সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, অধ্যায়-১১, বিষয়-জুমুয়ার সালাত


পোস্ট করা হয়েছে:- এপ্রি ২৭ ২০১৬| পোস্টটি করেছেন:- |পোস্টটি পড়া হয়েছে:- 423বার
পোস্টটি শেয়ার করুণ

image of bukhari sharif

হাদীস নং-৮৩২। আবূ ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষ , কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা মর্যাদার দিক দিয়ে সবার আগে। পার্থক্য শুধু এই যে, তাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের আগে। তারপর তাদের সেদিন যেদিন তাদের জন্য ইবাদত ফরয করা হয়েছিল তারা মতানৈক্য করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে আল্লাহ আমাদের হিদায়াত করেছেন। কাজেই এ ব্যাপারে লোকেরা আমাদের পশ্চাতবর্তী। ইয়াহূদীদের (সম্মানিত দিন হল) আগামীকাল (শনিবার) এবং নাসারাদের আগামীপরশু (রোববার)।

হাদীস নং-৮৩৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) আসলে (তার আগে) সে যেন গোসল করে।

হাদীস নং-৮৩৪। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসমা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) জুম্মার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর প্রথম যুগের একজন মুহাজির সাহাবী এলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে ডেকে বললেন, এখন সময় কত? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই ঘরে ফিরে আসতে পারিনি। এমন সময় আযান শুনতে পেয়ে শুধু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিলাম। উমর (রাঃ) বললেন, কেবল উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই? অথচ আপনি জানেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের আদেশ দিতেন।

হাদীস নং-৮৩৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) — আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য।  

হাদীস নং-৮৩৬।আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ)— আমর ইবনু সুলাইম আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা কর্তব্য। আর মিসওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। আমর ইবনু সুলাইম) (রহঃ) বলেন, গোসল সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তা কর্তব্য। কিন্তু মিসওয়াক ও সুগন্ধি কর্তব্য কিনা তা আল্লাহই ভাল জানেন। তবে হাদীসে এরূপই আছে। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, আবূ বকর ইবনু মুনকাদির (রহঃ) হলেন মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ)-এর ভাই। কিন্তু তিনি আবূ বকর হিসাবেই পরিচিতি নন। বুকাইর ইবনু আশাজ্জ, সায়ীদ ইবনু আবূ হিলাল সহ অনেকে তাঁর থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ)-এর কুনিয়াত(উপনাম) ছিল আবূ বকর ও আবূ আবদুল্লাহ।

হাদীস নং-৮৩৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জুম্মার দিন জানবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য আগমন করে সে যেন, একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যাক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন, একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুতবা প্রদানের জন্য বের হন তখন ফিরিশতাগণ যিকর শোনার জন্য হাজির হয়ে থাকেন।

হাদীস নং-৮৩৮। আবূ নু’আইম (রহঃ)— আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জুম্মার দিন উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করেন। উমর (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, সালাত (নামায/নামাজ) সময়মত আসতে তোমরা কেন বাধাগ্রস্থ হও? তিনি বললেন, আযান শোনার সাথে সাথেই তো আমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছি। তখন উমর (রাঃ) বললেন , তোমরা কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একথা বলতে শোননি যে, যখন তোমাদের কেউ জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) রওয়ানা হয়, তখন সে যেন গোসল করে নেয়।

হাদীস নং-৮৩৯। আদম (রহঃ) সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জুম্মার দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল থেকে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে এরপর বের হয় এবং দু’জন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, তারপর তার নির্ধারিত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে এবং ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে তার সে জুম্মা থেকে আরেক জুম্মা পর্যন্ত সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

হাদীস নং-৮৪০। আবূল ইয়ামান (রহঃ)— তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন গোসল কর এবং মাথা ধুয়ে ফেল যদিও তোমরা জুনুবী না হয়ে থাক এবং সুগন্ধি ব্যবহার কর। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, গোসল সম্পর্কে নির্দেশ ঠিকই আছে, কিন্তু সুগন্ধি সম্পর্কে আমার জানানেই।

হাদীস নং-৮৪১। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) – তাঊস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন জুম্মার দিন গোসল সংক্রান্ত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীর উল্লেখ করেন তখন আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পরিবারবর্গের সঙ্গে অবস্থান করতেন তখনও কি তিনি সুগন্ধি বা তেল ব্যবহার করতেন? তিনি বল্লেন, আমি তা জানিনা।

