সহীহ বুখারী,২য় খন্ড, অধ্যায়-১৭, বিষয়ঃ-কুরআন তেলাওয়াতে সিজদা ।


পোস্ট করা হয়েছে:- মে ৭ ২০১৬| পোস্টটি করেছেন:- |পোস্টটি পড়া হয়েছে:- 351বার
পোস্টটি শেয়ার করুণ

হাদীস নং-১০০৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সূরা আন্-নাজম তিলওয়াত করেন। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং একজন বৃদ্ধ লোক ছাড়া তাঁর সঙ্গে সবাই সিজদা করেন। বৃদ্ধ লোকটি এক মুঠো কংকর বা মাটি হাতে নিয়ে কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বলল, আমার জন্য এ যথেষ্ট। আমি পরবর্তী যামানায় দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।

হাদীস নং-১০০৭। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবার ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) {‏الم * تَنْزِيلُ‏}‏ السَّجْدَةَ وَ‏{‏هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ‏} সূরা দু’টি তিলাওয়াত করতেন।

হাদীস নং-১০০৮। সুলায়মান ইবনু হারব ও আবূন্-নু’মান (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন সূরা সোয়াদ এর সিজদা অত্যাবশক সিজ্‌দা সমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সিজ্‌দা করতে দেখেছি।

হাদীস নং-১০০৯। হাফ্স ইবনু উমর (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আন্ নাজ্‌ম তিলাওয়াত করেন, এরপর সিজ্‌দা করেন। তখন উপস্থিত লোকদের এমন কেউ বাকী ছিল না, যে তাঁর সঙ্গে সিজদা করেনি। কিন্তু এক ব্যাক্তি এক মুঠো কংকার বা মাটি হাতে নিয়ে কপাল পর্যন্ত তুলে বলল, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। (আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন) পরে আমি এ ব্যাক্তিকে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।

হাদীস নং-১০১০। মূসাদ্দার (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ওয়ান্-নাজ্‌ম তিলাওয়াতের পর সিজ্‌দা করেন এবং তাঁর সঙ্গে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সিজ্‌দা করেছিল।

হাদীস নং-১০১১। সুলায়মান ইবনু দাউদ আবূ বারী’ (রহঃ) … যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরী ওয়ান্ নাজ্‌ম তিলাওয়াত করেন অথচ এত সিজ্‌দা করেননি।

হাদীস নং-১০১২। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – এর সামনে সূরা ওয়ান্ নাজম তিলাওয়াত করলাম। তিনি কিন্তু সিজদা করেননি।

হাদীস নং-১০১৩। মুসলিম ও মু’আয ইবনু ফাযালা (রহঃ) আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে দেখলাম তিনি – সুরা তেলাওয়াত করলেন এবং সিজদা করলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম হে আবূ হুরায়রা! আমি কি আপনাকে সিজদা করতে দেখিনি? তিনি বললেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিজদা করতে না দেখলে সিজদা করতাম না।

হাদীস নং-১০১৪। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরা তিলাওয়াত করলেন, যাতে সিজ্‌দার আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সিজ্‌দা করলেন এবং আমরাও সিজ্‌দা করলমা। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না।

হাদীস নং-১০১৫। বিশর ইবনু আদম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজ্‌দার আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আমরা তাঁর নিকট থাকতাম, তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজ্‌দা করতাম। এতে এত ভীড় হতো যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সিজ্‌দা করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না।

হাদীস নং-১০১৬। ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি এক জুমু্’আর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে সূরা নাহল তিলাওয়াত করেন। এতে যখন সিজ্‌দার আয়াত এল, তখন তিনি মিম্বর থেকে নেমে সিজ্‌দা করলেন এবং লোকেরাও সিজ্‌দা করল। এভাবে যখন পরবর্তী জুমু’আ এল, তখন তিনি সে সূরা পাঠ করেন। এতে যখন সিজ্‌দার আয়াত এল, তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমরা যখন সিজ্‌দার আয়াত তিলাওয়াত করি, তখন যে সিজ্‌দা করবে সে ঠিকই করবে, যে সিজ্‌দা করবে না তার কোন গুনাহ নেই। তার বর্ণনায় (বর্ণনাকারী বলেন) আর উমর (রাঃ) সিজ্‌দা করেন নি। নাফি’ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে আরো বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সিজ্‌দা ফরয করেন নি, তবে আমরা ইচ্ছা করলে সিজ্‌দা করতে পারি।

হাদীস নং-১০১৭। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবূ রাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার আবূ হুরায়রা (রাঃ)- এর সাথে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছিলাম, এ কী? তিনি বললেন, এ সূরা তিলাওয়াতের সময় আবূল কাসিম এর পিছনে আমি এ সিজ্দা করেছিলাম। তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এ ভাবে আমি সিজ্‌দা করতে থাকব।

হাদীস নং-১০১৮। সাদাকা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এমন সূরা তিলাওয়াত করতেন যাতে সিজ্‌দা রয়েছে, তখন তিনি সিজ্‌দা করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজদা করতাম। এমন কি (ভীড়ের কারণে) আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পেত না।

পোস্টটি শেয়ার করুণ

সর্বশেষ আপডেট: মে ৭th, ২০১৬ সময়: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, আপডেট করেছেন মুনজুরুল আলম (এডমিন)


লেখক পরিচিতিঃ- মুনজুরুল আলম (এডমিন)

আসসালামু আলাইকুম। আমি মুনজুরুল আলম। বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। আমি ছোট বেলা থেকে লেখলেখি করায় মজা পাই। আমি মনে করি জানার কোন শেষ নেই। আমি সবার কাছ থেকে শিখতে পছন্দ করি। আর আমার শেখা তখনই স্বার্থক হবে যখন তা অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারব।আর আমি চাই সবাইকে আমার ওয়েবসাইটে মেধা বিকাশের সুগোয দিতে। তাই আপনিও পারেন আমাদের ওয়েব সাইটের একজন লেখক হতে। তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.