছে না। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ (আযাব দেওয়া হচ্ছে) তবে তাদের একজন পরনিন্দা করে বেড়াত, অন্যজন তার পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। (রাবী বলেন) এরপর তিনি একটি ডাল নিয়ে তা দু’খণ্ডে ভেঙ্গে ফেললেন। তারপর সে দু’ খণ্ডের প্রতিটি এক এক কবরে পুঁতে দিলেন। এরপর বললেনঃ আশা করা যায় যে এ দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আযাব লঘু করা হবে।

হাদীস নং-১২৯৬। ইসমাঈল রহ আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থানস্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয়, এ হচ্ছে তোমার অবস্থানস্থল, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ পাক তোমাকে উত্থিত করা পর্যন্ত।

হাদীস নং-১২৯৭। কুতাইবা রহ আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মৃত ব্যাক্তিকে খাটিয়ায় রেখে লোকেরা যখন কাঁধে বহন করে নিয়ে যায় তখন সে নেককার হলে বলতে থাকে, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আর সে নেককার না হলে বলতে থাকে হায় আপসোস! এটাকে নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ ব্যতিত সব কিছুই তার এ আওয়াজ শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনতে পেলে অবশ্যই বেহুঁশ হয়ে যেত।

হাদীস নং-১২৯৮। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম রহ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে কোন মুসলিম ব্যাক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা বালিগ হয়নি, আল্লাহ পাক তাদের প্রতি তাঁর রহমতের ফযলে সে ব্যাক্তিকে (মা-বাপকে) জান্নাতে দাখিল করবেন।

হাদীস নং-১২৯৯। আবূল ওয়ালিদ রহ বারা’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তনয়) ইবরাহীম (রাঃ) এর ওফাত হলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাঁর জন্য তো জান্নাতে একজন দুধ-মা রয়েছেন।

হাদীস নং-১৩০০। হিববান ইবনু মূসা রহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মুশরিকদের শিশু সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আল্লাহ তাদের সৃষ্টি লগ্নেই তাদের ভবিষ্যৎ আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

হাদীস নং-১৩০১। আবূল ইয়ামান রহ … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মুশরিকদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন: আল্লাহ তাদের ভবিষ্যৎ আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

হাদীস নং-১৩০২। আদম রহ আবূ হুরায়রা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: প্রত্যেক নবজাতক ফিতরতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদী বা খৃস্টান অথবা অগ্নি উপাসকরূপে রুপান্তরিত করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাংগ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ?