হাদীস নং-৮৪২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) মসজিদে নব্বীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোষাক (বিক্রি হতে) দেখে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন , ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যদি এটি আপনি খরীদ করতেন আর জুম্মার দিন এবং যখন আপনার কাছে প্রতিনিধিদল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি তো সে ব্যাক্তই পরিধান করে , আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই। এর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ ধরণের কয়েক জোড়া পোশাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি উমর (রাঃ)-কে প্রদান করেন। উমর (রাঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমাকে এটি পরিধান করতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোশাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরিধানের জন্য প্রদান করিনি। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তখন এটি মক্কায় তাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।

হাদীস নং-৮৪৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তা হলে প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর সাথে তাদের মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

হাদীস নং-৮৪৪। আবূ মা’মার (রহঃ)— আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মিসওয়াক সম্পর্কে তোমাদের অনেক বলেছি।

হাদীস নং-৮৪৫। মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর (রহঃ)— হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য উঠতেন তখন দাঁত মেজে মুখ পরিস্কার করে নিতেন।

হাদীস নং-৮৪৬। ইসমায়ীল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) একটি মিসওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে প্রবেশ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আব্দুর রাহমান! মিসওয়াকটি আমাকে দাও। সে তা আমাকে দিল। আমি ব্যবহৃত অংশ ভেঙ্গে ফেললাম এবং তা চিবিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দিয়ে তা দিয়ে মিসওয়াক করলেন।

হাদীস নং-৮৪৭। আবূ নু’আইম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম্মার দিন ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) (কোন সময়) এবং – এ দু’টি সূরা তিলাওয়াত করতেন। (সুরার নাম লেখা আরবি বোঝা যায়নি

হাদীস নং-৮৪৮। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মসজিদে জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) অনুষ্ঠিত হয় বাহরাইনে জুওয়াসা নামক স্থানে অবস্থিত আবূল কায়স গোত্রের মসজিদে।

হাদীস নং-৮৪৯। বিশর ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি , তোমরা সকলেই রক্ষনাবেক্ষণকারী। লাইস ইবনু সা’দ (রাঃ) আরো অতিরিক্ত বলেন, (পরবর্তী রাবী) ইউনুস (রহঃ) বলেছেন, আমি একদিন ইবনু শিহাব (রহঃ)-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা নামক স্থানে ছিলাম। তখন রুযাইক ইবনু হুকায়ম (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ)-এর নিকট লিখলেন, আপনি কি মনে করেন, আমি কি (এখানে) জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করব? রুযাইক (রহঃ) তখন সেখানে তাঁর জমির কৃষি কাজের তত্ত্বাবধান করতেন। সেখানে একদল সুদানী ও অন্যান্য লোক বাস করত। রুযাইক (রহঃ) সে সময় আইলা শহরের (আমীর) ছিলেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) তাঁকে জুম্মা কায়িম করার নির্দেশ দিয়ে লিখেছিলেন এবং আমি তাঁকে এ নির্দেশ দিতে শুনলাম। সালিম (রহঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই রক্ষনাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের (দায়িত্ব) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি, তাঁকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারবর্গের অভিভাবক, তাকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীগৃহের কর্ত্রী , তাকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। খাদেম তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ পুত্র তার পিতার ধন-সম্পদের রক্ষক এবং এগুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তোমরা সবাই রক্ষনাবেক্ষণকারী এবং সবাইকেই তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ‘ইমাম’ শব্দ বলতে রাষ্ট্রের কর্ণধার, যে কোন কাজের তত্ত্বাবধায়ক, ব্যবস্থাপক ও সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইমাম অর্থে ব্যবহৃত হয়।

হাদীস নং-৮৫০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) – আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যাক্তি জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) আসবে সে যেন গোসল করে। ”

হাদীস নং-৮৫১। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য জুম্মার দিন গোসল করা কর্তব্য।

