সহীহ বুখারী,২য় খন্ড, অধ্যায়-১৪, বিষয়ঃ-বিতরের সালাত ।


পোস্ট করা হয়েছে:- মে ৪ ২০১৬| পোস্টটি করেছেন:- |পোস্টটি পড়া হয়েছে:- 248বার
পোস্টটি শেয়ার করুণ

image of bukhari sharifহাদীস নং-৯৩৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট রাতের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দু’দু’(রাকা’য়াত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশংকা করে, সে যেন এক রাকা’য়াত মিলিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বিতর সালাত (নামায/নামাজ)-এর এক ও দু’ রাকা’য়াতের মাঝে সালাম ফিরাতেন। এরপর কাউকে কোন প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দিতেন।

হাদীস নং-৯৩৮। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন তার খালা উম্মুল মু’মিনীন মাইমুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবার সেটির দৈঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ দূর করেন। পরে তিনি সূরা আল ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গেলন এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। এরপর তিনি সালাত (নামায/নামাজ) দাড়ালেন। আমিও তার মতই করলাম এবং তার পাশেই দাড়ালাম। তিনি তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। এরপর তিনি দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর দু’রাকাত, এরপর দু’রাকাত, এরপর দু’রাকাত, এরপর দু’রাকাত, এরপর তিনি বিতর আদায় করলেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াজ্জ্বীন তার কাছে এলো। তখন তিনি দাড়িয়ে দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

হাদীস নং-৯৩৯। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইমান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাতের সালাত (নামায/নামাজ) দু’দু’রাকাত করে। তারপর যখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করতে চাইবে, তখন এক রাকা’য়াত আদায় করে নিবে। তা তোমার পূর্ববতী সালাত (নামায/নামাজ)কে বিতর করে দিবে। কসিম (রহঃ) বলেন, আমরা সবালক হয়ে লোকদের তিন রাকা’আত বিতর আদায় করতে দেখেছি। উভয় নিয়মেই অবকাশ রয়েছে। আমি আশা করি এর কোনটই দোষনীয় নয়।

হাদীস নং-৯৪০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। এ ছিল তার রাত্রিকালীন সালাত (নামায/নামাজ)। এতে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তার মাথা উঠাবার আগে তোমাদের কেউ ৫০ আয়াত পড়তে পারে এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর আগে তিনি আরো দু’রাকাত পড়তেন। ‍তারপর ডান কাত হয়ে শুয়ে বিশ্রাম করতেন, সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য মুয়াজ্জ্বীনের আসা পর্যন্ত।

হাদীস নং-৯৪১। আবূ নুমান (রহঃ) ‍আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) খেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ) কে বললাম, ফজরের পূর্বের দু’রাকাতে আমি কিরায়াত দীর্ঘ করব কি না, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’দু’রাকাত করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন এবং এক রাকাতে মিলিয়ে বিতর পড়তেন। এরপর ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর পূর্বে তিনি দু’রাকাত এমন সময় আদায় করতেন যেন একামতের শব্দ তার কানে আসছে। রাবী হাম্মদ (রহঃ) বলেন, অর্থ্যাৎ দ্রুততার সাথে। (সংক্ষিপ্ত কিরআতে)

হাদীস নং-৯৪২। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরীরর সময় তিনি বিতর আদায় করতেন।

হাদীস নং-৯৪৩। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, তখন আমি তার বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। এরপর তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমিও বিতর আদায় করে নিতাম।

হাদীস নং-৯৪৪। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত (নামায/নামাজ) করবে।

হাদীস নং-৯৪৫। ইসমায়ীল (রহঃ) সায়ীদ ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর সঙ্গে মক্কার পথে সফর করছিলাম। সায়ীদ (রহঃ) বলেন, আমি যখন ফজর হওয়ার আশংকা করলাম, তখন সাওয়ারী থেকে নেমে পড়লাম এবং বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। এরপর তার সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু ‍উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, ভোর হওয়ার আশংকা করে নেমে বিতর আদায় করেছি। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে কি তোমার জন্য ‍উত্তম আর্দশ নেই? আমি বললাম, হ্যা, আল্লাহর কসম! তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠের পিঠে (আরোহী অবস্থায়) বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।

হাদীস নং-৯৪৬। মূসা ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ফরজ সালাত (নামায/নামাজ) ব্যতীত তার সাওয়ারীতে থেকেই ইশারায় রাতের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। সাওয়ারী যে দিকেই ফিরুক না কেন, আর তিনি বাহনের উপরেই বিতর আদায় করতেন।

হাদীস নং-৯৪৭। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, হ্যা। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল তিনি কি রুকূর আগে কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, কিছুদিন রুকূর পরে পড়েছেন।

হাদীস নং-৯৪৮। ‍মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞারা করলাম। তিনি বললেন, কুনূত অবশ্যই পড়া হত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম। রুকূ’র আগে না পরে? তিনি বললেন, রূকূর আগে। আসিম (রহঃ) বললেন, অমুক ব্যাক্তি আমাকে আপনার বরাত দিয়ে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন, রূকুর পরে। তখন আনাস (রাঃ) বলেন, সে ভুল বলেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূর পরে এক মাস ব্যাপি কুনূত পাঠ করেছেন। আমার জানামতে, তিনি সত্তর জন সাহাবীর একটি দল, যাদের ‍কুররা(অভিজ্ঞ কারীগণ) বলা হতো মুশরিকদের কোন এক কউমের উদ্দেশ্যে পাঠান। এরা সেই কওম নয়, যাদের বিরুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ দুআ করেছিলেন। বরং তিনি এক মাস ব্যাপি কুনূতে সে সব কাফিরদের জন্য বদ দুআ করেছিলেন যাদের সাথে তার চুক্তি ছিল এবং তারা চুক্তি ভঙ্গ করে কারীগণকে হত্যা করেছিল।

হাদীস নং-৯৪৯। আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মাস ব্যাপী রি’ল ও যাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূত দোয়া পাঠ করেছিলেন।

হাদীস নং-৯৫০। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাগরিব ও ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) কুনূত পাঠ করা হত।

 

পোস্টটি শেয়ার করুণ

সর্বশেষ আপডেট: মে ৪th, ২০১৬ সময়: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, আপডেট করেছেন মুনজুরুল আলম (এডমিন)


লেখক পরিচিতিঃ- মুনজুরুল আলম (এডমিন)

আসসালামু আলাইকুম। আমি মুনজুরুল আলম। বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আমি ছোট বেলা থেকে লেখলেখি করায় মজা পাই। আমি মনে করি জানার কোন শেষ নেই। আমি সবার কাছ থেকে শিখতে পছন্দ করি। আর আমার শেখা তখনই স্বার্থক হবে যখন তা অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারব।আর আমি চাই সবাইকে আমার ওয়েবসাইটে মেধা বিকাশের সুগোয দিতে। তাই আপনিও পারেন আমাদের ওয়েব সাইটের একজন লেখক হতে। তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.