হাদীস নং-১৩০৩। মূসা ইবনু ইসমাঈল রহ সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ফজর) সালাত (নামায/নামাজ) শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের কেউ গত রাতে কোন স্বপ্ন দেখেছ কি? (বর্ণনাকারী) বলেন, কেউ স্বপ্ন দেখে থাকলে তিনি তা বিবৃত করতেন। তিনি তখন আল্লাহর মর্জি মুতাবিক তা’বীর বলতেন। একদিন আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের কেউ কি কোন স্বপ্ন দেখেছ? আমরা বললাম, জী না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ গত রাতে আমি দেখলাম, দু’জন লোক এসে আমার দু’হাত ধরে আমাকে পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে চললো। হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যাক্তি বসে আছে আর ব্যাক্তি লোহার আকড়া হাতে দাঁড়িয়ে আছে। (ইমাম বুখারী রহ বলেন) আমাদের এক সাথি মূসা রহ বর্ণনা করেছেন যে, দণ্ডায়মান ব্যাক্তি উপবিষ্ট ব্যাক্তির (এক পাশের) চোয়ালটা এমনভাবে আকড়া দ্বারা বিদ্ধ করছিল যে, তা (চোয়াল বিদীর্ণ করে) মস্তকের পশ্চাঁদভাগ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল। তারপর অপর চোয়ালটিও পূর্ববৎ বিদীর্ণ করছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি হচ্ছে? সাথীদ্বয় বললেন, (পরে কথা হবে এখন) চলুন। আমরা চলতে চলতে চিৎ হয়ে শায়িত এক ব্যাক্তির পাশে এসে উপস্থিত হলাম, তার শিয়রে পাথর হাতে এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ করে দিচ্ছিল। নিক্ষিপ্ত পাথর দূরে গড়িয়ে যাওয়ার ফলে তা তুলে নিয়ে শায়িত ব্যাক্তির নিকট ফিরে আসার পূর্বেই বিচূর্ণ মাথা পূর্ববৎ জোড়া লেগে যাচ্ছিল। সে পুনরায় মাথার উপরে পাথর নিক্ষেপ করছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকটি কে? তাঁরা বললেন, চলুন। আমরা অগ্রসর হয়ে চুলার ন্যায় এক গর্তের নিকট উপস্থিত হলাম। গর্তের উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ ও নীচের অংশ প্রশস্থ এবং এর নীচদেশ থেকে আগুন জ্বলছিল। আগুন গর্ত মুখের নিকটবর্তী হলে সেখানের লোকগুলোও উপরে চলে আসত যেন তারা গর্ত থেকে বের হয়ে যাবে। আগুণ ক্ষীণ হয়ে গেলে তারাও (তলদেশে) ফিরে যায়। গর্তের মধ্যে বহুসংখ্যক উলঙ্গ নারী-পুরুষ ছিল। জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? তাঁরা বললেন, চলুন। আমরা চলতে চলতে একটি রক্ত প্রবাহিত নদীর নিকট উপস্থিত হলাম। নদীর মাঝখানে এক ব্যাক্তি দাঁড়ানো ছিল, (ইমাম বুখারী রহ বলেন) ইয়াযীদ ইবনু হারূন ও ওহাব ইবনু জারীল ইবনু হাযিম রহ বর্ণনায় ==রয়েছে। নদীর তীরে অপর এক ব্যাক্তি যার সামনে ছিল পাথর। নদীর মাঝখানের লোকটি নদী থেকে বের হয়ে আসার জন্য অগ্রসর হলেই তীরে দাঁড়ানো লোকটি সে ব্যাক্তির মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করত, এতে সে তাকে পূর্বস্থানে ফিরিয়ে দিত। এমনভাবে যতবার সে তীরে উঠে আসতে চেষ্টা করে ততবার সে ব্যাক্তি তার মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করে পূর্বস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য করে। আমি জানতে চাইলাম, এ ঘটনার কারণ কি? তাঁরা বললেন, চলতে থাকুন। আমরা চলতে চলতে একটি সবুজ বাগানে উপস্থিত হলাম। এতে একটি বড় গাছ ছিল। গাছটির গোড়ায় একজন বয়:বৃদ্ধ লোক ও বেশ কিছু বালক-বালিকা ছিল। হঠাৎ দেখি যে, গাছটির সন্নিকটে এক ব্যাক্তি সামনে আগুন রেখে তা প্রজ্জলিত করছে। সাথীদ্বয় আমাকে নিয়ে গাছে আরোহণ করে এমন একটি বাড়ীতে প্রবেশ করালেন যে, এর চেয়ে সুদৃশ্য বাড়ী পূর্বে আমি কখনো দেখিনি। বাড়ীতে বহু সংখ্যক বৃদ্ধ, যুবক, নারী এবং বালক-বালিকা ছিল। এরপর তাঁরা আমাকে সেখান হতে বের করে নিয়ে গাছের আরো উপরে আরোহণ করে অপর একটি বাড়ীতে প্রবেশ করালেন। এটা পূর্বাপেক্ষা অধিক সুদৃশ্য ও সুন্দর। বাড়ীটিতে কতিপয় বৃদ্ধ ও যুবক অবস্থান করছিলেন। আমি বললাম, আজ রাতে আপনারা আমাকে (বহুদূর পর্যন্ত) ভ্রমণ করালেন। এখন বলুন, যা দেখলাম তার তারপর্য কী? তাঁরা বললেন, হাঁ, আপনি যে ব্যাক্তির চোয়াল বিদীর্ণ করার দৃশ্য দেখলেন সে মিথ্যাবাদী; মিথ্যা কথা বলে বেড়াতো, তার বিবৃত মিথ্যা বর্ণনা ক্রমাগত বর্ণিত হয়ে দূর দূরান্তে পৌঁছে যেতো। কিয়ামত পর্যন্ত তারা সাথে এ ব্যবহার করা হবে। আপনি যার মাথা চূর্ণ করতে দেখলেন, সে এমন ব্যাক্তি যাকে আল্লাহ কুরআনের শিক্ষা দান করেছিলেন, কিন্তু রাতের বেলায় সে কুরআন থেকে বিরত হয়ে নিদ্রা যেতো এবং দিনের বেলায় কুরআন অনুযায়ী আমল করতো না। তার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত এরূপই করা হবে। গর্তের মধ্যে যাদেরকে আপনি দেখলেন, তারা ব্যভিচারী। (রক্ত প্রবাহিত) নদীতে আপনি যাকে দেখলেন, সে সুদখোর। গাছের গোড়ায় যে বৃদ্ধ ছিলেন তিনি ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর চারপাশের বালক-বালিকারা মানুষের সন্তান। যিনি আগুন জ্বালাচ্ছিলেন তিনি হলেন, জাহান্নামের খাযিন মালিক নামক ফিরিশতা। প্রথম যে বাড়ীতে আপনি প্রবেশ করলেন তা সাধারণ মু’মিনদের বাসস্থান। আর এ বাড়ীটি হল শহীদগণের আবাস। আমি (হলাম) জিবরাঈল আর ইনি হলেন মীকাঈল। (এরপর জিবরাঈল আমাকে বললেন) আপনার মাথা উপরে উঠান। আমি উঠিয়ে মেঘমালার ন্যায় কিছু দেখতে পেলাম। তাঁরা বললেন, এটাই হল আপনার আবাসস্থল। আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে দিন আমি আমার আবাসস্থলে প্রবেশ করি। তাঁরা বললেন, এখনো আপনার হায়াতের কিছু সময় অবশিষ্ট রয়ে গেছে যা পূর্ণ হয়নি। অবশিষ্ট সময় পূর্ণ হলে অবশ্যই আপনি নিজ আবাসে চলে আসবেন।