হাদীস নং-৮৫২। মুসলিম ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা দুনিয়ায় (আগমনের দিক দিয়ে) সর্বশেষে। কিন্তু কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সবার আগে। তবে তাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে আমাদের আগে এবং আমাদের তা দেয়া হয়েছে তাদের পরে। তারপর এই দিন (শুক্রবার নির্ধারণ) সম্বন্ধে তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়েছে। আল্লাহ আমাদের এ শুক্রবার সম্পর্কে হিদায়াত দান করেছেন। পরের দিন (শনিবার) ইয়াহুদীদের এবং তারপরের দিন (রোববার) নাসারাদের। এরপর কিছুক্ষন নীরব থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক রয়েছে যে, প্রতি সাত দিনের এক দিন সে গোসল করবে, তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে। আবান ইবনু সালিহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর আল্লাহর হক রয়েছে যে , প্রতি সাত দিনের এক দিন সে যেন গোসল করে।

হাদীস নং-৮৫৩। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা মহিলাগণকে রাতে (সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য) মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিবে।

হাদীস নং-৮৫৪। ইউসুফ ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ)-এর স্ত্রী (আতিকাহ বিনত যায়িদ) ফজর ও ইশার সালাত (নামায/নামাজ)-এর জামা’আতে মসজিদে হাযির হতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কেন (সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য) বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, উমর (রাঃ) তা অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন। তিনি জবাব দিলেন, তা হলে এমন কি বাধা রয়েছে যে, উমর (রাঃ) স্বয়ং আমাকে নিষেধ করছেন না? বলা হল, তাঁকে বাধা দেয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে নিষেধ করো না।

হাদীস নং-৮৫৫। মূসা’দ্দাদ (রহঃ)—ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর মুয়াজ্জ্বীনকে এক বর্ষণ মুখর দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলবে না, বলবে, ‘সাললু ফী বুয়ুতিকুম’- তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চাইতে উত্তম ব্যাক্তই (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করেছেন। জুম্মা নিঃসন্দেহে জরুরী। আমি অপছন্দ করি যে, তোমাদেরকে মাটি ও কাদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলি।

হাদীস নং-৮৫৬। আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন তাদের বাড়ী ও উঁচু এলাকা থেকেও জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য পালাক্রমে আসতেন। আর যেহেতু তারা ধুলো-বালির মধ্য দিয়ে আগমন করতেন, তাই তাঁরা ধূলি মলিন ও ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাঁদের দেহ থেকে ঘাম বের হত। একদিন তাদের একজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট ছিলেন। তিনি তাঁকে বললেনঃ যদি তোমরা এ দিনটিতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে।

হাদীস নং-৮৫৭। আবদান (রহঃ) — ইয়াহইয়া ইবনু সায়ীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আমরাহ (রহঃ)-কে জুম্মার দিনে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আমরাহ (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, লোকজন নিজেদের কাজকর্ম নিজেরাই করতেন। যখন তারা দুপুরের পরে জুম্মার জন্য যেতেন তখন সে অবস্থায়ই চলে যেতেন। তাই তাদের বলা হল, যদি তোমরা গোসল করে নিতে।

হাদীস নং-৮৫৮। সুরাইজ ইবনু নু’মান (রহঃ) -আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন , যখন সূর্য হেলে যেত।

হাদীস নং-৮৫৯। আবদান (রহঃ) -আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রথম ওয়াক্তেই জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) যেতাম এবং জুম্মার পরে কাইলূলা (দুপুরের বিশ্রাম)করতাম।

হাদীস নং-৮৬০। মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর মুকাদ্দামী (রহঃ) আনাস ইবনু মালীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড শীতের সময় প্রথম ওয়াক্তেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। আর প্রখর গরমের সময় ঠাণ্ডা করে (বিলম্ব করে) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন; অর্থাৎ জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ)। ইউনুস ইবনু বুকাইর (রহঃ) আমাদের বলেছেন, আর তিনি সালাত (নামায/নামাজ) শব্দের উল্লেখ করেছেন, জুম্মা শব্দের উল্লেখ করেন নি। আর বিশর ইবনু সাবিত (রহঃ) বলেন, আমাদের কাসে আবূ খালদা (রহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জুম্মার ইমাম আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। তারপর তিনি আনাস (রাঃ) কে বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) কিভাবে আদায় করতেন?

হাদীস নং-৮৬১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবায়া ইবনু রিফা’আ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) যাওয়ার সময় আবূ আবস (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যার দু’পা আল্লাহর পথে ধূলি ধূসরিত হয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।

হাদীস নং-৮৬২। আদম ও আবূল ইয়ামান (রহঃ) – আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন সালাত (নামায/নামাজ) শুরু হয়, তখন দৌড়িয়ে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) যোগদান করবে না, বরং হেঁটে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) যোগদান করবে। সালাত (নামায/নামাজ) ধীরস্থিরভাবে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কাজেই জামা’তের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) যতটুকু পাও আদায় কর, আর যা ফাওত হয়ে গেছে, পরে তা পুরো করে নাও।

হাদীস নং-৮৬৩। আমর ইবনু আলী (রহঃ) – আবূ কাতাদা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়াবে না। তোমাদের জন্য ধীর-স্থির থাকা অপরিহার্য।

হাদীস নং-৮৬৪। আবদান ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জুম্মার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর (মসজিদে) যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমান সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুম্মা এবং পরবর্তী জুম্মার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

হাদীস নং-৮৬৫। মুহাম্মদ ইবনু সাল্লাম (রহঃ) -ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেন কেউ তার ভাইকে তার বসার জায়গা থেকে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সে জায়গায় না বসে। ইবনু জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি নাফি’ (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি শুধু জুম্মার ব্যাপারে? তিনি বললেন, জুম্মা ও অন্যান্য (সালাত (নামায/নামাজ)-এর) ব্যাপারেও (এ নির্দেশ প্রযোজ্য)।

হাদীস নং-৮৬৬। আদম তিনি বলেন, (রহঃ) সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-এর সময় জুম্মার দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেওয়া হত। পরে যখন উসমান (রাঃ) খলীফা হলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি ‘যাওরা’ থেকে তৃতীয়১ আযান বৃদ্ধি করেন। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, ‘যাওরা’ হল মদিনার অদূরে বাজারের একটি স্থান। [ ১। এর আগে কেবল খুতবার আযান ও ইকামাত প্রচলন ছিল। এখন থেকে তৃতীয় অর্থাৎ সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বর্তমানে প্রচলিত আযানের রেওয়াজ হয়। ]

হাদীস নং-৮৬৭। আবূ না’আইম (রহঃ) সায়িদ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মদিনার অধিবাসীদের সংখ্যা যখন বৃদ্ধি পেল, তখন জুম্মার দিন তৃতীয় আযান যিনি বৃদ্ধি করলেন, তিনি হলেন, উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় (জুম্মার জন্য) একজন ব্যতীত মুয়াযযযিন ছিল না এবং জুম্মার দিন আযান দেওয়া হত যখন ইমাম বসতেন অর্থাৎ মিম্বরের উপর খুতবার পূর্বে।

হাদীস নং-৮৬৮। ইবনু মুকাতিল (রহঃ) – মু’আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মিম্বরে বসা অবস্থায় মুয়াযযিন আযান দিলেন। মুয়াযযিন বললেন, “আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর” মু’আবিয়া (রাঃ) বললেন, “আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর। ” মুয়াযযিন বললেন, “আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তিনি বললেন এবং আমিও (বলছি “আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু”)। মুয়াযযিন বললেন, “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ” তিনি বললেন, এবং আমিও (বলছি—)। যখন (মুয়াযযিন) আযান শেষ করলেন, তখন মু’আবিয়া (রাঃ) বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার থেকে যে বাক্যগুলো শুনেছ, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুয়াযযিনের আযানের সময় এ মজলিসে বাক্যগুলো বলতে আমি শুনেছি।

হাদীস নং-৮৬৯। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, উসমান (রাঃ) জুম্মার দিন দ্বিতীয় আযানের নির্দেশ দেন। ইতিপূর্বে জুম্মার দিন ইমাম যখন (মিম্বরের উপর) বসতেন , তখন আযান দেওয়া হত।

হাদীস নং-৮৭০। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) -সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-এর যুগে জুম্মার দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেওয়া হত। এরপর যখন উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় এল এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন উসমান (রাঃ) জুম্মার দিন তৃতীয় আযানের নির্দেশ দেন। ‘যাওরা’ নামক স্থান থেকে এ আযান দেওয়া হয়, পরে এ আযান অব্যাহত থাকে।