হাদীস নং-১৩০৪। মু’আল্লা ইবনু আসা’দ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ বকর (রাঃ)এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কয় খণ্ড কাপড়ে তোমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কাফন দিয়েছিলে? আয়িশা (রাঃ) বললেন, তিন খণ্ড সাদা সাহুলী কাপড়ে, এগুলোতে (সেলাইকৃত) জামা ও পাগড়ী ছিল না। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন? আয়িশা (রাঃ) বললেন, সোমবার। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আজ কি বার? তিনি (আয়িশা রা)বললেন, আজ সোমবার। তিনি (আবূ বকর রা)বললেন, আমি আশা করি এখন থেকে আগত রাতের মধ্যে (আমার মৃত্যু হবে)। এরপর অসুস্থকালীন আপন পরিধেয় কাপড়ের প্রতি লক্ষ্য করে তাতে জাফরানী রং এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, আমার এ কাপড়টি ধুয়ে তার সাথে আরো দু’খণ্ড কাপড় বৃদ্ধি করে আমার কাফন দিবে। আমি (আয়িশ) বললাম, এটা (পরিধেয় কাপড়টি) পুরাতন। তিনি বললেন, মৃত ব্যাক্তির চেয়ে জীবিতদের নতুন কাপড়ের প্রয়োজন অধিক। আর কাফন হল বিগলিত শবদেহের জন্য। তিনি মঙ্গলবার রাতের সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন, প্রভাতের পূর্বেই তাঁকে দাফন করা হয়।

হাদীস নং-১৩০৫। সায়ীদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমার জননীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সাদাকা করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সাদাকা করলে তিনি এ সাওয়াব পাবেন কি? তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ (অবশ্যই পাবে)।

হাদীস নং-১৩০৬। ইসমাঈল ও মুহাম্মদ ইবনু হারব (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগশয্যায় (স্ত্রীগণের নিকট অবস্থানের) পালার সময় কাল জানতে চাইতেন। আমার অবস্থান আজ কোথায় হবে? আগামী কাল কোথায় হবে? আয়িশা (রাঃ) এর পেলা বিলম্বিত হচ্ছে বলে ধারণা করেই এ প্রশ্ন করতেন। (আয়িশা (রাঃ) বলেন) যেদিন আমার পেলা আসলো, সেদিন আল্লাহ তাঁকে আমার কণ্ঠদেশ ও বক্ষের মাঝে (হেলান দেওয়া অবস্থায়) রূহ কবয করলেন এবং আমার ঘরে তাঁকে দাফন করা হয়।

হাদীস নং-১৩০৭। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা’নত হোক। কারণ, তারা নিজেদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। (রাবী উরওয়া বলেন) এরূপ আশংকা না থাকলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরকে (ঘরের বেষ্টনীতে সংরক্ষিত না রেখে) খোলা রাখা হতো। কিন্তু তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশংকা করেন বা আশংকা করা হয় যে, পরবর্তীতে একে মসজিদে পরিণত করা হবে। রাবী হিলাল (রহঃ) বলেন, উরওয়া আমাকে (আবূ আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি।

হাদীস নং-১৩০৮। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) সুফিয়ান তাম্মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওযা উটের কুচের ন্যায় (উঁচু) দেখেছেন।

হাদীস নং-১৩০৯। ফারওয়া (রহঃ) উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইবনু আব্দুল মালিক এর শাসনামলে যখন (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওযার) বেষ্টনী দেওয়াল ধ্বসে পড়ে, তখন তাঁরা সংস্কার করতে আরম্ভ করলে একটি পা প্রকাশ পায়, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কদম মুবারক বলে ধারণা করার কারণে লোকেরা খুব ঘাবড়ে যায়। সনাক্ত করার মত কাউকে তারা পায় নি। অবশেষে উরওয়া (রাঃ) তাদের বললেন, আল্লাহর কসম! এ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কদম মুবারক নয় বরং এতো উমর (রাঃ) এর পা। (ইমাম বুখারী বলেন) হিশাম (রহঃ) তার পিতা সূত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) কে অসিয়্যত করেছিলেন, আমাকে তাঁদের (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর দু’ সাহাবী) পাশে দাফন করবে না। বরং আমাকে আমার সঙ্গিনী(অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন)-দের সাথে গারাকাদে বাকীতে দাফন করবে। (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পাশে সমাহিত হওয়ার কারণে আমি যেন বিশেস প্রশংসিত না হই।