হাদীস নং-৮৭১। কুতাইবা ইবনু সায়ীদ (রহঃ) – আবূ হাযিম ইবনু দ্বীনার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একদিন) কিছু লোক সাহল ইবনু সা’দ সাঈদীর নিকট আগমন করে এবং মিম্বরটি কোন কাঠের তৈরী ছিল, এ নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল। তারা এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করল। এতে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সম্যকরূপে অবগত আছি যে, তা কিসের ছিল। প্রথম যে দিন তা স্থাপন করা হয় এবং প্রথম যে দিন এর উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেন তা আমি দেখেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের অমুক মহিলার (বর্ণনাকারী বলেন, সাহল (রাঃ) তার নামও উল্লেখ করেছিলেন) নিকট লোক পাঠিয়ে বলেছিলেন, তোমার কাঠমিস্ত্রি গোলামকে আমার জন্য কিছু কাঠ দিয়ে এমন জিনিস তৈরী করার নির্দেশ দাও, যার উপর বসে আমি লোকদের সাথে কথা বলতে পারি। এরপর সে মহিলা তাকে আদেশ করেন এবং সে (মদিনা থেকে নয় মাইল দূরবর্তী)গাবা নামক স্থানের ঝাউ কাঠ দিয়ে তা তৈরী করে নিয়ে আসে। মহিলাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তা পাঠিয়েছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদেশে এখানেই তা স্থাপন করা হয়। এরপর আমি দেখেছি, এর উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। এর উপর উঠে তাকবীর দিয়েছেন এবং এখানে (দাঁড়িয়ে) রুকু করেছেন। এরপর পিছনের দিকে নেমে এসে মিম্বরের গোড়ায় সিজদা করেছেন এবং (এ সিজদা) পুনরায় করেছেন, এরপর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে সমবেত লোকদের দিকে ফিরে বলেছেনঃ হে লোকসকল! আমি এতা এ জন্য করেছি যে, তোমরা যেন আমার ইকতিদা করতে এবং আমার সালাত (নামায/নামাজ) শিখে নিতে পার।

হাদীস নং-৮৭২। সায়ীদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মসজিদে নব্বীতে) এমন একটি (খেজুর গাছের) খুঁটি ছিল যার সাথে হেলান দিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন। এরপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর স্থাপন করা হল, আমরা তখন খুঁটি থেকে দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর মত ক্রন্দন করার শব্দ শুনতে পেলাম। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে এসে খুঁটির উপর হাত রাখলেন।

হাদীস নং-৮৭৩।আদম ইবনু ইয়াস (রহঃ) – আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মিম্বরের উপর থেকে খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যে ব্যাক্তি জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) আসে সে যেন গোসল করে নেয়।

হাদীস নং-৮৭৪। উবাঈদুল্লাহ ইবনু উমর কাওয়ারিরী (রহঃ) – আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর বসতেন এবং পুনরায় দাঁড়াতেন। যেমন তোমরা এখন করে থাক।

হাদীস নং-৮৭৫। মু’আয ইবনু ফাযালা (রহঃ) আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মিম্বরের উপর বসলেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসলাম।

হাদীস নং-৮৭৬। মুহাম্মদ ইবনু মা’মার (রহঃ) আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু মাল বা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী উপস্থিত করা হল তিনি তা বন্টন করে দিলেন। বন্টনের সময় কিছু লোককে দিলেন এবং কিছু লোককে বাদ দিলেন। তারপর তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছলো যে, যাদের তিনি দেননি, তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, তারপর বললেনঃ আমমা বা’দ। আল্লাহর শপথ! আমি কোন লোককে দেই আর কোন লোককে দেই না। যাকে আমি দেই না, সে যাকে আমি দেই, তার চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয়। তবে আমি এমন লোকদের দেই যাদের অন্তরে অধৈর্য ও মালের প্রতি লিপ্সা দেখতে পাই ; আর কিছু লোককে আল্লাহ যাদের অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যান রেখেছেন, তাদের সে অবস্থার উপর ন্যাস্ত করি। তাদের মধ্যে আমর ইবনু তাগলিব একজন। বর্ণনাকারী আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ বাণীর পরিবর্তে আমি লাল উটও১ পছন্দ করি না। [১। তৎকালীন আরবের সবচাইতে মূল্যবান সম্পদ। ]