হাদীস নং-১৩১০। কুতাইবা (রহঃ) আমর ইবনু মায়মুন আওদী রাজীআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রাজীআল্লাহু আনহুকে দেখেছি, তিনি আপন পুত্র আবদুল্লাহ রাজীআল্লাহু আনহুকে ডেকে বললেন, তুমি উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রাজীআল্লাহু আনহাকে গিয়ে বল, উমর ইবনু খাত্তাব রাজীআল্লাহু আনহু আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। এরপর আমাকে আপন সাথীদ্বয় (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবূ বকর রাজীআল্লাহু আনহু)-এর পাশে দাফন করতে তিনি রাজি আছেন কি না?১ আয়িশা রাজীআল্লাহু আনহা বললেন, আমি পূর্ব থেকেই নিজের জন্য এর আশা পোষণ করতাম, কিন্তু আজ উমর রাজীআল্লাহু আনহুকে নিজের উপর প্রাধান্য দিচ্ছি। আবদুল্লাহ রাজীআল্লাহু আনহু ফিরে এলে উমর রাজীআল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি বার্তা নিয়ে এলে? তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! তিনি (আয়িশা রাজীআল্লাহু আনহা) আপনার জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন। উমর রাজীআল্লাহু আনহু বললেন, সেখানে শয্যা লাভ করাই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মৃত্যুর পর আমার শবদেহ বহন করে (আয়িশা রাজীআল্লাহু আনহা এর নিকট উপস্থিত করে) তাঁকে সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনু খাত্তাব (পুনরায়) আপনার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। তিনি অনুমতি দিলে, সেখানে আমাকে দাফন করবে। অন্যথায় মুসলমানদের সাধারণ কবরস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। তারপর উমর রাজীআল্লাহু বলেন, এ কয়েকজন ব্যাক্তি যাঁদের সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন, তাঁদের অপেক্ষা অন্য কাউকে আমি এ কিলাফতের (দায়িত্ব পালনে) অধিক যোগ্য বলে মনে করি না। তাই আমার পর তাঁরা (তাঁদের মধ্য থেকে) যাঁকে খলীফা মনোনীত করবেন তিনি খলীফা হবেন। তোমরা সকলেই তাঁর আদেশ মেনে চলবে, তাঁর আনুগত্য করবে। এ বলে তিনি উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবনু আওফ ও সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস রাজীআল্লাহু আনহুম-এর নাম উল্লেখ করলেন। এ সময়ে এক আনসারী যুবক উমর রাজীআল্লাহু আনহু এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহ প্রদত্ত সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি ইসলামের ছায়াতলে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন যা আপনিও জানেন। এরপর আপনাকে খলীফা নিযুক্ত করা হয় এবং আপনি ন্যায়বিচার করেছেন। সর্বোপরি আপনি শাহাদাত লাভ করছেন। উমর রাজীআল্লাহু আনহু বললেন, হে ভাতিজা! যদি তা আমার জন্য লাভ লোকসানের না হয়ে বরাবর হয়, তবে কতই না ভাল হবে। (তিনি বললেন) আমার পরবর্তী খলীফাকে ওয়াসিয়্যাত করে যাচ্ছি, তিনি যেন প্রথম দিকের মুহাজিরদের ব্যাপারে যত্নবান হন, তাঁদের হক আদায় করে চলেন, যেন তাদের যথাযথ সম্মান করেন। আমি তাঁকে আনসারদের ব্যাপারেও সদাচারের উপদেশ দেই, যারা ঈমান ও মদিনাকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন, যেন তাঁদের মধ্যকার সৎকর্মশীলদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং তাঁদের মধ্যকার (লঘু) অপরাধীকে ক্ষমা করেদেওয়া হয়। সর্বশেষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দায়িত্বভূক্ত (সর্বস্তরের মু’মিনদের সম্পর্কে) সতর্ক করে দিচ্ছি যেন মু’মিনদের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা হয়, তাদের রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা হয় এবং সাধ্যাতীত কোন দায়িত্ব তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাওযা মুবারক আয়িশা (রাঃ)- এর ঘর বিধায় এর মালিকানা তাঁর থাকায় উমর (রাঃ)- এর দাফনের অনুমতির প্রয়োজন ছিল।

হাদীস নং-১৩১১। আদম (রহঃ) আয়িশা রাজীআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা মৃতদের গালমন্দ কর না। কেননা, তারা আপন কৃতকর্মের ফলাফল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। (ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন) আবদুল্লাহ ইবনু আব্দুল কুদ্দুস ও মুহাম্মাদ ইবনু আনাস (রহঃ), আমাশ (রহঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনু জা’দ, ইবনু আর’আরা ও ইবনু আবূ আদী (রহঃ), শু’বা (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আদম (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন।

হাদীস নং-১৩১২। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ লাহাব লা’নাতুল্লাহি আলাইহি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে বললো, সারা দিনের জন্য তোমার ক্ষতি হোক! (তার এ কথার পরিপেক্ষিতে) অবতীর্ণ হয়: আবূ লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং সেও ধ্বংস হোক!

 

পোস্টটি শেয়ার করুণ

সর্বশেষ আপডেট: মে ১০th, ২০১৬ সময়: ২:০৬ অপরাহ্ণ, আপডেট করেছেন মুনজুরুল আলম (এডমিন)


লেখক পরিচিতিঃ- মুনজুরুল আলম (এডমিন)

আসসালামু আলাইকুম। আমি মুনজুরুল আলম। বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আমি ছোট বেলা থেকে লেখলেখি করায় মজা পাই। আমি মনে করি জানার কোন শেষ নেই। আমি সবার কাছ থেকে শিখতে পছন্দ করি। আর আমার শেখা তখনই স্বার্থক হবে যখন তা অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারব।আর আমি চাই সবাইকে আমার ওয়েবসাইটে মেধা বিকাশের সুগোয দিতে। তাই আপনিও পারেন আমাদের ওয়েব সাইটের একজন লেখক হতে। তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.