হাদীস নং-৮৭৭। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) – আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, সকালে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করলেন। ফলে (দ্বিতীয় রাতে) এর চাইতে অধিক সংখ্যক সাহাবী একত্রিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। পরের দিন সকালেও তাঁরা এ সম্পর্কে আলোচনা। ফলে তৃতীয় রাতে মসজিদে লোকসংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসুল্লীগণের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। অবশেষে তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বের হলেন এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে লোকদের দিকে ফিরলেন। তারপর আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করেন। এরপর বললেনঃ আমমা বা’দ (তারপর বক্তব্য এই যে) এখানে তোমাদের উপস্থিতি আমার কাছে গোপন ছিল না, কিন্তু আমার আশংকা ছিল, তা তোমাদের জন্য ফরয করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা আদায় করতে অসমর্থ হয়ে পড়।

হাদীস নং-৮৭৮। আবূল ইয়ামান (রহঃ) – আবূ হুমাইদ সায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক সন্ধ্যায় সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং তৌহীদের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করলেন। আর যথাযথভাবে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন, “আমমা বা’দ”।

হাদীস নং-৮৭৯। আবূল ইয়ামান (রহঃ) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। এরপর আমি তাঁকে তৌহীদের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করার পর বলতে শুনলাম, “আমমা বা’দ”।

হাদীস নং-৮৮০। ইসমায়ীল ইবনু আবান (রহঃ) – ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর আরোহণ করলেন। এ ছিল তাঁর জীবনের শেষ মজলিস। তিনি বসেছিলেন, তাঁর দু’ কাঁধের উপর বড় চাঁদর জড়ানো ছিল এবং মাথায় বাঁধা ছিল কালো পট্টি। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, এরপর বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার নিকট আস। লোকজন তাঁর নিকট একত্র হলেন। এরপর তিনি বললেনঃ “আমমা বা’দ”। শুনে রাখো, এ আনসার গোত্র সংখ্যায় কমতে থাকবে এবং অন্য লোকেরা সংখ্যায় বাড়তে থাকবে। কাজেই যে ব্যাক্তি . মুহাম্মদ -এর উম্মাতের কোন বিষয়ের কর্তৃত্ব লাভ করবে এবং সে এর সাহায্যে কারো ক্ষতি বা উপকার করার সুযোগ পাবে, সে যেন এই আনসারদের সৎ লোকদের ভাল কাজগুলো গ্রহণ করে এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেয়।

হাদীস নং-৮৮১। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) – আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ খুতবা দিতেন আর দু’ খুতবার মাঝে বসতেন।

হাদীস নং-৮৮২। আদম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুম্মার দিন মসজিদের দরজায় ফিরিশতাগণ অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমণকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। এরপর যে আসে সে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। তারপর আগমণকারী ব্যাক্তি মুরগী দানকারীর ন্যায়। এরপর আগমণকারী ব্যাক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফিরিশতাগণ তাঁদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহ খুতবা শুনতে থাকেন।

হাদীস নং-৮৮৩। আবূ নু’মান (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কোন এক) জুম্মার দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমনি সময় এক ব্যাক্তি আগমণ করল। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে অমুক! তুমি কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও।

হাদীস নং-৮৮৪। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক জুম্মার দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যাক্তি প্রবেশ করল। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ কি? সে বলল, না, তিনি বললেনঃ উঠ, দু’ রাকা’আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও।

হাদীস নং-৮৮৫। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক জুম্মার দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (পানির অভাবে) ঘোড়া মরে যাচ্ছে, ছাগল বকরীও মরে যাচ্ছে। কাজেই আপনি দু’আ করুন, যেন আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। তখন তিনি দু’হাত প্রসারিত করলেন এবং দু’আ করলেন।

হাদীস নং-৮৮৬। ইবরাহীম ইবনু মুনযীর (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় এক জুম্মার দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দু’আ করুন। তিনি দু’হাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখিনি। যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ (করে বলছি)! (দু’আ শেষে) তিনি দু’হাত (এখনও) নামান নি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খন্ড উঠে আসল। তারপর তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করেন নাই , এমন সময় দেখতে পেলাম তাঁর পবিত্র দাঁড়ির উপর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হল। এর পরে ক্রমাগত দু’দিন এবং পরবর্তী জুম্মা পর্যন্ত প্রত্যেক দিন। (পরবর্তী জুম্মার দিন) সে বেদুইন অথবা অন্য কেউ উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ী ঘর ধ্বসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন। তখন তিনি দু’হাত তুললেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও), আমাদের উপর নয়। (দু’আর সময়) তিনি মেঘের এক একটি খন্ডের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, আর সেখান-কার মেঘ কেতে যাচ্ছিল। এর ফলে চতুর্দিকে মেঘ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের ন্যায় মদিনার আকশ মেঘমুক্ত হয়ে গেল এবং কানাত উপত্যকার পানি এক মাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদিনার) চতুরপাশের যে কোন অঞ্চল হতে যে কেউ এসেছে, সে এ মুষলধারে বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।

হাদীস নং-৮৮৭। ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুম্মার দিন যখন তোমার পাশের মুসুল্লীকে বলবে চুপ থাক, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তা হলে তুমি একটি অনর্থক কথা বললে।

হাদীস নং-৮৮৮। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়িয়ে আল্লাহ্‌র নিকট কিছু চায়, তা হলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।

হাদীস নং-৮৮৯। মু’আবিয়া ইবনু আমর (রহঃ) – জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে (জুম্মার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম। এমন সময় খাদ্য দ্রব্য বহনকারী একটি উটের কাফিলা হাযির হল এবং তারা (মুসল্লীগণ) সে দিকে এত বেশী মনোযোগী হলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাত্র বারোজন মুসল্লী অবশিষ্ট ছিলেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “ “ এবং যখন তারা ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখতে পেল, তখন সে দিকে দ্রুত চলে গেল এবং আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে গেল”। (সূরা জুম্মা)

হাদীস নং-৮৯০। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ)— আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে দু’ রাকায়াত ও পরে দু’ রাকায়াত, মাগরিবের পর নিজের ঘরে দু’ রাকায়াত এবং ইশার পর দু’ রাকায়াত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। আর জুম্মার দিন নিজের ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন না। (ঘরে গিয়ে) দু’ রাকায়াত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

হাদীস নং-৮৯১। সায়ীদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বসবাসকারিণী জনৈকা মহিলা একটি ছোট নহরের পাশে ক্ষেতে বীটের চাষ করতেন। জুম্মার দিনে সে বীটের মূল তুলে এনে রান্নার জন্য ডেগে চড়াতেন এবং এর উপর এক মুঠো যবের আটা দিয়ে রান্না করতেন। তখন এ বীট মূলই এর গোশত (গোশতের বিকল্প) হয়ে যেত। আমরা জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিতাম। তিনি তখন খাদ্য আমাদের সামনে পেশ করতেন এবং আমরা তা খেতাম। আমরা সে খাদ্যের আশায় জুম্মা বারে উদগ্রীব থাকতাম।

হাদীস নং-৮৯২। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ)— সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণিত, তিনি আরো বলেছেন, জুম্মার (সালাত (নামায/নামাজ)-এর) পরই আমরা কায়লূলা (দুপুরের শয়ন ও হালকা নিদ্রা) এবং দুপুরের আহার্য গ্রহণ করতাম।

হাদীস নং-৮৯৩। মুহাম্মদ ইবনু উকবা শায়বানী (রহঃ)— হুমাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ আমরা জুম্মার দিন সকালে যেতাম তারপর (সালাত (নামায/নামাজ) শেষে) কায়লূলা করতাম।

হাদীস নং-৮৯৪। সায়ীদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে জুম্মার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম। তারপর হতো কায়লূলা।

 

পোস্টটি শেয়ার করুণ

সর্বশেষ আপডেট: মে ৩rd, ২০১৬ সময়: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, আপডেট করেছেন মুনজুরুল আলম (এডমিন)


লেখক পরিচিতিঃ- মুনজুরুল আলম (এডমিন)

আসসালামু আলাইকুম। আমি মুনজুরুল আলম। বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আমি ছোট বেলা থেকে লেখলেখি করায় মজা পাই। আমি মনে করি জানার কোন শেষ নেই। আমি সবার কাছ থেকে শিখতে পছন্দ করি। আর আমার শেখা তখনই স্বার্থক হবে যখন তা অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারব।আর আমি চাই সবাইকে আমার ওয়েবসাইটে মেধা বিকাশের সুগোয দিতে। তাই আপনিও পারেন আমাদের ওয়েব সাইটের একজন লেখক হতে। তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.